ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প 

ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চলছে, কমছে জীবিত উদ্ধারের আশা

সরকারি অব্যবস্থাপনার প্রতি ক্ষোভ

ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চলছে, কমছে জীবিত উদ্ধারের আশা
×

ফাইল ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৪:০৮

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের ঘটনায় ১০০ ঘণ্টা পর গত রোববারও উদ্ধার অব্যাহত রেখেছেন উদ্ধারকর্মীরা। ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে মাঝে মাঝে কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার হলেও নিখোঁজের তালিকা এখনও দীর্ঘ হওয়ায় উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। যেহেতু সেই সময় পার হয়েছে, তাই ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন মানুষকে জীবিত উদ্ধারের আশা ধীরে ধীরে কমে আসছে।

দেশটির সরকারি হিসাব মতে, এই ভয়াবহ দুর্যোগে গতকাল পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। দেশটিতে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিবিসির খবর জানায়, দেশটিতে অন্তত ৭৭৪টি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, এই দুর্যোগের ফলে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যাদের জরুরি ভিত্তিতে বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার প্রয়োজন।

১২ ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার বাবা ও ছেলে
গত শনি ও রোববার মিলিয়ে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর মধ্যে গতকাল উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায় ফ্রান্স ও আমেরিকার যৌথ উদ্ধারকারী দল চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এক বাবা ও তাঁর কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে। ১২ ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করে তাদের বের করে আনা হয়।

ভিন্ন এক ঘটনায় উদ্ধারকারীরা অ্যারন লেভি নামের এক তরুণকে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জীবিত শনাক্ত করেছেন। তবে বের করে আনা কঠিন হলেও পাইপের মাধ্যমে তাঁকে তরল খাবার সরবরাহ করা হয়।

সরকারি অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ উদ্ধারকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অনেক জায়গায় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে সাধারণ মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। উদ্ধার কাজের ধীরগতির কারণে কিছু এলাকায় দোকানপাট ও ফার্মেসিতে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

অর্থনৈতিক বিপর্যয়
এক দশকের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার আগেই শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলাকে এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এর মধ্যে দেশটির হাসপাতাল ও সেবা খাত আগে থেকেই বিপর্যস্ত ছিল, এই দুর্যোগ সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই মানবিক সংকটে সাড়া দিয়ে ২৪টি দেশ ভেনেজুয়েলায় ৫২১ টন ত্রাণ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর এবং ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে। দেশটির বিমান ও সমুদ্রবন্দর সচল করতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দল। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন

×