ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হরমুজ ঘিরে ইরানের জাহাজ জব্দ অভিযান চলছেই, উত্তেজনা

হরমুজ ঘিরে ইরানের জাহাজ জব্দ অভিযান চলছেই, উত্তেজনা
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৪:৩২

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ধারাবাহিক জাহাজ জব্দের ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর ঘিরে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আটক বা দখল করে ইরান আধিপত্য বজায় রেখেছে। বৃহস্পতিবার হরমুজের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি জাহাজ জব্দ করে ইরানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা এপি। এরই মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। 

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, চোরাচালান বা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সামরিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

আলজাজিরার তথ্যে জানা যায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ২২টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে এবং জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশ কমে যায়। এর আগে আইআরজিসির এক কর্মকর্তা জানান, ইরান এখন হরমুজ প্রণালিকে আরও বড় ‘অপারেশনাল জোন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। ৮ মে ইরান ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করার দাবি করে। এর আগে ২২ এপ্রিল ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করা দুটি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করে। একই দিনে আরও একটি জাহাজে গুলির ঘটনা ঘটে। এপ্রিলের শেষ দিকে হরমুজে টানা উত্তেজনায় জাহাজ চলাচল একেবারে কমে যায়। গত ২৪ এপ্রিল রয়টার্স জানিয়েছিল, ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করেছে হরমুজে। 

আমিরাতের উপকূলে জাহাজ জব্দ 
গতকাল আমিরাতের পূর্ব উপকূলে জব্দ করা জাহাজটি ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সেন্টার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের ৩৮ নটিক্যাল মাইল (৭০ কিলোমিটার) উত্তর-পূর্বে নোঙর করা অবস্থায় অননুমোদিত ব্যক্তিরা জাহাজটি নিয়ে গেছে। এই জব্দের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফরে রয়েছেন।   

হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেল চীনা জাহাজ
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নৌবাহিনী আগের রাত থেকে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে একদল চীনা জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান মূলত এই প্রণালি বন্ধ রেখেছে। এই জাহাজ চলাচল এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর করছেন।  

আমিরাতকে যুদ্ধের ‘সক্রিয় অংশীদার’ বলছে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গতকাল অভিযোগ করেছেন, মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে আমিরাত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ভারতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় টেলিগ্রামে পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘এই আগ্রাসনে আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’ আরাঘচির আরও অভিযোগ, যুদ্ধের সময় আমিরাতে নেতানিয়াহু ও দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়। তবে আবুধাবি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যুদ্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন মার্কিন সিনেটের 
গত বুধবার মার্কিন সিনেটররা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব অল্প ব্যবধানে প্রত্যাখ্যান করেছেন। হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চাওয়ার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটল। ভোটের ফলাফল ছিল ৫০-৪৯।
 
ইরাকেও বোমা হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব
ইরান যুদ্ধের সময় ইরাকে শিয়া মিলিশিয়াদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে কুয়েত থেকেও ইরাকের ভেতরে পাল্টা বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। ইরাকের তিন নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তা, একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত আরও দুজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য দিয়েছে রয়টার্স।

আরও পড়ুন

×