কৃষ্ণসাগর অবরোধ রাশিয়ার, বিপাকে ইউক্রেনের কৃষক
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেন জেলেনস্কি
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:৩০
রাশিয়া ২০২২ সালে আক্রমণের শুরুতে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। এ কারণে নিজের জমির দুই-তৃতীয়াংশ হারিয়েছেন দেশটির কৃষক সেরহি রিবালকো। এবার তিনি পড়েছেন অন্য ধরনের বিপাকে। ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ। ফলে সেই ফসল নিয়েই অনিশ্চয়তায় রিবালকোর মতো হাজার হাজার কৃষক।
ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গম, ভুট্টা ও সূর্যমুখী বীজ উৎপাদনকারী দেশ। এসব কৃষিপণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই কৃষ্ণসাগর দিয়ে রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে ইউক্রেনে গম কাটার মৌসুম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসে শুরু হবে ভুট্টা কাটার মৌসুম। নিজের শস্য সংরক্ষণাগারের পাশে দাঁড়িয়ে ৫৭ বছর বয়সী রিবালকো বলেন, ‘এই শস্য পাঠানোর কোনো জায়গা নেই। কৃষকদের জন্য এটি পুরোপুরি একটি বিপর্যয়।’
ইউক্রেনের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে কৃষিখাত থেকে। ফলে এই অবরোধ যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে একে অপরের অর্থনীতিকে দুর্বল করতে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রুশ জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ও জাহাজে হামলা জোরদার করেছে।
দুই বড় শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শস্য রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই হামলায় কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সর্বশেষ বড় নৌ ঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার রাতভর চালানো হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৪ জন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, হামলায় রাশিয়ার চারটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফ্রিগেট রয়েছে।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেন জেলেনস্কি
গত বুধবার রাতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের অন্তত ৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মজুতের ১০ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দেওয়া হলে রাশিয়ার সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।
বিতর্কিত দ্বীপে পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো জাপানের দাবিকৃত বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইতুরুপ দ্বীপে যান। সেখানে তিনি আঞ্চলিক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল পরিদর্শন করেন।
পুতিনের সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ‘পুতিনের এই সফর একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল করে। এরপর থেকেই এগুলো মস্কো ও টোকিওর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে আছে। খবর রয়টার্স, আলজাজিরা ও বিবিসির