ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রশিক্ষণে ১৩ হাজার ৮৯৫ নারীর কর্মসংস্থান

বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রশিক্ষণে ১৩ হাজার ৮৯৫ নারীর কর্মসংস্থান
×

অ্যাসেট প্রকল্পের এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণকারী নারী প্রশিক্ষণার্থীরা।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫০

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) উদ্যোগে এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) শেষে ১৩ হাজার ৮৯৫ নারীর কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। দক্ষ হিসেবে মূল্যায়িত ২৬ হাজার ৫৭৪ প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে এ সংখ্যা প্রায় ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ।  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৯২৭টি ব্যাচে ৪৬ হাজার ২৪৮ নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতি ব্যাচে ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তবে ১৩ হাজার ৮৯৫ জনের কর্মসংস্থানের তথ্যকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা যাচাই ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান অনুসরণ কার্যক্রম এখনও চলছে। কার্যক্রম শেষ হলে এ সংখ্যা আরও হালনাগাদ হতে পারে।

বিডব্লিউসিসিআই জানিয়েছে, কর্মসংস্থান বলতে শুধু প্রতিষ্ঠানে চাকরি নয়, আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, বাড়িভিত্তিক ব্যবসা ও আয়মূলক সেবাকেও এর আওতায় ধরা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা শুরু, স্থানীয় বাজারে পণ্য বা সেবা সরবরাহ এবং অন্য নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হিসেবে বিডব্লিউসিসিআই বিভিন্ন জেলার শিল্পকারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের সংযোগ স্থাপন করছে। দেওয়া হচ্ছে শিক্ষানবিশি ও চাকরির সুযোগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাজারসংযোগ এবং ব্যবসায়িক ও আর্থিক পরামর্শ। প্রশিক্ষণার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব কর্মপরিবেশেও হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।

প্রশিক্ষণের আওতায় রয়েছে পোশাক তৈরি, ফ্যাশন ডিজাইন, পণ্য উন্নয়ন ও মডেলিং, খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন, নকশিকাঁথা ও সূচিকর্ম, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টিং, সৌন্দর্যচর্চা, সেবাযত্ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন।

এ পর্যন্ত দক্ষতা যাচাইয়ে অংশ নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪৮ জন। তাঁদের মধ্যে দক্ষ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন ২৬ হাজার ৫৭৪ জন। কর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৮ জন প্রতিবন্ধী নারী ও ৭৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী রয়েছেন।

বিডব্লিউসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, নারীর দক্ষতা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারসংযোগ, সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গ্রাম ও শহরের নারী উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখতে পারেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের পথও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করেন তিনি।

অ্যাসেট-বিডব্লিউসিআই প্রকল্পের ডেপুটি সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার সুমন্ত কুমার মহন্ত বলেন, ৪৬ হাজারের বেশি নারীকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নারীদের চাকরি, আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যবসায় যুক্ত করা। এর মাধ্যমে তাঁরা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×