ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের সতর্কতা

তীব্র তাপে হুমকির মুখে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থা

তীব্র তাপে হুমকির মুখে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থা
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৮

তাপপ্রবাহ বিশ্বের খাদ্য ব্যবস্থার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠছে। কৃষক মাঠে কাজ করতে পারছেন না, গরমে কাহিল হয়ে পড়ছে গবাদি পশু, কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটির বেশি মানুষের জীবিকা ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহ যত তীব্র হচ্ছে, কিছু অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ততই তীব্র সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি ইতোমধ্যে উদ্বেগজনক। ভারতের বড় অংশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় বছরের প্রায় ২৫০ দিন, অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সময় কৃষকদের পক্ষে বাইরে কাজ করা অনিরাপদ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গবাদি পশুর ওপর তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আগে থেকেই। অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে মাত্র ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই তাপজনিত চাপ শুরু হয়। গরম বাড়লে দুধের উৎপাদন কমে, কমে দুধের চর্বি ও প্রোটিনের পরিমাণও। শূকর ও মুরগি ঘামতে পারে না বলে তাপমাত্রা বাড়লে তাদের হজমতন্ত্র বিপর্যস্ত হয়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে, এমনকি হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ফসলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে অধিকাংশ ফসলের উৎপাদন কমতে শুরু করে। কিছু এলাকায় ভুট্টার উৎপাদন ইতোমধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। গমেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সমুদ্রও এই ভয়াবহ উত্তাপ থেকে মুক্ত নয়। সেখানে তাপপ্রবাহের কারণে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমছে। ফলে মরছে মাছ, কমছে মৎস্যসম্পদ। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আশার কথাও আছে। আগেভাগে তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের সময়মতো সতর্ক করা যায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ব সম্পদ ইনস্টিটিউটের কৃষি উদ্যোগ বিভাগের পরিচালক রিচার্ড ওয়েট বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে এখনই খাপ খাওয়ানো শুরু করতে হবে। কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে সঠিক সরঞ্জাম, জ্ঞান আর সময়মতো সতর্কবার্তা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

আরও পড়ুন

×