ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি বনাম ভিন্ন বাস্তবতা

ইরানি বন্দর অবরোধ করে রাখলেও প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে পারছে না ওয়াশিংটন

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি বনাম ভিন্ন বাস্তবতা
×

ছবি: আল-জাজিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৫১

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ ছয় মাস হতে চললেও বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি এখনও অবরুদ্ধ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। যদিও এই নৌপথটি কার দখলে– তা নিয়ে চলছে ট্রাম্প প্রশাসন ও তেহরানের বাগ্‌যুদ্ধ। 

সিএনএনের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী জলসীমাটি মাইনমুক্ত করেছে। তবে সামরিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। 

তারা বলছেন, প্রণালিটির প্রকৃত পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। কোনো পক্ষই একে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। জাহাজে হামলা, ড্রোন নজরদারি ও আকাশপথের হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এই নৌপথ ব্যবহারে ভরসা পাচ্ছে না। ফলে একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়ে আছে। 

যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করত। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা দিনে কয়েকটিতে নেমে এসেছে। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি বন্দরে অবরোধ জারি রাখলেও অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। 

যুক্তরাজ্যের নৌ নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালি ও এর আশপাশে ৫৪টি জাহাজে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্তত তিনটি জাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই অব্যাহত ঝুঁকিতে জাহাজগুলোর বীমা খরচ আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। 

আধিপত্যের লড়াইয়ে কে এগিয়ে? 
এই সরু নৌপথটি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরান এখানে কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের এই অবস্থানকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহু গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তেহরান মনে করছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প চুক্তি করতে বাধ্য হতে পারেন। 

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনী টানা অভিযানে ক্লান্ত। এ ছাড়া ট্রাম্প যদি মার্কিন সেনা সরিয়ে নেন, তবে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব হারাবে। 

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খারিজ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘ভুল সংবাদের চেয়েও বিপজ্জনক হলো ভুল গোয়েন্দা তথ্য। ওয়াশিংটন ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরানে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এবং হরমুজ নিয়ে আরও বড় ভুল হিসাব কষছে।’ 

দেশটির আধা সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হোসেইন তায়েব দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী ইরানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং হরমুজ সম্পূর্ণরূপে ইরানের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

ওয়াশিংটনের কৌশল
হরমুজ নিয়ে কৌশলগত অবস্থান বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের দাবির মুখে ট্রাম্প নতুন হামলার হুমকি না দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ওয়াশিংটন এখন বিষয়টি ‘লো-কি’ বা ধীরগতিতে মোকাবিলা করছে। তিনি মূলত ইরানের মূল্যস্ফীতি ও অর্থ সংকটের দিকে নজর রাখছেন। পাশাপাশি ধীরগতির আলোচনার মধ্য দিয়ে তেহরানকে নমনীয় করার কৌশল নিয়েছেন। 

চুক্তি পুনর্বহালে অগ্রগতি নেই
পারস্য উপসাগরে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে প্রচেষ্টা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তীব্র মতবিরোধে লিপ্ত হয়ে আছে বলে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হওয়া আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তিতে ফিরে আসা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।’ 

প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণে ইরাকের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী 
পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের উদ্দেশ্যে নিজ দেশের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড অপারেশন সেন্টার পরিদর্শনের সময় জাইদি জানান, ইরাকের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব অলঙ্ঘনীয়। যে কোনো পক্ষ থেকে দেশের নিরাপত্তা বা আকাশসীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। 

আরও পড়ুন

×