জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমলে রাশিয়ার কী লাভ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। ছবি: এএফপি
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৩:৫৪ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১৯:১৬
জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা কমানোর ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দুই ধরনের বক্তব্য আসছে। এটিকে একদিকে ইউরোপের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে সামরিক জোট ন্যাটোতে ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে রাশিয়া। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে জো বাইডেন প্রশাসন জার্মানিতে দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একটি মার্কিন ব্যাটালিয়ন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সে প্রক্রিয়া বাতিল করেছে। এটি বার্লিনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জার্মানি এই পদক্ষেপের জন্য অনেকদিন ধরে তদবির করেছে।
অর্থ্যাৎ, ওয়াশিংটনের সেনা কমানোর সিদ্ধান্তটি ইউরোপে মস্কোর অন্যতম হুমকিকে (বার্লিন) দুর্বল করে দিতে পারে। তবে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস, এই সুযোগ কাজে লাগানোর পক্ষে। তিনি বলেছেন, এটি ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার একটি সুযোগ।
জার্মানি হলো ইউরোপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বৃহত্তম ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনব। এই সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।’ তবে এমন পদক্ষেপের বিরোধীতা করেছেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির দুজন শীর্ষ নেতা।
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার ও হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক রজার্স এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এসব সেনাকে ইউরোপ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। বরং তাদের আরও পূর্ব দিকে (ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে) স্থানান্তর করা উচিত।
ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আছে, পোল্যান্ড, বেলারুশ ও রাশিয়া। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোল্যান্ডের স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের (ন্যাটো) জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি; চলমান ভাঙন। বাইরের কোনো শত্রু নয়।
ডোনাল্ড ট্রাস্ক আরও বলেন, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের যা যা করা প্রয়োজন, সবই করতে হবে।’
ওয়াশিংটনের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাটি এসেছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। একদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ, অন্যদিকে শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করেছে। জার্মানির পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে জার্মানিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে প্রায় ৩৬ হাজার। এটি ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইতালিতে ১২ এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন আছে।
গত বছর ট্রাম্পের এক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন রোমানিয়া থেকে তাদের সেনাসংখ্যা কমিয়ে দেয়। ইউরোপ থেকে সরিয়ে মার্কিন সামরিক শক্তির মূল মনোযোগ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিয়ে যাওয়াটাই ছিল এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে ন্যাটো জোটের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ কাজ করছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য দেশগুলোর নেতাদের ধারণা, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো ৩২ সদস্যের ন্যাটোকে দুর্বল করে দিতে পারে।
মূলত জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা কমানোর ঘোষণাটি এসেছে; ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল হয়ে পড়া সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের পর। জার্মান চ্যান্সেলর সম্প্রতি বলেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপদস্থ’ হচ্ছে। বিপরীতে তেহরান নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের এমন মন্তব্যের পরই সেনা কমানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- বিষয় :
- সেনা প্রত্যাহার
- যুক্তরাষ্ট্র
- জার্মানি
- ন্যাটো
- রাশিয়া
