ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাজায় গণহত্যা

যুদ্ধবিরতির আড়ালে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ জোরদার

যুদ্ধবিরতির আড়ালে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ জোরদার
×

ফাইল ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩:১৯

গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও ফিলিস্তিনের মাটিতে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং এই যুদ্ধবিরতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অধিকৃত পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমে নিয়ন্ত্রণ ও আগ্রাসন আরও কঠোর করছে ইসরায়েলি বাহিনী। আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীরা। 

আলজাজিরার খবর অনুসারে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় দেখা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শাসিত এলাকাগুলোয় আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। গাজার বেসামরিক এলাকাগুলোয় তাদের অভিযান যেমন বেড়েছে, তেমনি পূর্ব জেরুজালেমের কেন্দ্রস্থলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর দমনপীড়ন জোরদার করা হয়েছে। মূলত যুদ্ধবিরতিকে শান্তির পথ হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধের কৌশলী বিরতি দিয়ে দখলদারিত্ব পাকাপোক্ত করার কাজে ব্যবহার করছে ইসরায়েল। 

গাজার জিকিম ক্রসিং দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রবেশ সামান্য বাড়লেও তা ধ্বংসপ্রাপ্ত উপত্যকার বিশাল চাহিদার তুলনায় নগণ্য। রাজনৈতিকভাবেও ইসরায়েলের ভেতরে কট্টরপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গত শনিবার গাজার একাংশ এবং পশ্চিম তীরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৬ সালের পর গাজায় এই প্রথম ভোট হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তা নিয়ে কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা গাজাবাসীর কাছে ভোটাধিকারের চেয়ে এখন বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজার দেইর আল-বালাহে ভোটারের উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ।
 
অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তারা ফিলিস্তিনিদের স্কুল, বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে অগ্নিসংযোগ করছে। এমনকি দাতা দেশগুলোর অর্থায়নে নির্মিত স্কুলও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চেকপয়েন্ট ও সামরিক বাধা বর্তমানে গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। পূর্ব জেরুজালেমেও উচ্ছেদ অভিযান তীব্রতর হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের পৈতৃক ভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। 

পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার
মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)। সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল গাজায় পানি সরবরাহকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যারই একটি অংশ। 

গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো ইসরায়েলি হামলায় সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী আটকে দিয়ে গাজাবাসীকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, পানি ছাড়া জীবন অসম্ভব জেনেও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে এই সংকট তৈরি করে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামগ্রিক শাস্তি আরোপ করছে।

জর্ডানে চিকিৎসার জন্য গাজার শিশুরা 
এই যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার শিশুদের সহায়তায় জর্ডান সরকার একটি মানবিক করিডোর চালু রেখেছে। গতকাল মঙ্গলবার আহত ও অসুস্থ ৮১ ফিলিস্তিনি শিশুর একটি দল চিকিৎসার জন্য জর্ডানে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে পরিবারের আরও ১০৮ জন সদস্য রয়েছেন। জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যকার সমঝোতার ভিত্তিতে এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় দুই হাজার শিশুকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সাত শতাধিক শিশু এই সুবিধার আওতায় জর্ডানের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ওই শিশুদের বেশির ভাগই ক্যান্সার বা যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষত নিয়ে সেখানে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন

×