ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অবৈধ নির্মাণে জিরো টলারেন্স, শপথের দিনই কড়া পদক্ষেপ শুভেন্দুর

অবৈধ নির্মাণে জিরো টলারেন্স, শপথের দিনই কড়া পদক্ষেপ শুভেন্দুর
×

তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অবৈধ কারখানায় বুধবার সন্ধ্যায় বুলডোজার অভিযান চালায় প্রশাসন। ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া

শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ২২:২২

নির্বাচনের আগে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই অবস্থানের বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল কলকাতায়। তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অবৈধ কারখানায় বুধবার সন্ধ্যায় বুলডোজার অভিযান চালায় প্রশাসন।

মঙ্গলবার কলকাতার তিলজলার জি জে খান রোডের একটি পাঁচতলা চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রজত আলী মোল্লা ও মোহাম্মদ হাসানুর জামান নামে দুই শ্রমিক নিহত হন। আহত আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর তদন্তে নেমে প্রশাসন জানতে পারে, ভবনটি বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং সেখানে প্রয়োজনীয় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল না।

এরপরই কারখানার দুই মালিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তিলজলার ঘটনায় প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওই কারখানার কোনো বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল অপর্যাপ্ত।”

তিনি আরও জানান, কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর ও ইকবালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ অডিট শুরু করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ নকশা নেই, সেগুলোর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একদিনের মধ্যে তিলজলার অবৈধ কারখানাটি ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর কলকাতা পৌরসভা ও পুলিশের উপস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যায় ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। এর আগে ভবনটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

অভিযানস্থলে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “শহরের যেসব ভবন বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছে, তাদের এনওসির জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের সুযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, না থাকলে ভাঙা হবে। আজকের দুর্ঘটনায় মালিকের গাফিলতির কারণেই প্রাণহানি ঘটেছে।”

এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমিতে গড়ে ওঠা একটি তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ও ভেঙে দেয় রেল প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমি দখল করে ওই কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও হতো। 

আরও পড়ুন

×