ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নোবেল বিজয়ী লাসলো ক্রাশনাহোরকাইর নভেলা

দ্য লাস্ট উলফ

দ্য লাস্ট উলফ
×

লাসলো ক্রাশনাহোরকাই [জন্ম: ৫ জানুয়ারি ১৯৫৪]

মূল হাঙ্গেরিয়ান ভাষা থেকে ইংরেজি অনুবাদ: জর্জ সিরৎস, বাংলায় ভাষান্তর: হামীম কামরুল হক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

পর্ব : ৩
হাঙ্গেরিয়ান বারম্যানটি শ্লেষাত্মকভাবে খেয়াল করে যাচ্ছিল, কিন্তু সে তো কেবল তার কাঁধের ওপর দিয়ে কথা বলতে পারে, কারণ সে পুরোপুরি ব্যস্ত তাকে ও দেয়ালে বোতলগুলো সাজিয়ে রাখতে– এবং তাই আমার অর্জন আদতে কোনো কিছুর সঙ্গে যোগ হয় না, সে বলতে থাকে, এবং এটা এর চেয়ে ভালো কিছু হতেও পারত না, এখানে কি ওখানে দু’জায়গায়ই, এক্সত্রেমাদুরাতে, সেটাই আমি প্রকাশ করতে চাইলাম, বা আমার সত্যিকারে রংগুলো দেখাতে চাইলাম, কিন্তু না, কিন্তু সেখানে এভাবে বিষয়গুলো কাজ করত না, আমি কেবল তাদের কাছে যেতাম আর সত্য কথাটি বলতে পারতাম না। কারণ, তারা মাত্রারিক্তভাবে দয়ালু, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুর চূড়ান্ত হলেও তারা মেনে নেওয়ার মানসিকতাওয়ালা, এবং কোনো একভাবে সে যদি চেষ্টাও করত, সেটা যদি প্রথম দিনেই করত, বোঝাতে পারত, সেই দোভাষী তক্ষুনি তার কণ্ঠস্বর উঁচুতে তুলত এবং চিৎকার করত আরও জোরে, এবং সে তার একটি শব্দ ঠিকমতো বলে উঠতে পারত না, এতে ব্যর্থ হয়ে, পরে, সে ঠিক করতে চাইল, যতটা চুপচাপে সেটা তার দ্বারা করা সম্ভব, যে তারা তাদেরটা চালিয়ে গেল, যাতে সবকিছু সুন্দরমতো ঘটল, এবং তারা গেল এবং পরিদর্শন করল, যেমন, যে জায়গায় আরব অভিবাসী গেস্তারবাইথরা বাস করে, যে জায়গাটাতে দোভাষী তার কণ্ঠস্বর নিচু করল, যদিও মাত্রায় সামান্য, এবং উত্তর দিল উৎসাহের সঙ্গে, বলতে কি বিজয়োদ্দীপ্তভাবে, যেন সে এই অনুরোধের জন্যই তৈরি হয়ে ছিল, যে হের প্রফেসর নিশ্চিতভাবেই চিন্তা করছিলেন নাবালমোরাল দে লা মাতার বা তালাইয়ুএইয়া, যে তারা ইতোমধ্যে নাবালমোরালের পথে, নাবালমোরাল দে লা মাতা, এবং ভালো, সে বলল এবং চিন্তায় ছিল, কী করতে হবে, কারণ তার কোনো ধারণা ছিল না, যেমনটা সে এখন ব্যাখ্যা করছিল, কোনো ধারণাই ছিল না কোথায় জায়গাটি ছিল অথবা কেন তারা সেখানে যাচ্ছিল, যদিও সে চেষ্টা করছিল একাগ্র হতে তার সমস্ত মনোযোগ ওই বিষয়টির ওপর এবং মনে করতে চেষ্টা করছিল এ সম্পর্কে কী কী সে পড়েছিল টেলিক্যাফেতে সবকিছু ঠিক করার আগের দিনটিতে, যদিও সমস্ত কিছু যা সে মনে করতে পারল তা হলো আরব অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হওয়া টেনশন যেগুলো তথ্য-উপাত্ত হিসেবে দুজন লেখকের আর্টিকেলে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন তার নাম সে লিখেছিল কিন্তু মনে করতে পারছিল না কোথায়, যে প্রতিবেদনটিতে দেখিয়েছিল যে, ‘‘দুইরো নদীর দক্ষিণে ১৯৮৩ সালে শেষ যে নেকড়েটি বেঁচে ছিল সেটির বিলোপসাধন ঘটেছিল’’ এবং এটা হতে পারে বাক্যের এক অস্বাভাবিক স্বর যেটা তার স্মৃতিতে ধাক্কা দিয়েছিল, যখন থেকে বিজ্ঞানীরা এমন কাব্যিকভাবে কোনো গবেষণাপত্রে এভাবে কিছু লেখেননি, লিখেছিল কি? ‘‘শেষ নেকড়ে’’ এমন অভিধায় সে এ ধরনের কথা বলছিল না ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কিন্তু হাঙ্গেরিয়ান বারম্যান আবারও তার কথা শুনতে থামাল। কারণ, চালান এসেছিল নতুন যাতে বিয়ার, ওয়াইন, স্পিরিট এবং নন-অ্যালকোহলিক পানীয় ছিল এবং বারম্যানের বোতলগুলো গুনে না নিয়ে কোনো উপায় ছিল না এবং তার নিজের নোটবুকে এ নিয়ে নোট নিতে, সবকিছু সেখানে, হাজির এবং ঠিকঠাকমতো, বিলিবণ্টনকারী লোকটি বাড়িতে যাওয়ার আগে একটি বিয়ার বরাদ্দ করল তার জন্য, সুতরাং যখন বারম্যানটি ফিরে এলো তার জায়গায় বারের পেছন দিকে এবং মাথা সোজা করে দাঁড়াল এটা দেখাতে যে সে আবার সরবরাহ-সেবা দিতে হাজির হয়েছে, সে কাজ চালিয়ে গেল উদ্দীপনার সঙ্গে, বলছিল যে কিছু একটা করা হয়ে গেছে মনে কিছু আসার আগে সেই নাবালমোরাল দে লা মাতার পথে, কিছুর একটা সে চিন্তা করে ফেলেছে তার আর্টিকেলটার ব্যাপারে, এটা সে সম্পর্কে যে বৈজ্ঞানিক আর্টিকেল কতটা ভিন্ন ধরনের হতে পারে। কারণ, বিজ্ঞানীরা এভাবে টার্মগুলো ব্যবহার করেন না ‘‘বিলোপসাধন’’ বা ‘‘শেষ’’, কিন্তু মনে কিছু করো না, সে বলল, এবং দ্রুতই ভুলে গেল যদি কোনো ঘটনায় যেমন করে মোটরগাড়িটি নাবালমোরাল দে লা মাতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আকাশটা মেঘহীন, তাপমাত্রা আরামদায়কভাবে উষ্ণ যেমন করে গাড়ির জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকে বইছিল, হাইওয়ে শান্ত কারণ প্রায় কাউকেই দেখা গেল না, যে সময়টা তারা ফিরছিল, সে সময়ে সে আবিষ্কার করল আরবরা সত্যিই নাবালমোরাল দে লা মাতা এবং তালাইয়ুএইয়াতে বাস করছিল কিন্তু সেখানে কোনো টেনশন বা চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল না, চাপা উত্তেজনাটা বিরাজ করছিল আরও দক্ষিণে, আন্দালুসিয়াতে, যেমনটা স্থানীয়রা দোভাষীকে বলছিল, সেই সঙ্গে যোগ করছিল যেহেতু অপেক্ষাকৃতভাবে তারা এখানে কম, মাত্র হাজারখানেক কাজ করে বছরে, এখানে তারা একে অন্যের সঙ্গে আত্মীয়র মতো বসবাস করে, যেমনটা বাস করে এক্সত্রেমাদুরার স্থানীয় বাসিন্দারা। তামাক ক্ষেতে কাজ শুরু করার সময় থেকে তারা কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলে এবং এর জন্য তারা ভালোই মাইনে পেয়ে থাকে, এবং সংক্ষেপে বলতে গেলে, তখন অন্ধকার হতে শুরু করেছে ফেরার পথে শাব্দিক অর্থেই সেখানে কেউই ছিল না, তাই সে নিজের আর্টিকেলটা ছাড়া এই নিয়ে আর চিন্তা করছিল নাকি নাবালমোরাল কি তালাইয়ুএইয়া নিয়ে, গাড়ির গুনগুন ঝিমঝিম শব্দে তার তন্দ্রা এসে গিয়েছিল, দোভাষী নিজেই চুপচাপ বসে থাকা ড্রাইভারের পাশে ঘুমিয়ে পড়েছিল, এবং তার মনে পড়ল আর্টিকেলটার আজব একটা বিষয় হলো সেটা কেবল নিবিড়ভাবে কাব্যিক বাক্যে পূর্ণ তো ছিলই কেবল এটা পরে দেখিয়ে দিতে যে, যে কেউ জানবে যখন ‘‘শেষ নেকড়ে’’টি মরে গিয়েছিল, কীভাবে সেটি কেউ জানত, এবং, এটা ছাড়িয়েও, ক্রিয়াটি স্বয়ং, ‘‘নিশ্চিহ্ন’’, এভাবে কি কোনো বৈজ্ঞানিক কথা বলে? না, আর্টিকেলে এমন কিছু ছিল যা মোটেও ঠিক নয়, বাক্য সম্পর্কে, এবং সেটা ছিল যেটা তার নজর কেড়েছিল যে, সে ফাউন্ডেশনের লোকজনকে বলল পরের দিন কাসেরেসে আয়োজিত সাপারের সময় (দোভাষীর মাধ্যমে) এটা নিয়ে সে কিছুই ভাবছে না, কিন্তু তখন তারা তাকে বোঝাল যে এটা নির্দেশ করে যে, এটা তাদের কাজ হওয়া উচিত, এই সমস্যারই সমাধান করা চাই, যে সে তাদের জিজ্ঞাসা করল আর্টিকেলটা খুঁজে বের করতে যেটা থেকে হের প্রফেসর পড়েছিল, এবং, সেই এলাকাটা চিনেছিল, সেই টেক্সটা ধরেই সে বুঝতে পারল কোন জায়গাটার কথা বলা হচ্ছে, যে একটি বিষয় তারা বুঝতে পারেনি এর যে-কারণ হের প্রফেসরকে মনে হচ্ছিল খুবই বিষণ্ন, এ কারণে সে ওই সাপারের পর জায়গাটির দিকে তাকিয়ে ছিল, যদিও তারা সেটা খেয়াল করেছিল, সে হাঙ্গেরিয়ান বারম্যানকে বলেছিল, সে তাদের বলতে চেয়েছিল কেন এটা ঘটেছিল, কিন্তু কী সে আদতে বলতে পারত, কীভাবে সে তাদের বোঝাত হাউপ্টস্ট্রাসেতে আসলে কেমন দেখতে, হাউপ্টস্ট্রাসেতে বেঁচে থাকাটা আসলে কেমন, হাউপ্টস্ট্রাসের এক-একটা সকাল আসলে কেমন, শপার্শভাইনটা আসলে কেমন– সুতরাং আরও কী কেমন এরপর বোঝাতে পারে? হাঙ্গেরিয়ান বারম্যানটি তার প্রতি চেঁচিয়ে উঠল কিন্তু সে এর কোনো উত্তর দিল না এবং আগের মতো চালিয়ে যেতে থাকল– কীভাবে সে বর্ণনা করবে যে কী তাকে এতটা ভারাক্রান্ত করে তুলেছিল, কীভাবে সে ব্যাখ্যা করে বোঝাবে যে কতটা লম্বা সময় ধরে সে এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা ছেড়ে দিয়েছে, বিষয়টির যেখানটায় প্রথম সে বুঝল যে পথে সেটি ছিল এবং জানল যে যে কোনো দিক থেকেই আমাদের অস্তিত্ব স্রেফ মনে করায় অস্তিত্বের দুর্বোধ্য অর্থহীনতাকে, এমন এক অর্থহীনতা যেটা বারবার ফিরে ফিরে আসে, অন্তহীনভাবে প্রবাহিত হয়ে চলে, সময়ের একেবারে শেষ বিন্দু অবধি এবং যে, না, এটা কোনো সুযোগের বিষয় নয় এবং এটা হলো অনন্যসাধারণ, অসীম, সার্থক, অজেয় শক্তি কাজ করে কোনো বস্তুকে জন্ম দিতে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে, কিন্তু বরং ছায়াময় পৈশাচিক কারণে, কিছু একটা বস্তুর হৃদয়ের গভীরে একেবারে প্রোথিত হয়েছিল, বস্তুগুলোর সম্পর্কের বুননের ভেতরে, যে দুর্গন্ধটি যার কাজ হলো প্রতিটি অণুকে পূর্ণ করা, যেটা ছিল একটি মূর্খতা, একটি অভিশাপের ধরন, যে এই জগৎ হলো একটি ঘৃণার উৎপাদন, এবং ঈশ্বর এই প্রজ্ঞাটিকে তাদের অর্জন করতে সাহায্য করেন যারা নাকি নিজেদের চিন্তাবিদ বলে, যেটি ছিল কারণ, তার আর কোনো চিন্তা না করার পেছনে, সে শিখেছিল আর কোনো চিন্তা না করতে, কোথাও এক পলকের জন্যও যেন এর সঙ্গে তার যেন না দেখা হয়, অবশ্যই, কারণ যেখানেই যে তাকায়, যেদিকেই সে পা ফেলে, সেখানে এক সামগ্রিক-জোরজবরদস্তির দুর্গন্ধ টের পায়, এই দুর্গন্ধটাই হলো শেষ কথা, এটা সেই শব্দ যা থেকে বোঝা যায় সেই অর্থহীনতা এবং ঘৃণা, বারবার বলা হয় কারণসহ, এই জগতের সঙ্গে এটা একটা সহ-অস্তিত্বময় ব্যাপার, জগতের সঙ্গে ছিল, ছিল কিছু একটা যেটি সম্পর্কে তার উচিত ছিল সচেতন হওয়া, এক সামগ্রিক অর্থহীনতা এবং অসম্মান যেটা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পেতে হচ্ছিল যেটা পেতে হচ্ছিল সেইসব চিন্তাবিদ যা গেড়ে দিয়ে গেছে, অর্থহীনতা কারণ যে মাত্র তুমি চিন্তা করা বাদ দাও এবং একেবারে সাধারণভাবে কোনো জিনিসের বা বস্তুপুঞ্জের দিকে তাকাও, চিন্তা একটি নতুন গড়নে-গঠনে তার ওপর ভর করে, এমন একটি কাঠামো থেকে যেখানে, অন্য কথায় বলতে গেলে, যেখান থেকে আর পালানোর কোনো উপায় নেই যা কিছু মানুষ ভাবল বা ভাবল না, কারণ সে হয়েই থাকল অন্যদিক থেকে ওই চিন্তার হাতেই বন্দি, এবং তার নাক এর দুর্গন্ধে গভীরভাবে যন্ত্রণাকাতর হয়েছিল, সুতরাং তার কাছে আর কী করার আশা করো কেবল নিজেকে চিন্তা দিয়ে মুড়িয়ে-ঘিরে রাখা ছাড়া যে নানান কর্মকাণ্ড তাদের নিজস্ব স্বাভাবিক ধারাগতি অনুসরণ করল, যেমনটা কিনা এক্সত্রেমাদুরাতেও ঘটেছিল, এটা সে বলতে চায় যে বস্তুগুলোকে তাদের মতো ক্রিয়া করতে দেওয়া হোক যখন পরের দিন একেবারে আনন্দে মেতে উঠে বাদাহোস্-ভিত্তিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক তাকে ফোন করে জানাল যে আর্টিকেলটা পাওয়া গেছে, কারণ সে তো তাকে বলতে পারেনি যে সে বস্তুত এটাই খুঁজছিল, এটাই ভালো করে বোধ করায় যে আর্টিকেলটা বাদ দিতে যেখানে এটা ছিল এবং ঘটনাগুলোকে নিজেই তাদের গতি পেতে দাও যেভাবে তারা সেটা পেতে চায়, এবং যদি তেমন হয় যে ঠিক কীভাবে বিষয়গুলো ঘুরে গেল যখন থেকে তারা আবিষ্কার করে যে লেখকটি যে বিষয়টির কথা উল্লেখ করেছিল আর্টিকেলে তরুণ সহলেখকদের সহজেই শনাক্ত করা গেল, সেই সত্তাটি ছিল নিশ্চিত ফার্নান্দো পালাসিওস, একজন প্রফেসর ফার্নান্দো পালাসিওস, যার মাদ্রিদের টেলিফোন নম্বর ইতোমধ্যে তাদের কাছে আছে এবং যাকে, তারা বিরামহীনভাবে বার্তা পাঠাল, তারা তক্ষুনি তার সঙ্গে কোনো রকম সফলতা ছাড়া যতটা সম্ভব যোগাযোগ করার চেষ্টা করে আসছিল, যেমনটা তারা তাকে তথ্যাদি দিতে দশ মিনিট পরপর তাগিদ দিচ্ছিল যে সময় যে মোটরগাড়িতে করে তারা যাচ্ছিল, যদিও সেই সময় দোভাষী বাদাহোস্ অফিসিয়াল কর্মকর্তার ভূমিকা গ্রহণ করেছিল এবং তার অবস্থান থেকে ঠিক সে সময় সঠিক নম্বরেই ফোন করছিল পেছনের সিটে বসে, এমনকি তারা যখন পৌঁছে যাচ্ছিল চমৎকার উপত্যকায়, যেখানে চেরিফুলের ফুটন্ত সমারোহ যে, এই অনুমতি চাওয়া হলো, ‘‘অতিথিদের দেখা উচিত এমনকি এক মাস আগে থেকে চেরিফুল জার্টি অঞ্চলে কীভাবে ফুটে ওঠে’’ এবং দ্রুতই টেলিফোনটির দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করল যার মানে এর ভেতর দিয়ে আদতে শে কেল্লাফতে করেছিল, যে সে ছিল ‘‘লাইনমতো’’ একটি ঘোষণা শোনা গেল যেটা জমজমাট আলাপের সূত্র ধরে যাতে সম্পূর্ণ বিস্ময়ভরা কণ্ঠস্বর ছিল ‘‘সি, সিনর’’ এবং ‘‘গ্রেসিয়াস, সিনোর’’ যার মানে হলো সেই নেকড়েটির অবস্থান নির্ণয় করা গেছে– সত্যিই?! বারম্যান জিজ্ঞাসা করল, তার মুখ, এই প্রথমবারের মতো সত্যিকারের কৌতূহলে জ্বলজ্বল করতে লাগল– কিন্তু না, সে উত্তর দিল, এটা এই অর্থে না যে তারা নেকড়েটির পায়ের খোঁজ পেয়েছিল, কেবল তারা আবিষ্কার করল যে কখন এবং কোথায় এটার অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু যখন দোভাষী চেঁচিয়ে উঠল যে প্রফেসর পালাসিওস একটু পরেই তাকে পাল্টা ফোন করে জানাবেন। কারণ, তিনি বলেছিলেন তিনি যথাযথভাবে জানেন সেই লোকটির নাম যে ওই শেষ নেকড়েটিকে গুলি করেছিল, যদিও এক ঘণ্টা পার হয়ে গেল সেই টেলিফোন বেজে ওঠার পর আবারও আরও জোরে আর্তনাদে ‘‘সি, সিনোর’’ এবং ‘‘গ্রেসিয়াস, সিনোর’’ শব্দ নিয়ে, কিন্তু এবার, দোভাষী জিতে যাওয়ার ভাব নিয়ে ঘোষণা করল, এক টুকরা কাগজে একটি নামসহ, তার মুখ উত্তেজনায় লাল হয়ে উঠল, তার কাছে এটা না থেকে যাবে কোথায়, সেই শিকারিটি ছিল একজন আন্তোনিও দোমিঙ্গেস চানক্লোন, এবং এই হলো তার ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর, এবং শে ইতোমধ্যে ওই নম্বরে ডায়ালও করেছিল, সে হাঙ্গেরিয়ান বারম্যানকে ব্যাখ্যা করে বোঝাচ্ছিল, একজন সত্যিকারের সুখী নারী, যে জায়গায় এসে বারম্যান জিজ্ঞাসা করে কেন শে এত সুখী, এবং সে উত্তর দিল যে এটা হতে পারে মহিলাটি সুখী কারণ শে যে কাউকে সাহায্য করার সামর্থ্য রাখে, কিন্তু বারম্যান বিষয়টি বুঝল না– এটা মনে হচ্ছিল যে পুরো কাহিনিটা বুঝে নেওয়ার ব্যাপারে তার কিছু সমস্যা আছে, যেন যদি সে না শুনে থাকে মুস্তফা স্যান্দালের আবেগাপ্লুত গোঙানি পার হয়ে, বা যদি এই আলোচনার মূল শব্দটি তার জন্য বাদ পড়ে যায় যেটা ছাড়া পুরো ব্যাপারটিই বোঝাবুঝির বাইরে পড়ে থাকবে, যদিও সে ধারাভাষ্য দিয়ে যাচ্ছিল যা তৈরি হয়েছিল সন্দেহের ওপর ভর করে বা স্রেফ বলে যাচ্ছিল যা সে শুনেছিল, বস্তুত যে মুহূর্তগুলো মূলত যখন শূন্য, না একটি শব্দ, তার ধারাভাষ্য বারের পেছন থেকে শোনার কোনো উপায় নেই, যদিও সেখানে কোনো সমস্যা ছিল না কারণ তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা সবই ছিল সুবিস্তৃতভাবে কেবল ওইসব গ্লাস আর বোতলের সঙ্গে, ডিশওয়াশার আর টি-মেশিনের সঙ্গে– এবং তাই যা কিছু সে মাঝে মাঝে বলত সেগুলো কেবল তাদের উদ্দেশ্যেই এবং কেবল তাদের জন্যই বলা, এবং এমনকি যখন কেবল হাঙ্গেরিয়ান বারম্যানটি থাকত, তার প্রতিও নয়, সে লোকটির প্রতিও নয় যে বহন করে নিয়ে যেত তার দিক থেকে কীভাবে, প্রফেসর পালাসিওসের বিবেচনায়, সে, যেমনটা বলা হলো চানক্লোন, গুলি করে নেকড়েটিকে, জাতের দিক থেকে সেটি মদ্দা, ১৯৮৫-তে– নাকি ১৯৮৩ সালে! কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫, এবং বলা হয় চানক্লোন থাকত ৩, আবেনিদা বির্হেন দে গুয়াদালুপের তৃতীয় তলায় কাসেরেসে, সেই ঘটনাটি ঘটেছিল কান্তিইয়ানা লা বিয়েহা, এররেউয়েলায়, যদিও, পালাসিওসের মতে, বা তাই দোভাষীটি উত্তেজিত হয়ে ব্যাখ্যা করছিল, সেটি যথাযথ না হলেও লে গাসেওসার নামে ফিনকাটা চলছিল– কীসের ওপর? জিজ্ঞাসা করল হাঙ্গেরিয়ান বারম্যানটি যে সত্যিই ওই শব্দটিতে পছন্দ করছিল না– একটি ফিনকা, সে বলল, এটা একটা জায়গার আঞ্চলিক নাম যেখানে সবকিছু বেড়া দিয়ে ঘেরা এবং পুরো এলাকা কাঁটাতার দিয়ে, সেই স্টেটটা পাহারায় থাকে স্পেশাল গার্ডেরা, বা উভয়ই, যারা ওই এলাকায় ঢোকার বিষয়টি এর মাধ্যমে কঠিন করে দিয়েছে– কিন্তু, সে তার হাত তুলল সতর্ক করতে, আমরা তো এখনও কথা বলছিলাম প্রফেসর পালাসিওসের বিষয়েই– যে বিষয়বস্তুর যিনি?      [ক্রমশ]

আরও পড়ুন

×