সিইসির পদত্যাগ দাবি
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ঘিরে বিক্ষোভ, ব্যারিকেডে উঠে রাহুল গান্ধীর প্রতিবাদ
বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেডে উঠে পড়েন রাহুল গান্ধী। ছবি: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৫৬
ভারতের নির্বাচন কমিশনের দিকে এগোতে গিয়ে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়লেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে ইন্ডিয়া জোটের মিছিল আটকে দিলে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাহুল গান্ধী ও তার বোন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার এ কর্মসূচি পালন করে বিরোধীরা।
নয়াদিল্লি জেলার বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত পাঁচটির বেশি কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় ১৪০ জন বিরোধী সংসদ সদস্যের মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
মিছিলটি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিরোধী নেতারা সেখানে অবস্থান নিয়ে ধর্নায় বসেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে একটি বাসে তুলে নিয়ে যায়।
রাহুল গান্ধীকে এ সময় ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। তার হাতে থাকা একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো!’ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই স্লোগান পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এখন পদত্যাগ করার সময়।’
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিক্ষোভে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অন্য বিরোধী নেতারা।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফটক ও যন্তর মন্তরের আশপাশে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সেখানে জমায়েতের অনুমতি নেই।
গত ২ অক্টোবর থেকে নয়াদিল্লি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাম দলসহ বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ করছে। এর আগে ১ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোট যৌথ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে ছিল দেশজুড়ে বিক্ষোভ, বিরোধী সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে মিছিল এবং ১ নভেম্বর দিল্লিতে বড় সমাবেশ।
দিল্লিতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ১৯টি দলের নেতা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কপিল সিবাল অংশ নেওয়ার পর এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, আরজেডির তেজস্বী যাদব, এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতিসহ বিরোধী জোটের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গত পাঁচ দিনে যন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভের ঘটনায় বিভিন্ন ধারায় নয়টি মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, দাঙ্গা এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগের ধারাও রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন শতাধিক মানুষকে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের আরও বিক্ষোভের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি সংগঠন দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদেরও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি রয়েছে।
- বিষয় :
- ভারত
- নির্বাচন কমিশন
- রাহুল গান্ধী