বিবিসির বিশ্লেষণ
এক দশক পর আরও শক্তিশালী ও দৃঢ়চেতা চীনে ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গতবছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০১:১৬ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ০১:৫৪
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। বুধবার তিনি সেখানে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান ঝেং। ট্রাম্পের সফরকারী দলে ছিলেন ধনকুবের ইলন মাস্কও। আজ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন তিনি। এমন একসময় তিনি বেইজিং সফর করছেন, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আর ওই লড়াইয়ে তেহরানের অন্যতম মিত্র বেইজিং।
ট্রাম্পের এ সফর নিয়ে বুধবার বিবিসি একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, চীনের নেতা শি জিনপিং যখন তাঁর মার্কিন প্রতিপক্ষকে আপ্যায়ন করবেন, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৭ সালের শেষ সফরের কথা মনে পড়বে। তখন তাঁকে বিশেষভাবে আপ্যায়ন করা হয়, এমনকি ‘নিষিদ্ধ শহরের’ ভেতরে নৈশভোজেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা তাঁর আগে আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাননি।
এ সপ্তাহের অভ্যর্থনাও ঠিক ততটাই জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঝংনানহাইয়ের ভেতরে একটি সফরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি সেই দুর্লভ চত্বর, যেখানে চীনের শীর্ষ নেতারা বাস করেন। সেখান থেকে অনেক দাপ্তরিক কাজও করেন। আলোচ্যসূচিও ঠিক ততটাই জটিল হবে, যেখানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও তাইওয়ানের পাশাপাশি ইরানের প্রসঙ্গ থাকবে।
কিন্তু অনেক কিছুই বদলে গেছে। কারণ, ট্রাম্প আরও শক্তিশালী ও অনেক বেশি দৃঢ়চেতা এক চীনে ফিরেছেন। এখন অভূতপূর্ব তৃতীয় মেয়াদের অনেকটা পথ পেরিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী শি নবায়নযোগ্য শক্তি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে ‘নতুন উৎপাদনশীল শক্তি’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসন যদি গত দশকে বেইজিংয়ের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের এক ঝলক দেখতে চান, তবে তাদের রাজধানীর সেই জাঁকজমকপূর্ণ কেন্দ্রস্থলের বাইরেও তাকাতে হবে, যেখানে তারা তাদের বেশির ভাগ সময় কাটাবেন।
দূরবর্তী দুর্গম উত্তরে, সৌর ও বায়ুশক্তি এখন বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে আধিপত্য বিস্তার করছে। কর্মব্যস্ত দক্ষিণে, স্বয়ংক্রিয় কারখানা ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে নতুন রূপ দিচ্ছে এবং চংকিংয়ের মতো মেগাসিটিগুলো ইনফ্লুয়েন্সারদের ফিডের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় তহবিলের শত শত কোটি ডলার দক্ষিণ-পশ্চিমের গভীরে অবস্থিত এক রুক্ষ উৎপাদন কেন্দ্র চংকিংকে পরিবর্তনশীল চীনের এক শক্তিশালী প্রতীকে রূপান্তরিত করেছে, যা নতুন প্রযুক্তি, নতুন বাণিজ্য এবং ‘ট্রেন্ডি’ নামক একটি নতুন বিশেষণকে আলিঙ্গন করছে; বিশ্বকে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ একটি চেহারা দেখানোর চেষ্টা করছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি উপদেষ্টা আলি ওয়াইন বলেন, ২০১৭ সালে চীন প্রমাণ করার চেষ্টা করছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, চীনের প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূরাজনৈতিক সমকক্ষ– এ ধারণা দেওয়ার জন্য স্বাভাবিকভাবেই বিপুল পরিমাণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
আমার কাছে যা আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে তা হলো, এবার চীনাদের পক্ষ থেকে সেই দাবি করার কোনো প্রয়োজনই নেই।’ “ওয়াশিংটন এখন চীনকে একটি ‘প্রায়-সমকক্ষ’ হিসেবে স্বীকার করে” উল্লেখ করে আলি ওয়াইন বেইজিংকে ‘মার্কিন ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প সম্ভবত চীনের দেখা সবচেয়ে খামখেয়ালি বিদেশি নেতা। এখানে তাঁর একটি ডাকনামও আছে– চুয়ান জিয়ানগুও, যার অর্থ ‘জাতপাতের নির্মাতা ট্রাম্প’। অনলাইনে চীনের অনেকে বিশ্বাস করেন, তাঁর বিভাজনমূলক নীতি ও বাণিজ্যযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থানকে দুর্বল করে চীনের উত্থানে সাহায্য করেছে।
চংকিংয়ে ছুটি কাটাতে আসা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) পরিণতির কথা একেবারেই ভাবেন না। তাঁর জানা উচিত, আমরা একই পৃথিবীতে বাস করি। এটি একটি বিশ্বগ্রাম। তাঁর সব সময় যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়।’ চংকিংয়ের নিয়ন আলোয় সজ্জিত আকাশচুম্বী অট্টালিকার দৃশ্য দেখার জন্য সুবিধাজনক স্থানে ভিড় করা মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আগামী বহু দশকের জন্য চীন অগ্রসরমান কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
- বিষয় :
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট
