মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের জানালা ভেঙে বাইরে চলে যায় যাত্রীর মাথা-কাঁধ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:০৬
রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিন থেকে ছিটকে আসা ধাতব অংশ কেবিনের জানালা ভেঙে ফেলায় এক যাত্রীর মাথা ও ডান কাঁধ বিমানের বাইরে চলে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১০ জুলাই গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী রায়ানএয়ারের ফ্লাইটটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত যাত্রীর নাম লিউবিশা কারোভিচ। তিনি সার্বিয়ার নাগরিক।
এনটিএসবি জানিয়েছে, উড্ডয়নের সময় ডান পাশের ইঞ্জিনের একটি ফ্যান ব্লেড ভেঙে যায়। এর একটি অংশ ছিটকে এসে কেবিনের জানালায় আঘাত করলে পুরো জানালাটি খুলে যায়। তীব্র বায়ুচাপে কারোভিচের মাথা ও ডান কাঁধ জানালার বাইরে চলে যায়। তিনি গুরুতর আহত হন এবং প্রচণ্ড মানসিক আঘাতও পান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের সময় ককপিটে প্রথমে ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক কম্পনের সতর্কবার্তা আসে। পাইলট ইঞ্জিনের শক্তি কমিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চালান। কিছু সময় কম্পন থেমে গেলেও পরে তা আবার বেড়ে যায় এবং বিকট শব্দ শোনা যায়। তখনই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানটি থেসালোনিকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেন পাইলট।
বিমানকর্মীরা জানান, তারা ইঞ্জিনের তীব্র কম্পন অনুভব করেন এবং সামান্য ধোঁয়াও দেখতে পান। পরে অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে আসে। এ সময় কেবিনে থাকা এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট দেখতে পান, ক্ষতিগ্রস্ত জানালার ফাঁকে এক যাত্রী আংশিক আটকে আছেন। অন্য যাত্রীরা তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন।
দুর্ঘটনার পর কারোভিচের স্ত্রী স্ভেতলানা গ্রকোভিচ ম্যাকসিমোভিচ বিবিসি সার্বিয়াকে বলেন, তিনি ও আরও দুজন যাত্রী কয়েক মিনিট ধরে তার স্বামীর দুই পা শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন, যাতে তিনি পুরোপুরি বাইরে ছিটকে না যান।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে ইঞ্জিনটির আল্ট্রাসনিক পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।