মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া
সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থাশীল লেবানন
ছবি: মিডল ইস্ট আই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ০৩:০৪
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দেশটির এক সেনা কর্মকর্তাসহ ৯ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের পরও নিজেদের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। গতকাল শুক্রবার সংবাদমাধ্যম এএফপির খবরে জানানো হয় এ তথ্য।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা গত এক বছর ধরে হিজবুল্লাহকে সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে আসছিলেন। এই ৯ জনের মধ্যে লেবানন সেনাবাহিনীর কর্নেল সামির হামাদি এবং অন্য একটি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তা খাত্তার নাসের উদ্দিন রয়েছেন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের সদস্যদের আনুগত্য ও সততার বিষয়ে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে লেবাননের সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক প্রতিষ্ঠানের সব সদস্য পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে জাতীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই চলছে দখলদার বাহিনীর হামলা
এদিকে শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও ড্রোন হামলায় এক শিশু, ছয় উদ্ধারকর্মীসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে হানাওয়ে শহরে চালানো হামলায় হিজবুল্লাহ সমর্থিত ইসলামিক হেলথ কমিটির চার উদ্ধারকর্মী নিহত হন। প্রথমে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এরপর উদ্ধারকারীরা যখন আহতদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান, তখন সেই জায়গায় দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়।
এর কিছুক্ষণ পর দেইর কানুন আল নাহর গ্রামে দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয়। এতে এক সিরীয় শিশু এবং আমাল মুভমেন্টের রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের দুই উদ্ধারকর্মী নিহত হন।
যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত অর্থনীতি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে টানা হামলায় এ পর্যন্ত লেবাননে প্রায় তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পাশাপাশি নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। ২০১৯ সাল থেকেই ভূমধ্যসাগরীয় ছোট এই দেশটিতে চরম আর্থিক সংকট চলছে, যা স্থানীয় মুদ্রা ও ব্যাংকিং খাতকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে লেবাননের পাউন্ডের মান এরই মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি।
এপির খবর জানাচ্ছে, বিশেষ করে দেশটির কৃষি খাতে যুদ্ধের বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদেশিদের আগমন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটননির্ভর ব্যবসাগুলোও সংকটে পড়েছে।
লেবাননের অর্থনীতি ও বাণিজ্যমন্ত্রী আমের বিসাত সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সমান আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতি লেবাননের মোট জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশের সমান। নতুন এই ক্ষতি দীর্ঘদিন ধরে মন্দার মধ্যে থাকা দেশটির অর্থনীতিতে আরও বড় অভিঘাত সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
- বিষয় :
- লেবানন
- ইসরায়েল
- যুক্তরাষ্ট্র
