‘আমি আর কিছুই চাই না, শুধু কলিজার টুকরোকে ফেরত চাই’
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:৪৭
‘আমি আর কিছুই চাই না, শুধু আমার কলিজার টুকরোকে ফেরত চাই। মেয়েটা আমার কোথায়, কেমন আছে– কিছুই জানি না।’ ১১ মাসের দুধের শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে হারিয়ে এভাবেই অঝোরে কাঁদছিলেন মা রুমানা আক্তার। গাইবান্ধা পৌরসভার দক্ষিণ ধানঘড়া গ্রামের এই অসহায় মায়ের জীবন এখন থমকে গেছে। মাদকাসক্ত স্বামীর বিষাক্ত ছায়ায় তছনছ হয়ে গেছে তাঁর সংসার। এখন হারিয়ে গেছে কোলের সন্তানটি।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, জুলাই ২০২৪-এ বিয়ে হয় হামিদুল মিয়া ও রুমানা আক্তারের। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য রুমানার ওপর চলত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে শিশুকন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। কিন্তু সেখানেও রেহাই মেলেনি। গত ১৭ জুলাই মেয়েকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোল থেকে নিয়ে বের হয়ে আর ফেরেননি পাষণ্ড বাবা হামিদুল।
দুদিন পর হামিদুল মোবাইল ফোনে রুমানার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অভাবের সংসারে সেই টাকা দিতে না পারায় শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। এর পর থেকেই হামিদুলের ফোন বন্ধ। বল্লমঝাড় ইউনিয়নের সাহার বাজারের ভিটাতেও খোঁজ মেলেনি তাদের।
রুমানার মা রোশনা বেগম চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ‘সামান্য টাকার জন্য যে নিজের ১১ মাসের শিশুকে বিক্রির হুমকি দেয়, সে মানুষ হতে পারে না। আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব? আমার নাতনিকে দ্রুত উদ্ধার করে দেওয়া হোক।’ পাষণ্ড এই বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও।
সন্তান ফিরে পেতে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন রুমানা। দুই মাস পার হলেও মেলেনি ফাতেমার খোঁজ। সম্প্রতি আদালত থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশকে।
গাইবান্ধা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমঙ্গল কুমার সরকার জানান, ‘আদালত থেকে সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। বাবার অবস্থান শনাক্ত করে শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ। আশা করছি, খুব দ্রুতই শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পারব।’
- বিষয় :
- গাইবান্ধা