ইরাক যুদ্ধে বীভৎসতার সত্য খুঁজেছেন হেলেন বেনেডিক্ট
হেলেন বেনেডিক্ট
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ০৭:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইরাক যুদ্ধের ময়দানে কেবল শত্রুর গুলিবর্ষণই নয়, নারী সৈনিকদের লড়তে হয়েছে নিজেদের সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লালসার বিরুদ্ধেও। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ইরাকে কর্মরত নারী সৈনিকদের ওপর চালানো এই অমানবিক যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ এবং গণধর্ষণের লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে মার্কিন লেখক ও সাংবাদিক হেলেন বেনেডিক্টের লেখনীতে।
সম্প্রতি জেন চিয়াবাত্তারির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কেন তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার পর এবার কথাসাহিত্যের আশ্রয় নিয়ে এই যুদ্ধের অপ্রকাশিত গল্পগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছেন। ২০০৯ সালে প্রকাশিত হেলেন বেনেডিক্টের সাড়াজাগানো নন-ফিকশন বই ‘দ্য লোনলি সোলজার’ এবং পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালের তথ্যচিত্র ‘দ্য ইনভিজিবল ওয়ার’ ইরাক যুদ্ধে নারী সৈনিকদের ওপর অবিচারের বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন। হেলেন জানান, গবেষণার সময় তিনি দেখেছেন যুদ্ধের ভয়াবহতার চেয়েও সহকর্মীদের হাতে যৌন নিপীড়নের ট্রমা নারী সৈনিকদের বেশি বিদ্ধ করেছে। অনেক সময় ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়তেন কিংবা অপমানে চুপ হয়ে যেতেন। সেই নীরবতার মাঝেই লুকিয়ে ছিল যুদ্ধের আসল এবং নিষ্ঠুরতম গল্প।
হেলেন বেনেডিক্টের মতে, সামরিক সংস্কৃতি অত্যন্ত রক্ষণশীল। সেখানে মুখ খুললে সৈনিকদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেকেই লজ্জায় বা ভয়ে কথা বলতে পারেন না। কথাসাহিত্যের মাধ্যমে আমি সেই নীরবতা, চোখের জল আর রূপকের আড়ালে থাকা সত্যকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি, যাতে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে বিপদে না ফেলে পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া যায়। ইরাক যুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার যে ‘মুক্তির’ বয়ান তৈরি করেছিল, তাকে একপক্ষীয় ও প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন হেলেন।
হেলেন বেনেডিক্টের ‘রেপারেশন’ ট্রিলজির তিনটি উপন্যাস– ‘স্যান্ড কুইন’, ‘দ্য সোলজার্স হাউস’ ও ‘উলফ সিজন’ মূলত এই যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে লেখা। এখানে তিনি কেবল আমেরিকান সৈনিকদের নয়, বরং ইরাকিদের দৃষ্টিকোণকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘নায়েমা’ নামক এক ইরাকি মেডিকেল শিক্ষার্থীর জীবনযুদ্ধের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন যে, যুদ্ধ কখনও গ্ল্যামারাস বা গৌরবের নয়; বরং এটি ভিকটিম এবং আক্রমণকারী– উভয়কেই শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়।
- বিষয় :
- বই
