ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জলবায়ু

বদলে যাচ্ছে পাখির স্বভাব

বদলে যাচ্ছে পাখির স্বভাব
×

ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় জলাভূমিতে দেখা যায় ‘ওয়ারব্লার’ পাখি বার্ড স্টাডি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাখিদের ওড়া দেখে আকাশের নীলে ভেসে বেড়ানোর স্বপ্ন না দেখা মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ যেন প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি। ভোরে পাখির কূজন কিংবা গোধূলিতে আবির ছড়ানো আকাশের কোলে ভেসে ঝাঁক বেঁধে নীড়ে ফেরার দৃশ্য কার না ভালো লাগে!

বিস্ময়কর হলেও সত্য, জলবায়ু পরিবর্তন পাখির জীবনেও প্রভাব ফেলছে। তাদের স্বভাব ও বংশবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে। স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া ইউনিভার্সিটির ইউপিভি গান্ডিয়া ক্যাম্পাসের একদল গবেষক উদ্বেগের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী প্রভাষক পাও লুসিওর নেতৃত্বে এ গবেষণা চালানো হয়। গবেষকরা ছোট আকৃতির কাছাকাছি প্রজাতির দুই ধরনের গানের পাখির ওপর গবেষণা চালান। ‘ওয়ারব্লার’ নামে পরিচিত এসব পাখি সচরাচর ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় জলাভূমিতে দেখা যায়।

এসব পাখির মধ্যে ‘মুস্ট্যাচড ওয়ারব্লার’ স্পেনের কাছাকাছি অঞ্চলে থাকে। ক্রমেই এগুলোর সংখ্যা কমছে। ২০২১ সালে স্পেনে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা পাখিদের তালিকায় এদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। অপরটি হলো– ‘কমন রিড ওয়ারব্লার’। এরা অনেকদূর পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শীত এলে এরা আফ্রিকায় চলে যায়। 

স্পেনের জলাভূমিতে ২৫ বছর ধরে পাখিদের পায়ে রিং পরানোর মাধ্যমে একটি বিস্তৃত ডেটাবেজ তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে দেখা গেছে, কীভাবে বিভিন্ন জলবায়ুগত ও ভৌগোলিক উপাদান পাখিদের উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করছে। এ থেকে এক বছরে জন্ম নেওয়া শাবকের সংখ্যা ও প্রাপ্তবয়স্ক পাখির সংখ্যা বিষয়ে জানা গেছে। পাউ লুসিও বলেন, ‘আমরা ১৯৯৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে স্পেনে প্রজননকারী পাখি প্রজাতি পর্যবেক্ষণের জন্য বৈজ্ঞানিক রিং পরানোর কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করেছি।’

এ গবেষণার ফলে একটি বিস্ময়কর বিষয়ে জানা গেছে– মুস্ট্যাচড ওয়ারব্লারের প্রজনন ক্ষমতায় বৃষ্টিপাত একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। আশ্চর্যজনকভাবে ভালো জিনিসের অতিমাত্রাও ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে; ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত পাখি প্রজাতির প্রজননকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। উচ্চ তাপমাত্রাও এ পাখির জন্য অনুকূল ছিল না। তবে পরিযায়ী কমন রিড ওয়ারব্লারের ক্ষেত্রে চিত্রটি ছিল বিপরীত। উচ্চ তাপমাত্রা এর প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর বৃষ্টিপাত প্রায় ১০০ মিলিমিটার না হলে তেমন কোনো পার্থক্য তৈরি করে না।

গবেষণার ক্ষেত্রে পাখিদের কেবল রিং পরানোই হয়নি, তাদের বাসা ও অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ইউপিভি গান্ডিয়া ক্যাম্পাসের ইন্টিগ্রেটেড কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইজিআইসি) ভার্জিনিয়া গারোফানো বলেন, ‘বেশি তাপমাত্রা ও ঘন ঘন ভারী বৃষ্টিপাত স্পেনের গোঁফওয়ালা ওয়ারব্লারের সংরক্ষণকে বিঘ্নিত করতে পারে। কারণ, এ দুটি উপাদানই এর বংশবৃদ্ধির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।’ এর বিপরীতে উচ্চ তাপমাত্রা কমন রিড ওয়ারব্লারের জন্য উপকারী হতে পারে। তবু এই বিষয়কেও উল্টে দিতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন। এটি শুধু প্রজননকেই নয়, বরং বেঁচে থাকার হারকেও প্রভাবিত করে।

গবেষণাটিতে স্থানিক (স্থান, দ্রাঘিমাংশ, অক্ষাংশ ও উচ্চতা) এবং কালিক পরিবর্তন (বছর) ব্যবহার করে পাখির উৎপাদনশীলতার ওপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ুগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে জলবায়ু-সংবেদনশীল সময়কাল চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণার সহলেখক রাফায়েল মুনোজ-মাস পাখির জনসংখ্যার প্রবণতা মডেলিংয়ে এ অগ্রগতি সম্ভবকারী প্রযুক্তিগত সাফল্যের ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পাখির সংখ্যার প্রবণতার পরিবেশগত মডেলিংয়ে এই অগ্রগতি জটিল ডেটা মডেলিং কৌশল ব্যবহারের ফলেই সম্ভব হয়েছে। 
সূত্র: বার্ড স্টাডি।

আরও পড়ুন

×