লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ১২
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ২২:২৯
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামছেই না। গত বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ধারাবাহিক বিমান হামলায় আরও অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু, এক প্যারামেডিক ও এক উদ্ধারকর্মী রয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে লোকজনকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ জেলার তিনটি গ্রামে পৃথক হামলায় ১১ জন নিহত হন। এ ছাড়া মারজাইউন জেলায় আরেক হামলায় ইসলামিক হেলথ কমিটির এক উদ্ধারকর্মী নিহত ও আরেকজন আহত হন। আগের এক হামলায় একই সংগঠনের আরও দুই প্যারামেডিক আহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবারও দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলার টুরা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুজন নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। আহতদের টাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে একই এলাকায় দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়।
টাইর অঞ্চলের হানিয়া, কুলাইলা, দেইর আমেসসহ কয়েকটি গ্রামে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী এসব এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অনেক গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রধান হাদজা লাহবিব বলেছেন, বর্তমানে লেবাননের অর্ধেকের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বৈরুতে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, প্রায় ৩০ লাখ মানুষ এখন টিকে থাকার জন্য সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।
ইইউ জানিয়েছে, মার্চের শুরু থেকে তারা লেবাননে ১০ কোটি ইউরো সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে দেশটিতে দুই হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে সাম্প্রতিক হামলায় হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। পরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের হামলা থেকে কোনো সন্ত্রাসীই নিরাপদ নয়।’ খবর আলজাজিরার।
- বিষয় :
- যুদ্ধবিরতি
- লেবানন
- ইসরায়েল
