ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত অভিযোগ

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আইন পাস ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আইন পাস ইসরায়েলের
×

ছবি : সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০২:০০

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় জড়িত অভিযোগে ফিলিস্তিনিদের প্রকাশ্য বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। তবে ইসরায়েলি মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এখানে কেবল লোক-দেখানো বিচার হতে পারে।

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে গত সোমবার ৯৩-০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পাস হওয়া এই বিলটিতে সরকারি ও বিরোধী দল ব্যাপক ঐক্য প্রদর্শন করেছে। তবে ভোটের সময় ২৭ জন সংসদ সদস্য অনুপস্থিত বা ভোটদানে বিরত ছিলেন।

বিলের অন্যতম সহস্পন্সর এবং বিরোধীদলীয় রাজনীতিক ইউলিয়া মালিনোভস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারগুলো হত্যা ও অপহরণকারীদের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বিচার দেখতে পাবে। এই আইনটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এমন এক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা সারাবিশ্ব দেখবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস যোদ্ধাদের হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে দখলদার দেশটি। এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

নতুন এই আইনটি ৭ অক্টোবরের হামলায় সরাসরি জড়িতদের, বিশেষ করে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের ‘নুখবা’ বাহিনীর সদস্যদের বিচারের জন্য একটি বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরি করবে। জেরুজালেমের একটি বিশেষ সামরিক আদালতে এই বিচার সম্পন্ন হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ শুনানিগুলো ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বর্তমানে দখলদার দেশটির কারাগারে এক হাজার ২৮৩ ফিলিস্তিনিকে ‘বেআইনি যোদ্ধা’ হিসেবে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, সামরিক আদালতে প্রমাণের সাধারণ নিয়মগুলো শিথিল করা হতে পারে। এটি আসামিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে। 

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও হামাস নেতাদের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞা
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সহিংসতা ছড়ানোর দায়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত হামাস নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দীর্ঘদিন ধরে হাঙ্গেরির ভেটোর কারণে এই প্রক্রিয়াটি আটকে থাকলেও দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সেই বাধা অপসারণ করেন। গত সোমবার ব্রাসেলসে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নিষেধাজ্ঞার এই প্যাকেজে তিন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং চারটি সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চরমপন্থি সহিংসতা ও জমি দখলের জন্য দায়ী। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সামাজিক মাধ্যমে বলেন, চরমপন্থা ও সহিংসতার পরিণাম ভোগ করতেই হবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েল এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার একে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। 

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব ও অসলো চুক্তি বাতিলের তোড়জোড়
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তণ্ডবলীলা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি তিন হাজার ফিলিস্তিনি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলার পর ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দম্ভভরে বলেন, আমরা ইসরায়েল রাষ্ট্র গড়ে তুলছি এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণা ধ্বংস করছি।

গত সপ্তাহে রামাল্লাহ, জেনিনসহ বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং বাড়িঘর ও গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টারি কমিটি ১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক ‘অসলো চুক্তি’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের একটি বিল সমর্থন করেছে। এই বিলটি পাস হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতেও ইসরায়েল সরাসরি বসতি স্থাপনের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

×