পৌরকর নিয়ে চসিক ও বন্দর মুখোমুখি অবস্থানে
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৩:৫৭
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তহবিলে জমা দিলেও এ অর্থের কারণ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠান মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে। চসিক এই অর্থকে তাদের ইতিহাসে একক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ গৃহকর আদায়ের মাইলফলক দাবি করেছে।
বিপরীতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কর নয়; উচ্চতর আপিলের শর্ত পূরণে জমা দেওয়া আইনি জামানত।
গতকাল সোমবার বিকেলে টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল্যায়ন অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ মাত্র ৪৫ কোটি টাকা পৌরকর দিত।’ দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ মূল্যায়নে আপত্তি তোলেন।
তাঁর দাবি, ‘বন্দরের ভারী যানবাহনের কারণে নগরের সড়কগুলো প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব সড়ক সংস্কারে চসিককে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হলেও এর জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয় না। কেবল আইন অনুযায়ী প্রাপ্য গৃহকর আদায় করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বন্দরের ১ কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট সম্পত্তির যৌথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে মোট ২৬৪ কোটি টাকার পৌরকর নির্ধারণ করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চসিকের নির্ধারিত ২৬৪ কোটি টাকার কর পুনর্মূল্যায়নে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা হবে। আইন অনুযায়ী আপিল গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে দাবি করা অর্থের ৭৫ শতাংশ জামানত হিসেবে জমা দিতে হয়। তবে বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত কর নির্ধারণ ও অর্থ সমন্বয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।’
চসিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের ফলে ১৯৮ কোটি টাকার প্রকৃত হিসাব এখন নির্ভর করছে বিভাগীয় কমিশনারের আপিল শুনানির সিদ্ধান্তের ওপর।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম বন্দর
- চসিক
