ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলেই হরমুজ খুলতে পারে ইরান

চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলেই হরমুজ খুলতে পারে ইরান
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:৪২

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়টি ‘খুব কাছাকাছি’ বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে নিলেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি বলেন, বর্তমানে আলোচনার মূল বিষয় একটি অস্থায়ী নৌপথ প্রতিষ্ঠা করা। পরে সেটিকে ভিত্তি করে স্থায়ী নৌপথ নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে দুই দেশের সামরিক ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরাঘচির দাবি, পাকিস্তানে আগে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পঞ্চম ধারা অনুযায়ী ইরান তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে আসছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরানের দাবি, দুই সপ্তাহের মধ্যেই নৌযান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থার ৬০ শতাংশে পৌঁছেছিল।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন নৌপথ চালুর চেষ্টা করছে। স্থায়ী নৌপথ নির্ধারণের আগে একটি অস্থায়ী নৌপথকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

মোহেবি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য শুধু একটি অর্থনৈতিক নৌপথ নয়, এটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির অংশ। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে নিতে হবে এবং আঞ্চলিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলেই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই নৌপথের নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হওয়া এবং দুই দেশের সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার।

আরও পড়ুন

×