নিজেকে উটের সঙ্গে তুলনা: বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?
ওপরে বাম থেকে ঘড়ির কাঁটার অভিমুখে: মার্গারেট থ্যাচার, ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদি, সানায়ে তাকাইচি, অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও এমানুয়েল মাখোঁ। ছবি: এএফপি/এপি
গালফ নিউজ
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০২ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:২২
একটি দেশ পরিচালনার কাজ নিশ্চিতভাবেই ৯-৫টার চাকরি নয়। গভীর রাতের দীর্ঘ আলোচনা, সাতসকালের ব্রিফিং, টাইমজোনের পরোয়া না করে আসা জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বৈঠক, ভাষণ ও সফরের দীর্ঘ তালিকা তো আছেই। এ অবস্থায় কোনো বিশ্বনেতা আসলে ঘুমানোর জন্য কতটা সময় পান?
বিশ্বনেতাদের ঘুমানোর এই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক স্বীকারোক্তির পর। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কিছু রাত গেছে, যখন একেবারেই ঘুম হয়নি।
গত মাসে এক সরকারি ছুটির দিন তাকাইচি এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেন, ‘অবশেষে টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছি।’ এটিকে বিরল হিসেবে উল্লেখ করে তাকাইচি জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতি রাতে তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের পরিমাণ শূন্য থেকে বড়জোর তিন ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে।
তাকাইচি এই তথ্য প্রকাশের পর জাপানের দীর্ঘদিনের এক উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে। দেশটিতে বাড়তি কর্মঘণ্টা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনা, কয়েক দশক ধরে জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কি সত্যিই রাজনৈতিক নেতাদের মনোবল ও নিষ্ঠার প্রমাণ? নাগরিকদের জীবনকে প্রভাবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানদের অপর্যাপ্ত ঘুম কি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে?
কোন দেশের সরকারপ্রধানরা কত ঘণ্টা ঘুমান, সে তথ্য তাদের সাক্ষাৎকার ও প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। এতে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কম ঘুমানো একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন।
২০১৭ সালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণত রাতে চার বা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানায়, ট্রাম্প মাঝরাত বা রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করতেন। আবার ভোর ৫টার দিকে জাগতেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দেশিত সময়ের চেয়ে অনেকটাই কম ঘুমান। ২০১৯ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের উপস্থাপনায় এক অনুষ্ঠানে মোদি জানান, তিনি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। তবে এই সময়ে তাঁর গভীর ঘুম হয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রাতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। এই তথ্যটি তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার শুরুর দিকে প্রকাশ করেছিল ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ওই সময়কার অন্য প্রতিবেদনগুলোতে মাখোঁর সম্পর্কে বলা হয়, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ এবং সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন।
সাবেক বিশ্বনেতাদের মধ্যে কয়েকজনের ঘুমের তথ্য জানা গেছে। ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, বারাক ওবামা সাধারণত ৫ ঘণ্টা ঘুমান। রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর তিনি আরও কয়েক ঘণ্টা একাকী কাজ করতেন। এ সময় তিনি ব্রিফিংয়ের কাগজপত্র পড়া, লেখা ও পরবর্তী দিনের প্রস্তুতি নিতেন।
ঘুমের বিষয়ে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের একটি উক্তি বেশ আলোচিত। স্বল্প ঘুমের কারণে তিনি নিজেকে উটের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কেল বলেছিলেন, ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি টানা কাজ করতেন। এরপর ঘুমাতেন। অর্থাৎ, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে ঘুমের যে ঘাটতি হতো তা তিনি পরে পুষিয়ে নিতেন।
দুই যুগের বেশি সময় আগে যখন স্মার্টফোনের আধিপত্য, ২৪ ঘণ্টার খবর এবং রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার প্রবণতা ছিল না, তখনও নিজেকে কম ঘুমানো মানুষের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৮৯ সালে ‘দ্য সান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে আজকাল ৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোটা আমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়।’