অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও ২ সন্তানকে হত্যা বাংলাদেশির
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ০৮:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
অস্ট্রেলিয়ায় নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করার অভিযোগে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমের ক্যাম্পবেল টাউনে এ ঘটনা ঘটে। ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশকে ফোন করে ঘটনা জানান। পরে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার ও ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। সিডনিতে পারিবারিক সহিংসতা দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলার মধ্যেই এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটল।
গতকাল মঙ্গলবার দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানায়, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অধীনে তিনটি খুনের মামলা হয়েছে। ক্যাম্পবেল টাউন আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তবে এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির ছিলেন না। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর নামও প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানায়, ‘০০০’তে ফোন করে ওই ব্যক্তি হুমকি দেন, ‘আমি আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করব।’ পরে ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘরের ভেতর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তির ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী এবং ১২ ও ৫ বছর বয়সী দুই ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। শিশু দুটি ‘লার্নিং ডিফিকাল্টি’ বা অটিজমে (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন) আক্রান্ত ছিল বলে জানা গেছে।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার পার্থে গত জানুয়ারিতে একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। মাইওয়েনা গোয়াসডু ও জ্যারড ক্লুন দম্পতি তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে লিওন এবং ১৪ বছর বয়সী ছেলে ওটিসকে হত্যা করেন। তাদের সন্তান দুটিও অটিজমে আক্রান্ত ছিল। এ ঘটনায় সন্তানদের হত্যার পর দম্পতি আত্মহত্যা করেন। পুলিশের অভিযোগ, ক্যাম্পবেল টাউনের অভিযুক্ত ব্যক্তি পার্থের ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে আদালতের হাজতখানায় অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তবে তার কোনো মানসিক সমস্যা বা মাদক গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কিনা, সে বিষয়ে তার আইনজীবী কিছু জানাননি।
প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান ওই দম্পতি। স্বামী ঘরে থেকে দুই সন্তানের দেখভাল করতেন, কোনো চাকরি করতেন না। আর স্ত্রী বাইরে চাকরি করতেন।
ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মোরোনি সোমবার রাতে বলেন, এই পরিবারের পূর্ব অপরাধের কোনো অভিযোগ ছিল না। এমনকি সমাজকল্যাণ বা শিশু সুরক্ষা বিভাগের সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ঘটনার রাতে ওই বাড়িতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি। তবে ধারালো কিছু জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের কয়েক মিনিট পরই লোকটি পুলিশকে জানান, ২০২৪ সালে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর থেকে তিনি বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি রোগমুক্ত অবস্থায় আছেন।
- বিষয় :
- হত্যা
