যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি
নতুন অচলাবস্থা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জাতীয় পতাকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:৩৩ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬ | ০৯:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার তিন মাস পর হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ নতুন অচলাবস্থা তৈরি করেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের কেউই নমনীয় হচ্ছে না। এতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে; সেই সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
এতে বলা হয়, নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগটি কোনো চুক্তি আসন্ন কিনা তা নিয়ে নয়, বরং ওয়াশিংটন বা তেহরানের কোনো ভুল হিসাব নতুন করে সংঘাত শুরুর আগে এ উত্তেজনা আর কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা যুক্তি দিচ্ছেন– চাপ বাড়লে তা তেহরানের দরকষাকষির ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করতে পারে।
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ‘এ তত্ত্বের (হামলা চালিয়ে দুর্বল ও আলোচনার টেবিলে আনা) একটি বড় সমস্যা হলো, আমরা ইতোমধ্যেই বারবার এর পরীক্ষা করেছি; কিন্তু ইরান আত্মসমর্পণ করেনি।’ একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
এ নিয়ে ইরানের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পারমাণবিক সক্ষমতা বা প্রণালির নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ছাড় দেওয়া কোনো নীতিগত হাতিয়ার নয়, বরং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকার আদর্শিক স্তম্ভ। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ব্যবধান বিশালই রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং তাদের মজুত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিক। ইরান চায় হামলা বন্ধ, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। এসব শর্ত ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে তিনি ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন এবং এখন দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অগ্রগতি পেতে যাচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ভায়েজ বলেন, ‘চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কষ্টদায়ক ছাড় দিতে কোনো পক্ষই আগ্রহ দেখায়নি। উভয় পক্ষই বিশ্বাস করে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। এ ধারণাই একটি চুক্তিকে অসম্ভব করে তুলছে।’
- বিষয় :
- যুদ্ধবিরতি
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ইরান যুদ্ধ
