ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শর্টফিল্ম

শর্টফিল্ম
×

নিউইয়র্কে সেন্ট্রাল পার্কে শুটিংয়ের ফাঁকে আনােয়ার শাহাদাত, মার্ক ও জুন

আনোয়ার শাহাদাত

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫ | ০০:১৪

এটি গত শতকের ছবি! হতে পারে ১৯৯৯/২০০০ [আদিকালের কথা]! আমি চলচ্চিত্রের ওপর নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে একটি পোস্ট মাস্টার্স মর্যাদার ডিপ্লোমা করেছিলাম। আমাদের তখন অনেক শর্টফিল্ম বানাতে হয়েছিল। যার একটির শুটিং ছিল সেন্ট্রাল পার্কে। ওই শর্টের টিম ছিলাম আমরা ক’জন : মার্কো, মার্ক, জুন ও আমি। আমার ডানদিকে মার্কো, বামদিকে মার্ক ও জুন [ছবির ডান-বাম, দেখার ডান-বাম নয়] । 
এদের কারও সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। সবাই আমার ব্যক্তিগত বন্ধুও ছিল। এবং মার্ক ছিল আমার আরও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত বন্ধু, একেবারে যাকে বলে ‘জানি-দোস্ত’ {এটা অর্থাৎ ‘জানিদোস্ত’ যে একটি হিন্দি/উর্দুর অভিব্যক্তির প্রকাশ সে আমি জানি} ! বহু বছর হলো মার্ক হারিয়ে গেছে! মানে আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই। হতে পারে কারও সঙ্গেই ওর যোগাযোগ নেই। ওকে গুগল করেও পাই না। ওর বউ ছিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্কলার’ ‘আইন’ (ল’) বিষয়ে। আমি ওর নামও এখন খুঁজে পাই না কোথাও! তবে বুঝি জাস্টিস কীভাবে খুঁজলে পাওয়া যাবে। 
এখন আর খুঁজিও না! আমরা দুজন মানে আমি আর মার্ক খুব করে মদ্যপান করতাম, এবং আমি সেই থেকে নিজেকে ‘আইরিশ’ দাবি করতাম ওর যে কোনো বন্ধুদের সঙ্গে, যেহেতু আমি প্রায় আইরিশদের মতন মদ্যপান করতাম এবং ফ্রাঙ্ক ম্যাককোর্টের অ্যাঞ্জেলা’স অ্যাশেজ ও টিচম্যান বই দু’খানি পড়ে নিজেকে আইরিশ বোহিমান পানাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম! যদিও মার্ক তা স্বীকার করতও না, ওর মতে আমি ছিলাম– “প্রকৃতই একজন সত্য তবে ভুয়া আইরিশ ...” হা হা ...।
মার্ক এরপর ‘ফটোগ্রাফির’ ওপর পড়াশোনা করেছিল। আর ওর থিসিস ফটোগ্রাফিতে আমাকে মডেল করেছিল, কনি আয়ারল্যান্ডে আটলান্টিকের পারে আমাকে খাড়া করায়ে কত ছবি যে তুলেছে তা ইয়ত্তাহীন! ... এবং সেভাবে নাকি ওর ছবি সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হয়েছিল সেই এবং এই এক তার ‘অচেনা ডুড’ ! [আমার কোনো এক প্রোফাইলে ওর থিসিস ছবির জন্য তোলা সেই ছবিটা আসলে আছে কোথাও, পরে কোনো এক সময়ে খুঁজে দেখব তা কোথায়]
আহ! এখনও বুঝি– যে, বেঁচে থাকা সে যে কী আনন্দের; যদিও অভিশাপীদের “আমার মরে যাওয়া উচিত ছিল, সে অনেক আগেই” তাদের এইসব ইচ্ছের অবজ্ঞা করে এই যে এখনও দিব্যি বেঁচে থাকা এবং তাকে অর্থাৎ এই বেঁচে থাকাকে এক আনন্দের মতন করে যাওয়ার যে এক নিরন্তর দাবি ... !
চিয়ার্স!
চিয়ার্স! এই মোর কনিয়াক সন্ধ্যায়! সহসা অন্যদের অভিশাপে মরে না যাওয়া যে কী আনন্দের হতে পারে ... হা হে হি “মরি নাই, মরি নাই... হে পিয়ে {প্রিয়া}... এ মোর... ‘না মরণ’... শুধু ... হা হা হা ...
গান শুনছি। যে গান শুনলে পরে ‘নিজেকে হারায়ে খুঁজ’তে না হয়, তেমন গান। আহ! [ক্যামেরা অ্যারে ১৬ মি. মি. কলেজ (NYU) সরবরাহকৃত]  v

আরও পড়ুন

×