পশ্চিমবঙ্গ
তারকাদের কে জিতলেন, কে হারলেন
রূপা গাঙ্গুলি, রুদ্রনীল ঘোষ, সোহম চক্রবর্তী (উপরে বাঁ থকে), সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ১২:৫২ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ | ১২:৫৫
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিরাজ করে উত্তেজনা। রোববার রাত থেকেই ফলাফলের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে পুরো রাজ্য। গতকাল সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনার শুরুতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতের কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে ব্যবধান কম দেখা যায়। পরে এ ব্যবধান বাড়তে থাকে।
বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনে তারকা প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবার ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের জনপ্রিয় ব্যক্তিরা ভোটের লড়াইয়ে নামায় রাজনীতিতে নতুন জোয়ার আসে। ফলে ভোট গণনার প্রাথমিক ধাপে তাদের পারফরম্যান্স নিয়েও ছিল সবার আগ্রহ।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, সব তারকা প্রার্থী সমান সাফল্য পাননি। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আসনে তারকা প্রার্থীরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। উত্তর চব্বিশ পরগনার বরাহনগরে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সজল ঘোষের তুলনায় পিছিয়ে পড়েন। ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থী ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তীও বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে পিছিয়ে পড়েন। যদিও তিনি ২০২১ সালে এই আসনে জয় পেয়েছিলেন।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণে অভিনেত্রীদের লড়াইয়ে বিজেপির রূপা গাঙ্গুলি তৃণমূলের লাভলি মৈত্রের বিরুদ্ধে বিজয়ী হন। কলকাতার মানিকতলা আসনে তৃণমূলের শ্রেয়া পান্ডেও বিজেপির তাপস রায়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়েন। অন্যদিকে, করিমপুর আসনে তৃণমূলের সোহম চক্রবর্তী হেরে গেছেন।
রাজারহাট-গোপালপুরে লোকশিল্পী অদিতি মুন্সী বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির চেয়ে পিছিয়ে যান। হাওড়ার শিবপুরে বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে যান। এবার পিতৃভূমি থেকে ভোটে লড়েছেন এই অভিনেতা। ২০২১ সালে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন। দ্বিতীয়বারের লড়াইয়ে ঘরের ছেলেকে নিরাশ করল না শিবপুরের জনতা। তৃণমূল শিবিরের প্রতিদ্বন্দ্বী চিকিৎসক ও বালির বিদায়ী বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায়কে ঘরের মাঠে হারালেন ‘রুডি’। তবে শ্যামপুরে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পিছিয়ে পড়েছেন। টালিগঞ্জেও বিজেপির পাপিয়া অধিকারী তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাসের তুলনায় পিছিয়ে আছেন।
তামিলনাড়ুতে পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে থালাপতি বিজয়ের নতুন দল তামিলগা ভেটরি কাজাগম ভালো ফল করছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। থালাপতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুই আসনেই এগিয়ে আছেন এবং তাঁর দলও বহু আসনে লিড নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আসামে আবার অভিনেতা পৃথ্বীরাজ রাভা তেজপুর আসনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তারকা পরিচিতি সবসময় ভোটে সাফল্য এনে দেয় না, পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল সেটিই দেখাচ্ছে। তবে তামিলনাড়ুতে তারকা প্রভাব রাজনৈতিক চিত্র বদলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয়।
সব মিলিয়ে প্রাথমিক গণনায় স্পষ্ট, এবারের নির্বাচনে তারকা প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। কেউ এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফল নির্ভর করছে বাকি রাউন্ডের গণনার ওপর। ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত
‘বাংলার মসনদ’ কার দখলে যাচ্ছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছেই। তবে শেষ পর্যন্ত কারা জয়ী হন, সেদিকেই এখন নজর সবার। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
