ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যুদ্ধবিরতি ও পরমাণু কর্মসূচি

সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, খসড়া চুক্তিতে সম্মত

সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, খসড়া চুক্তিতে সম্মত
×

তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী একটি বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন লোকজন। বিলবোর্ডটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হরমুজ প্রণালি চিত্রিত হয়েছে। ছবি-রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ | ০২:৩৯ | আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ | ০২:৫৩

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে নতুন একটি খসড়া চুক্তিতে পৌঁছেছে দুই দেশ। উভয় দেশের মধ্যস্থতাকারীরা এ নিয়ে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হবে। তবে এটি এখনও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন পায়নি। মার্কিন সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। 

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার খবরের মাঝেই এই চুক্তির কথা সামনে চলে আসলো। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলের একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে-অপরের বিরুদ্ধে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে। 

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি অনানুষ্ঠানিক খসড়া সমঝোতা স্মারকের (এমওই্উ) ১৪টি পয়েন্টের কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ইরানের ‘আশপাশ‌’ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেসামরিক যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ও এতে উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল সাধারণত এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস সংক্ষিপ্ত একটি বিবৃতিতে এই সমঝোতা স্মারকের খসড়াকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট‌’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

গত সপ্তাহের শেষদিকে উভয় পক্ষই একটি চুক্তির অগ্রগতির বিষয়ে ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দেন যে, উভয় পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে প্রতিবারই আলোচনার মাধ্যমে এই সংঘাত অবসানের আশা ভেস্তে গেছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। 

প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই, এমনকি গত বুধবারও ট্রাম্প এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘অপশন বি’ অর্থাৎ আবারও যুদ্ধ অভিযান শুরু করার বিকল্পটি টেবিলে রয়েছে। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মার্কিন মিত্রদের অনুরোধে তিনি তা থেকে বিরত থাকেন। বুধবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের প্রস্তাবটি ‘এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি’। আরও কাজ বাকি রয়েছে। ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তিতে তার চূড়ান্ত অনুমোদন কবে দেবেন, বা আদৌ দেবেন কিনা, তা-ও অনিশ্চিত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব করেছিলেন,  যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে নিতে পারে, অথবা ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে বর্তমান স্থানে বা তৃতীয় কোনো স্থানে এর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বৃহস্পতিবার প্রথম এই খসড়া চুক্তির কথা জানায়। তারা বলেছে, ট্রাম্পকে এই প্রস্তাবের বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছিল। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এটি অনুমোদন করেননি। বিবেচনার জন্য কয়েক দিন সময় নেবেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওসের এই প্রতিবেদনের সত্যতা মার্কিন সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে—যা বেশ বিরল। এটি ইঙ্গিত করে যে, দুই পক্ষ হয়তো দীর্ঘ ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অবাধ’ যাতায়াতের অনুমতি দিতে পারে। এছাড়া এই সংকীর্ণ নৌপথ থেকে মাইন অপসারণের জন্য ইরান ৩০ দিন সময় পাবে। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরানকে পুনরায় তেল বিক্রির অনুমতি দিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।

হোয়াইট হাউসে ব্রিফিংয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কোনো চুক্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের আগে কোনো মন্তব্য করা সবসময়ই একটি ভুল সিদ্ধান্ত। সব প্রক্রিয়াই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। 

‘ইরানের জন্য কোনো ‘পুনর্গঠন’ পরিকল্পনা এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অন্য পারের চিন্তা করার আগে আমাদের চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’

আরও পড়ুন

×