ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদির অনুরোধের পর ইরানকে হুতিদের থামাতে বলেছে বেইজিং

সৌদির অনুরোধের পর ইরানকে হুতিদের থামাতে বলেছে বেইজিং
×

ছবি: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৪:৫৮

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ঠেকাতে ইরানের ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য চীনের কাছে অনুরোধ করেছে সৌদি আরব। এরপর বেইজিং ব্যক্তিগতভাবে তেহরানকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত এক সপ্তাহে লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও ওই অঞ্চলের নৌ চলাচল আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

চীন প্রকাশ্যে সংযম, সংলাপ ও নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেওয়া বার্তায় বেইজিং আরও স্পষ্টভাবে ইরানকে হুতিদের ওপর তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে বলেছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বার্তাটি কীভাবে তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করেছিলেন। তার ওই সফরের সময় বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা-ও জানা যায়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে চীনের উদ্বেগের জবাবে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিন ইরানি সূত্রের ভাষ্য, চীনা কর্মকর্তারা ইরানের ওপর কোনো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দেননি। হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে তেহরানের বিরুদ্ধে বেইজিং কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেনি।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ুক, তা চায় না চীন। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ানো কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয় বলেও মন্তব্য করেছে তারা। সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানো এবং মানুষের জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

হরমুজ ও লোহিত সাগর নিয়ে উদ্বেগ
ইরানের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির তেলের প্রধান ক্রেতা। পণ্যবাজারবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। দৈনিক গড়ে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে। কারণ, ইরানের হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার পরিস্থিতির মধ্যে একই সঙ্গে লোহিত সাগরের নৌপথে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথই ব্যাহত হবে।

ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে একপর্যায়ে সেই চাপ ইরানের ওপর নির্ভরশীল চীনের মতো শক্তির স্বার্থেরও ক্ষতি করতে শুরু করতে পারে।

চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। এ ছাড়া চীন ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে বলে ভাতানকা উল্লেখ করেন।

তেহরানের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা
বেইজিংয়ের আহ্বানে তেহরান শেষ পর্যন্ত হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন তিন ইরানি সূত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরানের জন্য চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ইরানের তেলশিল্পে বিনিয়োগ এবং যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিতে চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সক্ষমতা চীনের রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তি হয়েছিল। কয়েক বছর বৈরিতার পর ওই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু হয়।

তবে ইরানে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি সই করলেও তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ও চীনা বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম বলে দেশটির কিছু সমালোচক মনে করেন। একই সময়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে চীনের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে।

আরও পড়ুন

×