বেইজিংয়ে ফের করোনা আতংক, লকডাউন
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২০ | ০১:০৪
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ফের করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একটি বাজার থেকে নতুন করে করোনার সংক্রমণ ঘটায় বুধবার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বেইজিংয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লকডাউন দিয়ে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞাসহ রাজধানীর লাখ লাখ মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশংকায় সব স্কুল-কলেজ ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেইজিং বিমানবন্দরে বাতিল করা হয়েছে ১২০০ ফ্লাইট। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
বেইজিং হেলথ কমিশন জানিয়েছে, বুধবার চব্বিশ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৩১ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এ নিয়ে গত সাতদিনে শহরটিতে ১৩৭ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়লো। অথচ এর আগের দীর্ঘ ৫৭ দিন বেইজিংয়ে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি। বেইজিংয়ের জিনফাদি হোলসেল খাবারের বাজার থেকে নতুন করে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বাজার থেকে রাজধানীর ৮০ ভাগ সবজি ও মাছ-মাংসের চাহিদার জোগান আসে।
বেইজিংয়ে নতুন রোগী শনাক্তের ঘটনাকে চীনে করোনার দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নগরীর অন্তত ৩০টি এলাকায় লকডাউন জারি করা হয়েছে। এলাকাগুলোকে মাঝারি ও উচ্চ ঝুঁকির চিহ্নিত করে এলাকার জনসাধারণের ওপর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহের মধ্যে বেইজিংয়ে আসা ও শহরটি থেকে যাওয়া লোকদের বিভিন্ন প্রদেশে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। দিনকয়েক আগেই খোলা বেইজিংয়ে সব স্কুল আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত বেইজিং থেকে ও বেইজিং পর্যন্ত প্রায় ৭০টি রুটের ১২৫৫টি নির্ধারিত বিমানের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
নগরীর পরিস্থিতি ‘খুবই ভয়াবহ’ বলে জানিয়েছেন বেইজিং সিটির মুখপাত্র জু হেজিয়ান। দ্বিতীয়ধাপের সংক্রমণ ‘গুচ্ছ এলাকাভিত্তিক’ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংক্রমণ বেশি এমন ৩০টি আবাসিক এলাকায় আরোপ করা হয়েছে লকডাউন।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। অল্প সময়েই তা বিশ্বজুড়ে মহামারি রূপ ধারণ করে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল যখন পর্যুদস্ত, তখন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বেশ সাফল্যের পরিচয় দেয় চীন। দেশটিতে সবকিছু যখন স্বাভাবিক অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ফের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় উদ্বিগ্ন বেইজিং। চীনে এ পর্যন্ত ৮৩ হাজার ২৬৫ জন আক্রান্ত এবং ৪ হাজার ৬৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৭৮ হাজার মানুষ।
- বিষয় :
- করোনাভাইরাস
- করোনার সংক্রমণ
- লকডাউন