১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আনছে ইইউ
ছবি: বিবিসি
বিবিসি
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩৮ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩৯
শিশু-কিশোরদের মানসিক কল্যাণ নিশ্চিত ও ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইইউ। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে পর্যায়ক্রমিক বাধ্যবাধকতা আনা হবে। ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য যেকোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা দৈনিক সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সুযোগ পাবে। তাও আবার বাবা-মা কিংবা অভিভাবকের মূল অ্যাকাউন্টের অধীনে তৈরি ‘মিনি অ্যাকাউন্টের’ মাধ্যমে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের জন্য নিরাপদ। অন্যথায় তাদের বার্ষিক ব্যবসার ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
পার্লামেন্টে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অভিভাবকদের হাতে পুনরায় তাদের সন্তানদের নিয়ন্ত্রণের চাবি ফিরিয়ে দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামের প্রস্তাবিত এই আইন শিশুদের জন্য অনলাইন নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় হাতিয়ার সরবরাহ করবে।
নতুন বিধিনিষেধ কেবল টিকটক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা স্ন্যাপচ্যাটের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ইউটিউবের মতো ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, এআই চ্যাটবট এবং অনলাইন গেমের ওপরও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘অনেক শিশু অল্প বয়সে এমন এক অনলাইন জগতে ঢুকে পড়ছে, যার জন্য তারা মানসিকভাবে একেবারেই প্রস্তুত নয়।’
আইনটি পাস হলে কেবল ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা নিজেদের নামে স্বাধীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে কনটেন্টের দায় থেকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। আইনটি অনুমোদন হলে তাদের ‘চাইল্ড সেফটি প্ল্যান’ জমা দিতে হবে।’
প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে তা ইইউর সব সদস্যরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে আইনটি বাস্তবায়নে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মতি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
আইনটি বাস্তবায়ন নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার আইন তৈরি করলেও গত মাসে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তা বাতিল করে দেন। আদালত বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে।
ইইউ কমিশন জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত আইনটি অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষ প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি। কমিশন আরও জানায়, প্রস্তাবটি তৈরির সময় তারা অস্ট্রেলিয়াকে উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখে। দেশটি গত বছর ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে। তবে আইনটি প্রয়োগে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে এখনো জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। অনেক শিশু-কিশোর ছদ্মনামে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে যাচ্ছে।
- বিষয় :
- ইইউ
- সোশ্যাল মিডিয়া