ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

৬ মাসে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে তেহরান 

৬ মাসে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে তেহরান 
×

ছবি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২১ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত ছয় মাসের যুদ্ধের পর ইরান নিজের সামরিক শক্তির ব্যাপারে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা এখন আগের চেয়ে বেশি। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে মার্কিন প্রশাসনকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে তেহরান। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। 

নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সাময়িক বিরতির পর সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। জবাবে দেশটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট করে তোলে। 

গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো পড়েছেন এমন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি বা পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ইরানের কোনো আগ্রহ নেই। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করাই এখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্প অবশ্য আপাতত কোনো সংলাপে না গিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার পথে হাঁটছেন। তবে গোয়েন্দা পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এসব নিষেধাজ্ঞা উল্টো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলছে। ইরান আবারও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজ এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।

সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সাইবার স্পেসকেও বড় হাতিয়ার করেছে তেহরান। গোয়েন্দাদের মতে, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০০টি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাইবার হামলা হয়েছিল, তার পেছনে ইরানি হ্যাকাররা জড়িত। যদিও এতে খাওয়ার পানি দূষিত হয়নি, তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নাগরিকদের পানি ফুটিয়ে খাওয়ার নির্দেশ দিতে হয়েছিল। 

এ ছাড়া মার্কিন তেল ও গ্যাস খাতে হামলার চেষ্টাও করছে ইরানি হ্যাকাররা। যুদ্ধের সূচনায় ক্ষতির মুখে পড়লেও বর্তমানে তাদের সাইবার ইউনিটগুলো নতুন শক্তিতে পুনর্গঠিত হয়েছে। মূল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কিছুটা দূরে হলেও মার্কিনিদের প্রাত্যহিক জীবন বিঘ্নিত করে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর জনঅসন্তোষ বাড়ানোই এই সাইবার কৌশলের উদ্দেশ্য। 

ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য 
মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দা কমিটির সদস্যরা বলছেন, ছয় মাসের হামলায় ইরানের ক্ষতি হলেও দেশটির শাসনব্যবস্থা শুরু থেকেই ধাক্কা সামলাতে প্রস্তুত ছিল। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ভুলে ইরানের নেতৃত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি একতাবদ্ধ। এ ছাড়া তাদের হাতে এখনও প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত রয়েছে। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালিকে দরকষাকষির কত বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তা তেহরান খুব ভালোভাবেই বুঝে গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচনে প্রভাব ফেলার জন্য ইরান সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি রিপাবলিকানবিরোধী বিভিন্ন প্রচারণামূলক নেটওয়ার্ক সক্রিয় করা হয়েছে, যার উৎস ইরান। একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এই যুদ্ধকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানি সরকার লম্বা সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা দেখাচ্ছে। 

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি 
যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সম্প্রতি খার্গ দ্বীপের কাছে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দ্বীপ থেকেই ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়। এদিকে, আবারও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে শিগগির বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের নাতানজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত এই পাহাড় অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ভূগর্ভের টানেল রয়েছে। 

এ ছাড়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও সংঘাতের ভয়াবহতাকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই যুদ্ধকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

 

আরও পড়ুন

×