ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধে নতুন আতঙ্ক জান্তাবাহিনীর প্যারাগ্লাইডার

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধে নতুন আতঙ্ক জান্তাবাহিনীর প্যারাগ্লাইডার
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:১৯

মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সাগাইং অঞ্চলের চ্যাং উ শহরতলি। প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে এক উৎসবে গত সোমবার রাতে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশ মানুষ। ‘থাডিংজুত’ নামে ওই অনুষ্ঠানটি একই সঙ্গে হয়ে উঠেছিল দেশটির সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশও। কারণ সরকারি ছুটির দিনের ওই আয়োজনে জান্তার নীতির বিরুদ্ধে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিও ছিল।

হঠাৎ সেখানে জান্তা বাহিনীর পাঠানো মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হলে অন্তত ২৬ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে এই হামলায় এত হতাহতের ঘটনায় মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার।  

ওই সমাবেশে থাকা ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রথমে আমি ভেবেছিলাম আমার শরীরের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোনোমতে আমি কাছাকাছি একটি নালায় গিয়ে লুকাই। বন্ধুরা আমাকে টেনে না তোলা পর্যন্ত আমি সেখানেই ছিলাম। এটি গণহত্যা; আর জান্তা বাহিনী প্রকাশ্যেই এটি করেছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ড্রোনের যুগে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রযুক্তির মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার যে মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে জান্তা বাহিনীর বিদ্রোহীদের ওপর নৃশংস বিমান অভিযানের একটি স্থায়ী অংশ হয়ে উঠেছে, সোমবারের হামলা তার স্পস্ট ইঙ্গিত। সশস্ত্র বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এই বছর যে অসংখ্য বিমান হামলা চালিয়েছে, এটি তার মধ্যে একটি।

প্যারাগ্লাইডার বা প্যারামোটরের বিভিন্ন ভিন্নতা থাকলেও সাধারণত সবচেয়ে প্রচলিত ধরনে দেখা যায় একজন চালক একটি মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিটি প্যারামোটর গড়ে প্রায় ১৬০ কেজি ওজন বহন করতে পারে। অর্থাৎ এটি একজন প্যারাসুট পরিহিত সেনাকে এবং সেই সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছোট বোমাও বহন করতে পারে স্বাচ্ছন্দ্যে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্যারাগ্লাইডারগুলো সাধারণত ১২০ মিলিমিটার বোমা বহন করে, যার প্রতিটির ওজন প্রায় ১৬ কেজি পর্যন্ত। 

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট কাঠামো এবং কম উচ্চতায় ওড়ার ক্ষমতার কারণে প্যারামোটর বিমানের চেয়ে লক্ষ্যের অনেক কাছাকাছি যেতে পারে। ফলে চালকরা সহজেই হাত দিয়ে তাদের লক্ষ্যের ওপর বোমা নিক্ষেপ করতে পারে। প্রচলিত বিমান চালনার জন্য বছরের পর বছর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। কিন্তু প্যারাসুট ব্যবহারকারী সেনাদের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্যারামোটর ওড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। অনেক দেশেই এ ধরনের প্যারাসুট সেনাদের প্রশিক্ষণের জন্য একাধিক বিমান ঘাঁটি এবং প্রশিক্ষণ স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। 

তবে প্যারামোটরের কিছু দর্বলতাও রয়েছে। কম উচ্চতায় ওড়ার কারণে এটি সহজে দৃষ্টিগোচর হয়। ফলে মাটি থেকে ছোড়া গুলিতে এগুলো সহজেই আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। তাই প্যারামোটর সাধারণত রাতের বেলা ব্যবহার করা হয়। মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও তাই রাতেই ওই হামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×