ইয়েমেনে তীব্র লড়াই
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের, জবাবে ব্যাপক বিমান হামলা
ছবি- সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:২২
ইয়েমেনে সৌদি জোট ও ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। সৌদির তিন শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে ইয়েমেনজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে চলতি মাসে ইয়েমেনের এক লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সৌদি জোটের জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড জানায়, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন খামিস মুসাইত, আবহা ও তায়েফ শহরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এতে বেশ কিছু বাড়িঘর ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ‘সৌদির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব হামলার যোগ্য ও দায়িত্বশীল জবাব দেওয়া হবে।’
এই ঘোষণার পরপরই গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের লাহজ, তাইজ, আল-জাউফ, মারিব ও হাজ্জাহ প্রদেশের অন্তত ৫৪টি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, খামিস মুসাইত ও তায়েফের সৌদি বিমানঘাঁটি থেকে ওড়া এফ-১৫ এবং টাইফুন যুদ্ধবিমান থেকে এসব হামলা চালানো হয়। এতে তাইজ প্রদেশের একটি সরকারি ভবনসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
এর আগে হুতিরা জানায়, তারা খামিস মুসাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটির রাডার, রানওয়ে ও অস্ত্র ডিপো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়েছে। ইয়েমেনে আগের পাঁচ দিনে সৌদি যুদ্ধবিমানের ৩০০ বিমান হামলার বদলা নিতে এই হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর উপকূল দখলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দুপক্ষের সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি স্থবির হয়ে পড়ায় বাব আল-মান্দেব বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, নতুন করে হামলার আশঙ্কায় সৌদির পশ্চিম উপকূলের জেদ্দা, মক্কা ও তায়েফ শহরে ‘জরুরি বিপদ সতর্কতা’ জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ ভবন বা কক্ষে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব বন্ধ হলে বিপর্যয়: কাতার
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পর এখন বাব আল-মান্দেব প্রণালি রুদ্ধ হলে পুরো বিশ্বে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসবে বলে সতর্ক করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব এমনিতেই ভুগছে। নতুন করে বাব আল-মান্দেব বন্ধ হওয়া পুরো বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হবে।’
আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ‘ইরান চুক্তি করতে চায় এবং আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’ তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই এটিকে ট্রাম্পের ‘মিশ্র বার্তা’ উল্লেখ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।’
হরমুজের আকাশে মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি
হরমুজ প্রণালির আকাশে একটি উন্নত মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরান জানায়, তাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। এ ছাড়া গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল দ্বারা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানার খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা (ইউকেএমটিও)।
পারমাণবিক চুক্তি হলে জ্বালানি দেবে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য ত্যাগ করলে ইরানকে বিকল্প উপায়ে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। এমন সময় মার্কিন মন্ত্রীর এই বক্তব্য এলো, যখন নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
- বিষয় :
- সৌদি আরব
- হুতি
- বিমান হামলা