ট্রাম্প নীরব থাকলেও বর্ণবাদ নিয়ে সরব মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যের সঙ্গে তর্কে জড়ান এক আন্দোলনকারী। ফাইল ছবি।
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২০ | ২৩:২৫ | আপডেট: ১৩ জুন ২০২০ | ০১:১৪
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র বর্ণবাদের বিষ ছড়িয়ে আছে। তবে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ চলছে দেশটিজুড়ে, তাতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্ণবাদ ইস্যুতে চুপ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা সৈনিকদের সঙ্গে এ নিয়ে খোলাখুলি আলাপও করছেন। সিএনএন অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত রোববার চার তারকা জেনারেল রবার্ট আব্রামস বর্ণবাদ ইস্যুতে কৃষ্ণাঙ্গ সেনা সদস্যদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা করেন। তার সে আলোচনা পরবর্তীতে ফেসবুকেও প্রচারিত হয় এবং তাতে ব্যাপক সাড়া মেলে। জেনারেল রবার্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের কমান্ডার।
জেনারেল রবার্টের সঙ্গে যে কৃষ্ণাঙ্গ সেনা সদস্যরা আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন তারা সবাই ছিলেন সাদা পোশাকে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে মনে করেন অনেকে। তারা মনে করেন, আলোচনাটি শুধু সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না জেনারেল রবার্ট।
শ্বেতাঙ্গ জেনারেল রবার্ট বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বাহিনীর মধ্যে বর্ণবাদ সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ সপ্তাহে মনে হলো, নিজ বাহিনীর মধ্যে বর্ণবাদ ও ধর্মান্ধতা দূর করার ক্ষেত্রে আমি অনেক পিছিয়ে পড়েছি।’ বর্ণবাদকে এবার আর বেশি দূর বাড়তে দেওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি।
পুলিশি হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু ও তুমুল বিক্ষোভের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অনেক কর্মকর্তাই বর্ণবাদ সমস্যার সমাধানে তৎপরতা শুরু করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো নির্দেশনার অপেক্ষা এখন আর তারা করছেন না। জেনারেল রাবার্টের ঘটনা সে ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ মাত্র।
সেনাবাহিনীর মধ্যে বর্ণবাদ ইস্যুতে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের কোনো ইঙ্গিত নেই। সব র্যাঙ্কের সেনা সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন এবং কমান্ডাররা তাদের কথা শুনছেন। তারা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে চিন্তা করতে শুরু করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ দাবি করেন প্রায়ই। কিন্তু বর্ণবাদ নিরসনের ইস্যুতে কমান্ডার-ইন-চিফের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছেন সেনা সদস্যরা।
একজন জেনারেল সিএনএনকে বলেন, কয়েকদিন আগে এক তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ সেনা সদস্য তাকে বলছিলেন, ‘পেন্টাগনের করিডরে চলাফেরার সময় মনে হয়, কেউই যেন আমাকে দেখছে না।’
সব মিলিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে ঘটে যাওয়া বর্ণবাদের নানা বেদনাদায়ক ঘটনার উন্মোচন হচ্ছে। কারণ এখন বাহিনীর সব র্যাঙ্কের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উন্মুক্তভাবে কথা বলতে পারছেন, কয়েকদিন আগেও যা কল্পনা করা যেত না।
সেনাবাহিনীর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য সার্জেন্ট মেজর মাইকেল এ গ্রিন্সটোন সম্প্রতি টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ মা-বাবার সন্তান হওয়ায় তাকে কতটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিমান বাহিনীর প্রধান হয়েছেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ জেনারেল। কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে এতদূর পর্যন্ত উঠে আসায় তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছেন। তবে জেনারেল চার্লস ব্রাউন মনে করেন, ইতিহাস হয়তো পাল্টাতে শুরু করেছে।
শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মার্ক মিলির জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়াটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দুই সপ্তাহ আগে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের শক্তি প্রয়োগ করে সরিয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের পাশের একটি গির্জায় গিয়েছিলেন জেনারেল মার্ক। তিনি বলেছেন, ওই পরিস্থিতিতে তার সেখানে যাওয়া ভুল হয়েছে।