৩ বিলিয়ন ডলারের চুরি যাওয়া ক্রিপ্টো জব্দ: বাইন্যান্স
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:৪১ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৫:৪৪
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স জানিয়েছে, বড় ধরনের সাইবার হামলায় চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ (ফ্রিজ) করতে সক্ষম হয়েছে তারা। তবে চুরি যাওয়া বাকি সম্পদের বড় একটি অংশ এখনো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়েছে। এটিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো চুরির ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে বাইন্যান্স ধারণা করেছিল, প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা এই অর্থ চুরি করেছে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সাইবার হামলাটি ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল এবং এর পেছনে আরও জটিল কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।
বেশ কয়েকটি সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এই হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকিং ইউনিটের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে বাইবিট ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে চুরি হওয়া ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে এই চুরি।
এদিকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, চুরি হওয়া অর্থ শনাক্ত, জব্দ, অনুসরণ এবং উদ্ধারে তারা দিনরাত কাজ করছে। পাশাপাশি এই সাইবার হামলার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনারও ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সঙ্গে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সচেঞ্জ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ক্রিপ্টো সম্পদ থাকায় দেশটির তদন্তকারী সংস্থাগুলোর এ ঘটনায় কাজ করার এখতিয়ার রয়েছে।
চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে টিথার ও সার্কেলের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত স্টেবলকয়েন। এসব ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য সাধারণত মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে যুক্ত থাকে। ফলে চুরি হওয়া অর্থ শনাক্ত ও জব্দ করার ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানেরও ভূমিকা রয়েছে।
ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করে বাইন্যান্স বলেছে, তাদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে। চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতির দায়ভারও প্রতিষ্ঠানটি নিজেই বহন করবে।
- বিষয় :
- ক্রিপ্টোকারেন্সি