ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারাগারে কয়েক বন্দির জন্য লাক্সারি ফ্ল্যাট, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা

কারাগারে কয়েক বন্দির জন্য লাক্সারি ফ্ল্যাট, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা
×

ছবি: দ্য স্ট্রেইট টাইমস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪০ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:১৩

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার বাইরে একটি কারাগারে কয়েক বন্দির জন্য লাক্সারি ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়ার পর পাঁচ জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এসব লাক্সারি ফ্ল্যাট দেখতে অনেকটা বাড়ি বা ভিলার মতো। সেখানে সোফা, টেলিভিশন, এসি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল। কারাগারটির কাছে বিলাসবহুল গাড়ি, জিম ও নির্মাণাধীন গলফ সিমুলেটরও পাওয়া গেছে।

২৩ সেপ্টেম্বর পশ্চিম জাভার বোগোরের সিবিনং কারাগারে আকস্মিক পরিদর্শন চালায় ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ন্যায়পাল (অম্বুডসম্যান)। দেশটির উচ্চ নিরাপত্তার এই কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও আছেন।

পরিদর্শনের পর ২৬ সেপ্টেম্বর কারাগারের ওয়ার্ডেন, নিরাপত্তাপ্রধান, গাইডেন্স ও শিক্ষা বিভাগের প্রধান, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান এবং সাধারণ বিষয়াবলি বিভাগের প্রধানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

কারা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিদর্শক রুডি সেটিয়াওয়ান বলেন, অম্বুডসম্যানের পরিদর্শনে যে ঘটনা ধরা পড়েছে, তার জন্য দায়ী হতে পারেন- এমন পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

১০টির বেশি লাক্সারি ফ্ল্যাট
অম্বুডসম্যানের সদস্য সিয়াফ্রিদা রাচমাওয়াতি রাসাহান জানান, পরিদর্শক দল প্রথমে কারাগারের সেল ব্লকে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তবে সরকারি দায়িত্বপত্র দেখানোর পরও তাদের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

পরে কারাগারের অভ্যর্থনাকেন্দ্র থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বেড়া দেওয়া একটি এলাকায় যান পরিদর্শকেরা। সেখানে ১০টির বেশি আবাসিক ইউনিট দেখতে পান তারা। কোনোটি অতিথিশালা, কোনোটি টেরেস বাড়ি, আবার কোনোটি ভিলার মতো দেখতে ছিল।

একটি আবাসনে সোফা, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও খাবার টেবিল পাওয়া যায়। ফ্রিজে মদের বোতলও ছিল। সেখানে থাকা একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিজেকে বন্দি বলে পরিচয় দেন। অম্বুডসম্যানের সদস্যদের দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত শোবার ঘরে চলে যান।

অম্বুডসম্যানের ভাষ্য, এসব আবাসন নির্দিষ্ট কিছু বন্দির জন্য বিশেষ সুবিধা দিতে ব্যবহার করা হতো।

‘অ্যাসিমিলেশন হাউস’ দাবি কারা কর্মকর্তাদের
কারাগারের কর্মকর্তারা এসব ভবনকে ‘অ্যাসিমিলেশন হাউস’ বা বন্দিদের সমাজে পুনঃএকীভূত করার কর্মসূচির আওতাধীন আবাসন বলে দাবি করেছেন।

তবে অম্বুডসম্যানের সদস্য ফিকরি ইয়াসিন বলেন, কোনো বাড়িতে একাধিক বন্দি থাকলেও কিছু বাড়িতে মাত্র একজন করে থাকতেন। তার মতে, এতে বন্দিদের মধ্যে এক ধরনের শ্রেণিবিন্যাসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

একজন বন্দি অম্বুডসম্যানের তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, এসব আবাসনে থাকার জন্য তিনি অর্থ দিয়েছিলেন। তবে কত টাকা এবং কাকে দেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তদন্তকারী দল।

এক নারী অম্বুডসম্যানকে জানিয়েছেন, তার স্বামী ওই কারাগারের বন্দি। তাকে প্রতি সপ্তাহে ১ লাখ ৫০ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া দেওয়ার জন্য কক্ষের প্রধান চাপ দিতেন।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইট টাইমস

আরও পড়ুন

×