রূপগঞ্জে যুবদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ফাঁকা গুলি, ভাঙচুর
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৩
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে এক পক্ষের লোকজন অপর পক্ষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে তারাব পৌরসভার বরপা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১০টার দিকে তারাব পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরজু ভূঁইয়ার সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা রাফিন ভূঁইয়ার রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আরজু ভূঁইয়া ইট দিয়ে রাফিন ভূঁইয়ার মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাফিন ভূঁইয়া ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তিনি তারাব পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য।
এর কিছুক্ষণ পর রাফিন ভূঁইয়া লোকজন নিয়ে মুড়াপাড়া এলাকা থেকে দুটি মোটরসাইকেলে বরপা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। সেখানে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক পর্যায়ে রাফিন ভূঁইয়ার পক্ষের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় যুবদল নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে আরজু ভূঁইয়ার লোকজন রাফিন ভূঁইয়া ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাধা দিতে গেলে রাফিন ভূঁইয়ার পক্ষের ইয়ার হোসেনসহ তিনজন আহত হন।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী সুপার মেহেদী ইসলামের নেতৃত্বে রূপগঞ্জ থানার এক দল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাৎক্ষণিক কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।