ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হৃতশূন্যতায় তুমি কোন্‌ অন্ধ কবি প্রাচীনতার গান গাইছো?

যে কালে, যে সম্পর্কস্রোতে কখনও বসবাস করিনি

যে কালে, যে সম্পর্কস্রোতে কখনও বসবাস করিনি
×

প্রচ্ছদ :: আনিসুজ্জামান সোহেল।। প্রচ্ছদ শিরোনাম: উৎপলকুমার বসুর কবিতার অংশ

মানস চৌধুরী

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ | ০৭:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

অতীতকাল আর ভবিষ্যৎকালের সাথে জটিল মায়াবী সম্পর্ক মানুষের। আর বর্তমানকালের সাথে মানুষের প্রতীতি ও প্রজ্ঞার সম্পর্ক নেই। হয়তো আছে কিছু একটা প্রতিবর্তিতার, কিন্তু বর্তমানকালটাই নেই। একেবারেই নেই। থাকে না। বর্তমান প্রায় অনস্তিত্বশীল। নিরন্তর বর্তমানকাল হারিয়ে যেতে থাকে। এমনকি ক্ষণকাল আগেই যা বর্তমানকাল ছিল, তা এখনই আর নেই। একমুহূর্ত আগের কালটিতেও আমরা আর থাকি না। বাহ্যিক বিচারে, এই পরিস্থিতিটা একটা গাণিতিক হেঁয়ালি। এমনকি পাটিগণিতের নয়, ক্যালকুলাসের হেঁয়ালি। এই হেঁয়ালিতে হিসেবি কিংবা প্রায়োগিক মন বিরক্ত হতে পারে। কিন্তু আরও গভীরে, আরও নিরিখ করে ভাবলে, বর্তমানকালের এই হারিয়ে যেতে-থাকাকে চেনাই বরং আরও গাঢ় যুক্তিশীল প্রসঙ্গ। যে কালটিকে, যে কালের কৃত কর্মগুলোকে পর্যালোচনা করা সম্ভব, পর্যালোচনার জন্য যা আর্কাইভড হয়ে গেছে, সেটাই অতীতকাল। যেমন নিমেষেই বর্তমানকাল হারিয়ে যায়, তেমনি নিমেষেই জন্মলাভ করে পর্যালোচনা:
–আহা, যদি সিঁড়িটার শেষ দুটো ধাপের দিকে ঠিকমতো চোখ দিতাম!
–ইশ্, যদি তখন কয়েকটা শেয়ার কিনে রাখতাম মুরগি মার্কা হ্যাচারির! 
–এহহে, যুবনেতারা যদি দেশের মধ্য থেকেই একজনকে বাছাই করতেন প্রধানকে! 
–আহা, যদি ০২ আগস্টের সেনাসভাটির কন্টেন্টেও নেত্রী একটু বুদ্ধিমান মনোযোগ দিতেন! 
এ রকম অজস্র, অবারিত, অসংলগ্ন। নিরন্তর, নিবিড়, নিরাময়হীন। সংশয়ী, সন্ত্রস্ত, সন্তপ্ত। চাইলে উপর্যুক্ত অনুভবমালাকে পর্যালোচনা বলতে পারেন। চাইলে বিলাপ বলতে পারেন। বর্তমান বিগত হতে না হতেই বিলাপে পর্যবসিত হতে থাকে। আকছার হয়। বিলাপই বর্তমানকে চিনবার সবচেয়ে কর্কশ অথচ স্পষ্ট অনুভূতি বলে মনে করি। এটা নিছক আমার ব্যক্তিত্বের কিংবা আমার ব্যক্তিক জীবনের মূল্যায়ন নয়। বর্তমানকালকে মনুষ্য সংমিশ্রণের অত্যন্ত সাধারণ একটা প্রবণতা হিসেবে দেখবার প্রস্তাব আমার। তাহলে কি গাণিতিক হেঁয়ালি কিংবা বিলাপের অবারিত অনুশীলনের বাইরে বর্তমানকালের আর কোনো রূপরেখা আমার কাছে নেই? আছে। আলবত আছে। বর্তমানকাল একটা প্রশাসনিক কাল। এমনকি প্রশাসিত কাল। অতীতকে প্রশাসন নিয়ে বিস্তর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ঘটেছে পৃথিবীতে। নিখিল দুনিয়ার বহু তাত্ত্বিকেরই একটা কেন্দ্রীয় মনোযোগের জায়গা অতীত কীভাবে প্রশাসিত হয়ে আসছে– অতীতের রূপনির্মাণ, গৌরবগাথার নির্মাণ, নতুন প্রশাসনের যৌক্তিকতা সরবরাহকারী হিসেবে ব্যাখ্যা নির্মাণ, জাতির হিংস্র দাবিনামা প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তিনির্মাণ এবংবিধ। নির্মাণ-বিনির্মাণের এসব ব্যাখ্যাকারী তাত্ত্বিকের মোটের ওপর ‘পোস্ট’ উপসর্গ দিয়ে এক কাতারে রাখবার চল আছে। বর্তমানকে প্রশাসনিক, এমনকি প্রশাসিত কাল বলবার মাধ্যমে আমি সেসব নির্মাণ/কনস্ট্রাকশনের যুক্তির রাস্তা নিইনি। আমার বলবার জায়গাটা হচ্ছে, বর্তমানকালকে প্রশাসনিক বর্ষপঞ্জিতে সবচেয়ে লাগসই অনুধাবন করা যায় বলে। যে কোনো দপ্তরেরই প্রজা আপনি। সেই প্রজাসত্তার অবধারিত একটা অনুশীলন হলো আপনি দপ্তরটিতে নথিভুক্ত হবেন। জন্মালে জন্মসনদ। আপনি এমনকি জন্মানোর পর অনেক বছর জানবেনও না যে কী অকথ্য পরিশ্রম করে আপনার মা-বাবা এই নথিটি তৈরি করছেন। বাংলাদেশের মতো ব্যুরোক্রেসি-উপদ্রুত রাষ্ট্রে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাবার একটা কাজ। গভীর এক বর্তমান কাল। এমন হতে পারে যে আপনার জন্মসনদটি তৈরি হয়েছে দাড়িমোচ গজানোরও বহুকাল পরে। তখন আপনার জন্মস্থানের একজন প্রশাসক লাগবে। যদিও এখন অবধি জন্মস্থান বানিয়ে বানিয়ে সুবিধাজনক প্রশাসনিক এলাকায় দেবার চর্চা আছে। না থাকলে সেটা আরেক অত্যাচার হতো। যেসব হতভাগা একটা জন্মসনদ পাবার আগেই মরে যান, তাদের আত্মীয়দের নাগালে পেয়ে এসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা আগে জন্মসনদ বানানোর উপায় বাতলে দেন। এমনকি উপায়টাও হয়তো ঠিকমতো বাতলান না। জন্মসনদ জোগাড় করে নিয়ে আসার হুকুম দেন। আমার শুরুর কথাগুলো যদি গাণিতিক হেঁয়ালি হয়েও থাকে, তাহলে এসব দপ্তরে গিয়ে হেঁয়ালির যে অর্থ তৈরি হবে, আমার প্রস্তাবটি তখন নগণ্য মনে হবে আপনাদের। 

যুক্তিবিচারে, সেই লোক মরে গিয়েও মরতে পারলেন না, যেহেতু তিনি যে জন্মেছেন তারই কোনো নথি নেই। সহজ আমলাতন্ত্র। ফলে, আমার তরফে এই প্রস্তাবটার মারাত্মক মেরিট আছে ধরে নেওয়াই আপনাদের জন্য উত্তম যে, প্রশাসনিক দুনিয়ায় বর্তমান কাল আছে। ধরা যাক, যদি আজকে আমি মরে যাই, তাহলে আমার পরিবার একটা ৫৭ বছরের বর্তমান কালকে হাড়েমজ্জায় আবিষ্কার করতে থাকবেন এই অফিসগুলোতে গিয়ে– পৌরকর্তার দপ্তর, ব্যাংক দপ্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দপ্তর, কবরখানা বা শ্মশানের দপ্তর, বীমার দপ্তর। আরও কিছু থাকতে পারে যা আমার মনে পড়ছে না। আর যখন সত্যিই এসবে অভিযান লাগবে তখন এসব মনে আমার পড়ার সুবন্দোবস্ত থাকবে না; লাগবেও না। মৃত আমিও তখন ঠিক স্মারকও নই, হতে পারিনি; বরং একজন সজীব প্রজা যার একটা বিরাট বর্তমান কাল আছে যে বর্তমানে বসবাস করেন আমার পরিবার-পরিজন। বর্তমানকে প্রশাসনিক কাল হিসেবে দেখলেই বরং আমরা বুঝতে পারব সাবেক প্রধান উপদেষ্টার ৫০ বছর ধরে প্রধান থাকবার বাসনাকে; কিংবা তাঁর ভক্তদের রাখবার বাসনাকে। কিংবা ধরা যাক, যদি ডাকসুর ভিপিকে ৫০ বা অন্তত পাঁচ বছর ধরেই ভিপি থাকাতে চান তাঁর ভক্তরা, তাঁর বর্তমান কালটা তাঁর নিজের জন্য বেখাপ্পা ধরনের অনারামদায়ক লম্বা হতে পারে। এবং আন্দাজ করা যায়, বর্তমান সরকারের জন্য ডাকসুর বর্তমান কাল ০৮ সেপ্টেম্বরের রাত্রি পার হতে দেবে না। নস্টালজিয়া এসব কর্কশ প্রজাভিজ্ঞতামূলক ব্যাকরণের ধার ধারে না। এর নাম অতীতচারিতা দিই, কিংবা স্মৃতি-বিধুরতা, বা স্মৃতি-কাতরতা, খুব বড়সড় কোনো বদল তাতে হবে না। অতীতকালের যে প্রজাটি কেবল একটা প্রশাসনিক বর্তমানকালেই ছিলেন, এবং তার বাইরে প্রতিটা বর্তমান মুহূর্ত যাঁর নিমেষেই অতীত হয়ে পড়েছিল, যে যাপিত মুহূর্তগুলো তিনি নিরন্তর বিলাপময় (বা হয়তো কখনও কখনও উল্লাসময়) পর্যালোচনা করতে থাকছিলেন, সেই প্রজাটির যাপিত জীবনের ওপর এ এক ধূসর মায়াবী আলোকপাত। মমতাময়, মায়ামাখা, মায়াবী। এমনকি প্রজাটি যখন খোদ নিজেই। কিন্তু নস্টালজিয়া কিছুতেই অতীতের আর্কাইভ নয়, আর্কাইভের একটা সক্রিয় ইন্টারপ্রিটেশন, অত্যন্ত সত্তাশ্রয়ী/সাবজেক্টিভ এক ব্যাখ্যা। এমনকি চিত্রহাজির প্রকল্প। আরামদায়ক কিংবা গৌরবময়, সংমিশ্রিত কিংবা সাফল্যের এক চিত্র-প্রক্ষেপণ প্রকল্প সেটা। ভাষার বিস্তারের মধ্য দিয়ে যার বিকাশ হয়। ভাষার প্রক্ষেপণ ছাড়া নস্টালজিয়াকে আমি গ্রাহ্য করি না। অর্থাৎ একজন মানুষ অতীতচারী হয়ে বুঁদ হয়ে ঘরের মধ্যে বসে আছেন যখন, তাঁর বিশেষণী নাম আপনি নস্টালজিক দিতে পারেন, কিন্তু আমার বিচারে তাঁর নস্টালজিয়ার কোনো সাহিত্য বা দর্শনগুরুত্ব নেই। আছে ঠিক তখন যখন তিনি তাঁর ভাষামাধ্যমে তাঁর অনুভবকে চিত্রিত করেন। এই প্রশ্নটা আমাকে নানান সময়ে ভাবাত: কেন আমার আত্মীয়দের মধ্যে যারা দেশান্তরী তাদের একাংশের স্মৃতি-বিধুরতা যেমন স্পষ্ট, আরেক অংশের তা নয় কেন। কেবল ব্যক্তিত্বের ভিন্নতাতে আমি পরিস্থিতিটাকে বুঝতে চাইনি। ব্যক্তিত্বের ভিন্নতা অবধারিত। একটা সময়ে আমি ফয়সালা করেছি, যাদের নস্টালজিয়া আছে তাদের বিলাপও আছে। ফেলে যাওয়া জমিটার জন্য, পুকুরঘাটটার জন্য, পুকুরের মাছগুলোর জন্য, সবুজ-হতে-থাকা জলরাজির জন্য, জলের মধ্যে পড়ে থাকা ফুলের রেণু কিংবা বৃক্ষপত্রের জন্য। তাঁর নিজের জন্য। আর যাঁর নেই তাঁর বিলাপই প্রায় নেই। যা আছে তা সংক্ষোভ, প্রদাহ; এমনকি ক্রূরতা, প্রতিহিংসা কিংবা জিঘাংসা। হতে পারে, একই মানুষের দুইটা সময়ের দুইটা ভাষ্যে দুইটা বিপরীত অনুভব বা মুডই পাচ্ছি। অতীতকালের সম্পর্কমালা ও সম্পদরাজির সাথে সম্বন্ধ হচ্ছে নস্টালজিয়ার পরিক্ষেত্র। উৎখাতের অভিজ্ঞতা, হুমকির অভিজ্ঞতা, হত্যাদৃশ্য দেখবার অভিজ্ঞতা, প্রহৃত হবার অভিজ্ঞতা যেসব ক্রূরতা আর নৃশংসতার অবভাস তৈরি করে সেখানে নস্টালজিয়াকে আমরা আবিষ্কার করি না। অবভাস, কারণ সত্যি সত্যিই কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা মেটানোর জন্য তিনি রওনা দিচ্ছেন না। এমনকি তৈরিই নন। নস্টালজিয়া তাই ক্রূরতার অবসানের পরের অধ্যায়। ধূসর মায়াবী অধ্যায়, ভাষাপ্রক্ষেপণের অধ্যায়। সেই প্রক্ষেপণে, ‘আমি’ কর্তাটা নিগ্রহের টার্গেট নয়, উদযাপনের উপলক্ষ। প্রহৃত প্রজা নয়, প্রসন্ন প্রতিপালনকারী। উন্মূল এক শরণার্থী নয়, উৎসুক এক অভিযাত্রী। চূড়ান্ত বিচারে, নস্টালজিয়া হলো কল্প-অতীত নির্মাণের অধ্যায়।
তাহলে বাসনা কোথায় স্থান পায়? কিংবা রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা? রাজনৈতিক অভিপ্রায় বা সংকল্প কি বাসনা বা আকাঙ্ক্ষার জন্ম দিতে পারে না? কিংবা নস্টালজিয়ার যে পরিচিত রূপটা আমরা সাহিত্যে পাই, সেখানে ব্যক্তিসমূহের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কোনো সম্পৃক্তি কি থাকে না? যেভাবে ভাবলাম, ক্রূরতার অবসানের পরই স্মৃতি-বিধুরতার কোমলতার উন্মেষ ঘটে, সেভাবেই কি রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাগুলোর সমাধি ঘটলেই ব্যক্তির স্মৃতি-কাতরতা উন্মুক্ত হতে শুরু করে? এই প্রশ্নগুলোতে আমি সরল মীমাংসার পক্ষে নই। আমি প্রগাঢ়ভাবে মনে করি, এখানেই ব্যক্তির প্রস্তুতি তথা ব্যক্তিত্ব মুখ্য হয়ে ওঠে। যখন কেউ শৈশব-কৈশোরের প্রভাতফেরির গল্প বলেন, হয়তো কোনো এক মফস্বল শহরের, মধ্যরাতে ফুল সংগ্রহ, কিংবা বাসায় বাসায় গিয়ে সাথিদের ডাকা, তারপর একটা হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে শহীদ মিনারের দিকে গান গাইতে-গাইতে যাওয়ার গল্প, তখন তিনি বা তারা, কথকেরা নিছক একটা স্মৃতিচিহ্নের ব্যাখ্যা করেন না। নাও করতে পারেন, তাদের সেই স্মৃতি-কাতরতা নাগরিক অঞ্চলে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের সাংস্কৃতিক চিহ্নগুলোর নতুন এক অনুসন্ধান হিসেবে পাঠ করা লাগতে পারে। পাঠ করা প্রয়োজন। আরও বিশেষে প্রয়োজন, যখন সেই সাংস্কৃতিক চিহ্নগুলোর বিনাশ ঘটানোর শত্রুপক্ষ তারা আবিষ্কার করতে থাকেন প্রতিনিয়ত। যখন কেউ তেভাগা আন্দোলনের কোনো বীরগাথা বলেন, কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো মাওপন্থি কিংবা মার্ক্সবাদী লড়াইয়ের গল্প বলেন, তখন তাকে কেবল কথকের বীরত্বের-গৌরবের একটা প্রক্ষেপণ হিসেবে না দেখে বরং যে-লড়াই আগামীর রাষ্ট্ররচনায়ও তিনি আকাঙ্ক্ষা করেন তার একটা ম্যানিফেস্টো হিসেবে পাঠ করবার প্রয়োজন আছে। যে কথক সেই পুরোহিত বা ইমামের স্নেহপরায়ণতার গল্প বলছেন যিনি তাদেরকে মধ্যরাতে গোপনে আশ্রয় দিয়েছিলেন, সেই কথক তখন আন্তঃবর্গ বৃহত্তর সামাজিক সংহতির স্বপ্নদ্রষ্টাও বটেন। আর সকল কথকই প্রকাণ্ড সব সাহিত্যিক। 
সাহিত্যের নস্টালজিয়া বা স্মৃতি-বিধুরতা, তাই, কল্প-অতীতের গল্পে পর্যবসিত হতে পারে যেমন, তেমনি পারে এক প্রগাঢ় ভবিষ্যৎ-দর্শন হতে। মনুষ্য-সম্পর্কের শক্তিশালী বনিয়াদ রচনার এক অমোঘ ইশতেহার। 

আরও পড়ুন

×