ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্কের নিষ্পত্তি আজ

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির বিতর্কের নিষ্পত্তি আজ
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৯ | ২১:৫৩ | আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৯ | ২২:৫০

ভারতের অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি বাবরি মসজিদের জমির মালিক কারা শনিবার সেই বিতর্কের নিষ্পত্তি করবে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ঘোষণা করা হয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবে। খবর বিবিসির

বিতর্কিত জমিটি নিয়ে নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার ঠিক ৭০ বছর পর রায় দিচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

কট্টরপন্থী হিন্দুদের দাবি-বাবরি মসজিদের জায়গাতেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল এবং রাম মন্দির ভেঙ মোগল আমলে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল।

১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙ ফেলার পর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল।

হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের নেতারা ঘোষণা করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় তারা মেনে নেবেন। কিন্তু তারপরও আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, সে জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অযোধ্যা শহরসহ উত্তরপ্রদেশ জুড়ে। রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজ কয়েকদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়া নজর রাখা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমেও যাতে কেউ গুজব ছড়াতে না পারে।

বিতর্কিত জমিটির চারদিকে লোহার বেড়া আছে। ২৪ ঘণ্টা সেটিকে ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকশ' সদস্য। আর এখন হাজার হাজার বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে অযোধ্যায়।

বাবরি মসজিদ আর রাম মন্দির নিয়ে বিতর্ক কয়েক শতাব্দী ধরে। এ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বারে বারে দাঙ্গা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার ভেতরের অংশটা মুসলিমদের আর বাইরে চত্ত্বরটা হিন্দুদের ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৯ সালে মসজিদের ভেতরে কে বা কারা রামের মূর্তি রেখে দেয়। মুসলিমরা তখনই প্রতিবাদ করেন এবং সরকার জমিটিকে বিতর্কিত ঘোষণা করে তালাবন্ধ করে দেয়।

এরপর জমির মালিকানা কার সেটা ঠিক করতে সেবছরই আদালতে প্রথম মামলা হয়। পরে ফৈজাবাদের জেলা আদালত ১৯৮৬ সালে তালা খুলে হিন্দুদের পূজার অনুমতি দেন। আর তখন থেকেই সেখানে আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে।

২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, বিতর্কিত জমিটি তিনভাগ হবে- দুভাগ পাবেন হিন্দুরা আর এক ভাগ পাবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। এই রায়ের বিরুদ্ধে সবপক্ষই সুপ্রিম কোর্টে যায় ২০১১ সালে।  সুপ্রিম কোর্ট আদালতের বাইরে সব পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ হওয়ায় মামলাটি বিশেষ বেঞ্চ শুনানি শুরু করে। একটানা ৪০ দিন শুনানি হওয়ার পরে রায় লেখার জন্য মাসখানেক সময় নেন সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ।

আরও পড়ুন

×