‘পা ধরে বলেছি, মা জানলে মারা যাবে, তবুও ছাড়েনি’
সংবাদ সম্মেলনে মেহেদি হাসান ফারুক
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৭ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৯
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ছাত্রদলের কর্মীকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী মেহেদি হাসান ফারুক মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান। তাঁর অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ অন্তত ১৫ জন তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।
মেহেদি মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক। আজ কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম, মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মেহেদি বলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকের কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে উপজেলা শহরে নিয়ে যান। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। সেখানে আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে রাত ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় মারধর করা হয়।
তাঁকে তুলে নেওয়ার পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। মেহেদি বলেন, ‘আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ– এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।’
মেহেদির বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হলে তাঁকে বরিশাল নেওয়া হয়।
মেহেদি বলেন, ঘটনার বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। মাসুদ, রাশেদ, আমিরুলসহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানা। তারা বলেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার বলেন, ‘আমি এলাকার বাইরে। ঘটনা শোনার পর জেলা ছাত্রদলকে অবহিত করেছি। বিএনপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে শুনেছি।’
জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা কখনও এ ধরনের কাজকে সমর্থন করি না। ইতোমধ্যে এ অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার জানান, ছাত্রদলের কর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
- বিষয় :
- পটুয়াখালী
- ছাত্রদল
- সংবাদ সম্মেলন