ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি
×

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ছবি: ফাইল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৪ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০৩

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার নামে দেশে-বিদেশে ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বৃহস্পতিবার দুদকের মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের পরিচালকের স্বাক্ষর করা চিঠি বিএফআইইউ পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুদকে আসা অভিযোগের অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে এসব তথ্য প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, শেল কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে গত ২ সেপ্টেম্বর ও ১৩ সেপ্টেম্বর দু'টি পর্যায়ে ১৩ হাজার ২০২ কোটি ২৬ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে ঘোষণা দেয় দুদক। 

দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। 

দুদক জানায়, সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ও সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনৈতিক লেনদেন করেছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।  

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুস গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ, ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ প্রদান করেন তিনি। পাশাপাশি হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করেন। 

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুর্নীতির টাকা দিয়ে তিনি পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ ও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন। দুবাইতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা ও সুইজারল্যান্ডে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা (বাড়ি) ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছেন। দুই ভগ্নিপতি ও ভাগ্নের মাধ্যমে তিনি বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন। 

আরও অভিযোগ হলো, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজের উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পটির বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। সাবেক পিও মাহফুজুল আলম ভুঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন

×