স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান ইউনাইট প্রধানের, সময়সীমা দিলেন এমপি
ইউনাইট প্রধান শ্যারন গ্রাহাম (বাঁ থেকে), ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও লেবার এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট। কোলাজ
দ্য টেলিগ্রাফ ও এএফপি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১৫:৩৮ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ১৫:৫৮
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির হারের পর নেতৃত্ব নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। রোববার স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন লেবার পার্টির সবচেয়ে বড় দাতা সংস্থা ‘ইউনাইট’ এর প্রধান শ্যারন গ্রাহাম। নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়ে সময়সীমা দিয়েছেন এক এমপিও।
বিবিসির এক অনুষ্ঠানে গ্রাহাম বলেন, সংস্থার বাকি সদস্য এবং তিনিও ব্যক্তিগতভাবে স্টারমারের পদত্যাগের পক্ষে। তারা ইতোমধ্যে লেবার পার্টির সঙ্গে ইউনাইট-এর সম্পৃক্ততা ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। কারণ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইউনাইট-এর কর্মীদের জন্য পার্টি কিছুই করছে না।
ইউনাইট হলো যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন। শ্যারন গ্রাহাম এর সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার একটি সুশৃঙ্খল হস্তান্তর চাই। স্টারমার যদি প্রকৃতপক্ষে দেশকে ভালোবাসেন, তবে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।’
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণত ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তার একটি পরীক্ষা হয়। খারাপ ফলাফলকে জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণ হিসেবে দেখিয়ে বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন। অনেক সময় নিজ দলের ভেতর থেকেও পদত্যাগের চাপ তৈরি হয়।
রোববার লেবার এমপি ও সাবেক জুনিয়র মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টও স্টারমারের বিষয়ে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, মন্ত্রীরা যদি কোনো পদক্ষেপ না নেন, তবে তিনি সোমবারের মধ্যে স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন।
নির্বাচনে লেবার পার্টির হারের পর শনিবার স্টারমার বলেছিলেন, তিনি এক দশক ধরে শাসন করতে চান। পাশাপাশি আরো বলেন, তিনি ভোটারদের কথা শুনবেন।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে। ইংল্যান্ডের স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনেও কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান হয়েছে। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা জন সুইনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনেও রিফর্ম ইউকে জিততে পারে। তাই স্কটল্যান্ডকে রক্ষা করতে তিনি পুনরায় স্বাধীনতার ওপর গণভোট আয়োজনে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
