বিজ্ঞান
মঙ্গলে এই প্রথম বিদ্যুতের ঝলক
চিত্রশিল্পীর চোখে মঙ্গল গ্রহে বিদ্যুৎ চমকানোর দৃশ্য সায়েন্স অ্যালার্ট
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৮:২২ | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
লাল গ্রহ মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল যে পৃথিবীর মতো নয়, তার অনেক প্রমাণ বিজ্ঞানীদের কাছে আছে। সেখানে আকাশে সাদা তুলার মতো মেঘ ওড়ে না, ঝরে না বৃষ্টি বা বিদ্যুৎ চমকায় না। এতদিন এমন ধারণাই ছিল গবেষকদের। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পারসিভারেন্স রোভারের দাবি, মঙ্গলে সক্রিয় বিদ্যুৎ চার্জ রয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন। রোভারটিই এ বৈদ্যুতিক ঝলক শনাক্ত করেছে। এক বিজ্ঞানী আরেকটু এগিয়ে এটাকে ‘ছোট আকারের বজ্রপাত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মঙ্গলের পৃষ্ঠে ‘ডাস্ট ডেভিল’ নামে পরিচিত ঝড় বা ঘূর্ণির বিচরণ অনেকটা নিয়মিত ঘটনা। এবার গবেষকরা বলছেন, তারা মনে করেন, ঘূর্ণির সঙ্গে যোগসূত্র আছে বিদ্যুতের। তারা বলছেন, ২০২১ সাল থেকে মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধের জেজেরো ক্রেটার নামের এক অঞ্চলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ছয় চাকার রোভারটি। এতে থাকা ‘সুপারক্যাম’ নামের বিশেষ সেন্সর এ বৈদ্যুতিক ঝলক শনাক্ত করেছে। যন্ত্রটি মূলত অডিও বা শব্দ ও তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ রেকর্ডের সময় এ বিদ্যুতের অস্তিত্ব টের পায়।
মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল আমাদের পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি পাতলা। এর মধ্যে বিদ্যুতের ঝলক নিয়ে গবেষকরা রীতিমতো বিস্মিত। তারা প্রথমবারের মতো এ ধরনের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করলেন।
এ গবেষণার প্রধান ও ফ্রান্সের ‘ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অ্যান্ড প্ল্যানেটোলজি’র গ্রহ বিজ্ঞানী ব্যাপটিস্ট চিদে বলেন, ‘আমাদের জন্য বিদ্যুতের এসব ক্ষুদ্র ঝলক বড় এক আবিষ্কার, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন, জলবায়ু ও সেখানে জীবন থাকার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যতে রোবট বা মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।’
তিনি বলেন, মঙ্গলের এসব বৈদ্যুতিক ঝলক সম্ভবত গ্রহটির ধুলার গতি বা ধুলা পরিবহনে প্রভাব ফেলতে পারে। মঙ্গলের জলবায়ুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব ধুলা। তবে এ নিয়ে আমাদের হাতে তথ্য অত্যন্ত কম। এ ছাড়া এসব বৈদ্যুতিক ঝলক বর্তমানে মঙ্গলে থাকা রোবটটির যন্ত্রপাতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মানুষ যদি মঙ্গল অনুসন্ধানে যায়, তাদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষকরা রোভারের মাইক্রোফোনে নেওয়া ২৮ ঘণ্টার অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন। ধূলিঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় রোভারটি এগুলো সংগ্রহ করেছিল। বিশ্লেষণে তারা ৫৫টি বৈদ্যুতিক ঝলক শনাক্ত করেন। মেরিল্যান্ডের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স ল্যাবরেটরির গ্রহ বিজ্ঞানী এবং এ গবেষণার সহলেখক রালফ লরেঞ্জ বলেন, ‘প্রচলিত অর্থে বজ্রপাত বলতে যা বোঝানো হয়, আমরা সেটি দেখিনি। এটি ছিল খুব ছোট আকারের আলোর ঝলকানি বা স্ফুলিঙ্গ, যেটি সম্ভবত কয়েক মিলিমিটার লম্বা, যা আসলে বজ্রপাত নয়। শব্দটি স্পার্ক বা হুইপ-ক্র্যাকের মতো শোনাচ্ছিল।’
সৌরি পরিবারের অন্য দু্ই সদস্য– বৃহস্পতি ও শনিতে এরই মধ্যে বিদ্যুতের ঝলক দেখা দিয়েছে। মঙ্গলেও এমনটা হতে পারে বলে অনেক দিন ধরে সন্দেহ করা হচ্ছিল।
নাসার পারসিভারেন্স রোভারটি ২০২০ সালের ৩০ জুলাই মঙ্গলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মঙ্গলের পৃষ্ঠে অবতরণ করে ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি তথ্য পাঠাতে শুরু করে। সূত্র: এপি।
- বিষয় :
- বিজ্ঞানী
