ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গল্পের আড়ালের ও. হেনরি

গল্পের আড়ালের ও. হেনরি
×

ও. হেনরি [সেপ্টেম্বর ১১, ১৮৬২–জুন ৫, ১৯১০]

ভাষান্তর: আহসানুল করিম

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ববরেণ্য কথাশিল্পী ও. হেনরি সচরাচর সাক্ষাৎকার দিতেন না। তারপরও যে গুটিকয়েক কথোপকথন তিনি পত্রিকার সঙ্গে করেছেন তার একটি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে ৪ এপ্রিল, ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়। দুর্লভ এই সাক্ষাৎকারের ভাষান্তর

আমেরিকার ছোটগল্পের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় এক নাম ও. হেনরি। আসল নাম উইলিয়াম সিডনি পোর্টার। সাধারণ মানুষের জীবন, শহরের আটপৌরে দিনের ছোটখাটো আশা-হতাশা, রসবোধ আর আকস্মিকতা তাঁর গল্পের প্রধান বিষয়। ‘দ্য গিফট অব দ্য ম্যাজাই’, ‘দ্য লাস্ট লিফ’ কিংবা ‘দ্য কপ অ্যান্ড দি অ্যান্থেম’-এর মতো গল্প তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছে। অথচ যে মানুষ এত মানুষের গল্প লিখেছেন, নিজের গল্প বলতে তাঁর ছিল অদ্ভুত অনীহা।
নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে ও. হেনরি খুব কমই মুখ খুলতেন। তাঁর আসল পরিচয়, অতীত কিংবা লেখক হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে তাই নানা কাহিনি ছড়িয়ে পড়েছিল। কোথাও তিনি গরু চোর, কোথাও খনি শ্রমিক, কোথাও টিনটাইপ আলোকচিত্রী। মানুষটির সাক্ষাৎকার নিতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদক পাঁচ সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রকাশকের সহায়তায় ম্যাডিসন স্কয়ারের কাছে তাঁর কাজের জায়গায় পৌঁছে যান। নিজের কথা বলার আগে ও. হেনরি শেষ চেষ্টা হিসেবে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁর বদলে শেকসপিয়ার নিয়ে কথা বললে কেমন হয়। কিন্তু প্রতিবেদক ছিলেন নাছোড়বান্দা। 
সাক্ষাৎকারের এই ঈষৎ সংক্ষেপিত সংস্করণে ১৯০৯ সালে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত সেই কথোপকথনের মূল সুর ও রসবোধ অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।
‘আমার একটা চিত্র পাঠকের সামনে দাঁড় করাতে দয়া করে লিখবেন, আমি দেখতে একজন সুস্থ-সবল কসাইয়ের মতো। শুধু এটুকুই, কোনো বাড়তি অলংকার দরকার নেই।’
প্রতিবেদকের চোখে ও. হেনরি ছিলেন খাটো, গাট্টাগোট্টা, চওড়া কাঁধের, লালচে মুখের এক সুস্থ-সবল মানুষ। প্রচলিত সাহিত্যিক ভাবগাম্ভীর্যের ছাপ তাঁর চেহারায় ছিল না। বরং তাঁর কথাবার্তায় ছিল অনবরত রসিকতা। আর সেই রসিকতার আড়ালে মাঝেমধ্যে বেরিয়ে আসছিল নিজের জীবনের গল্প।
সাক্ষাৎকারের শুরু থেকে বোঝা যায়, নিজের সম্পর্কে ও. হেনরির অনীহা নিছক লাজুকতা ছিল না। তিনি যেন নিজের চারপাশে তৈরি হওয়া রহস্যটাকেও খানিক উপভোগ করতেন। প্রতিবেদক যখন তাঁর চেহারার বর্ণনা লিখতে চান, তিনি নিজেই বলে দেন তাঁকে যেন ‘সুস্থ-সবল কসাইয়ের মতো’ লেখা হয়, এর বেশি কিছু নয়। সত্যি কথা বলার সময় তাঁর মুখে-চোখে হাসি ফুটত, আর যখন এমন কিছু বলতেন, যা শুনে সন্দেহ হতো তিনি হয়তো ঠাট্টা করছেন, তখন মুখ থাকত একেবারে গম্ভীর। ফলে তাঁর কথার কোথায় আত্মজীবনী, কোথায় রসিকতা–সেই সীমারেখাটাও সব সময় স্পষ্ট ছিল না।
‘আপনি নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন,’ মনে করিয়ে দিলেন প্রতিবেদক।

ও. হেনরি প্রথমেই তাঁকে ঘিরে ছড়িয়ে থাকা গল্পগুলো যে সত্যি নয়, তা পরিষ্কার করলেন। গরু চোর ছিলেন না, খনিতে কাজ করেননি, টিনটাইপ আলোকচিত্রীও ছিলেন না। পিটসবার্গের এক পত্রিকা লিখেছিল, ভবঘুরের বেশে তিনি তাদের অফিসে গিয়ে লেখা বিক্রি করতে চেয়েছিলেন এবং শেষে এক ডলার ধার করেছিলেন। খবরটি দেখে এক বছর পর তিনি নাকি পিটসবার্গে গিয়ে সম্পাদককে বলেছিলেন, ‘মশাই, আপনাকে পেটাব বলে এসেছি।’ 
সম্পাদক জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘গল্পটা কিন্তু জম্পেশ ছিল, কী বলেন?’ ও. হেনরি স্বীকার করেছিলেন, গল্পটা সত্যিই মজার। সেদিন মারামারির বদলে দুজন একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন।
‘এ পর্যন্ত নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন, সবই তো নেতিবাচক। মানে আপনি কী ছিলেন না, সেসব কথা। এবার কী কী ছিলেন, তার কিছু বলবেন কি?’ প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করলেন।
‘আচ্ছা, হ্যাঁ, আমি জন্মেছিলাম… শুরু করার জন্য এটাই আদর্শ… নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিন্সবরোতে।’
‘আপনার বয়স কত, যদি প্রশ্নটা খুব স্পর্শকাতর না হয়?’
‘হিসাব করি তবে: আমার জন্ম ১৮৬৭ সালে।’ লেখক একটা পেন্সিল বের করে এক টুকরো কাগজে হিসাব করলেন। ‘তাহলে আমার বয়স হয় ৪২, প্রায় ৪৩। ৪২ লিখবেন কিন্তু। আর আমার পূর্বপুরুষদের বিষয়ে বলতে গেলে তাদের মধ্যে কয়েকজন এই রাজ্যের গভর্নর ছিলেন।’
‘কলেজে পড়েছিলেন?’
‘না। লেখালেখির কাজে নামার সময় এই একটি ঘাটতি আমার ছিল। খুব অল্প বয়সে টেক্সাসে চলে গিয়েছিলাম। এই যাত্রার কারণ ছিল স্বাস্থ্যের দুর্বলতা, পকেটের নয়। বিখ্যাত রেঞ্জার লি হলের র‍্যাঞ্চে আড়াই বছর ছিলাম। তিনি আমাদের পরিবারিক বন্ধু ছিলেন। তাঁর র‍্যাঞ্চে আমি অতিথি হিসেবে থাকতাম। গবাদি পশুর ব্যবসা শিখছিলাম। ভেবেছিলাম এটাকেই পেশা হিসেবে নেব। এ রকম এক সময়ে অনাবৃষ্টি দেখা দিল, চারণভূমি শুকিয়ে গেল। আমিও গরু-ভেড়া পালনের কাজ ছেড়ে দিলাম। কাউবয় কিংবা ভেড়ার রাখাল হওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি আমি ঐটুকুই গিয়েছিলাম।’
‘তারপর কী করলেন?’ জিজ্ঞেস করলেন প্রতিবেদক, কারণ ও. হেনরি এমনভাবে চুপ করে গিয়েছিলেন যেন তাঁর পুরো জীবনকাহিনি বলা হয়ে গেছে।
‘তারপর? তারপর ‘দ্য হিউস্টন পোস্টে’ চাকরি পেলাম। আমার দায়িত্বে একটি দৈনিক কলাম ছিল, যার জন্য সপ্তাহে ১৫ ডলার পেতাম। দুই সপ্তাহের মধ্যে আমার বেতন পাঁচ ডলার বাড়ল, আর তার দুই সপ্তাহ পর হয়ে দাঁড়াল সপ্তাহে ২৫ ডলার। তখন আমার কাছে সেটা বেশ মোটা বেতন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু একদিন সম্পাদক আমাকে বললেন: ‘বাছা, পাঁচ বছরের মধ্যে নিউইয়র্কের কোনো সংবাদপত্রে তুমি সপ্তাহে ১০০ ডলার আয় করবে।’
“এই কাজের জন্য আমার প্রস্তুতি কী ছিল? একটা একাডেমির শিক্ষা আর বই। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে আমি যত বই পড়েছি, তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সব বছর মিলিয়েও সম্ভবত তত পড়িনি। আর তখন আমার রুচিও অনেক ভালো ছিল। শুধু ক্ল্যাসিক পড়তাম। বার্টনের ‘অ্যানাটমি অব মেলানকলি’ আর লেনের ‘আরব্যরজনী’ ছিল আমার প্রিয় বই।”
হিউস্টনে থাকার সময় লেখালেখির পাশাপাশি ছবি আঁকার আগ্রহও ছিল তাঁর। পরে একটি ব্যর্থ পত্রিকার প্রেস কিনে নিজেই সাপ্তাহিক গল্পের কাগজ শুরু করেন। লিখতেন, অলংকরণও করতেন। পত্রিকার নাম হয়েছিল ‘দ্য রোলিং স্টোন’। বছরখানেক পর সেটি বন্ধ হয়ে গেলে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলেছিলেন, পত্রিকাটির গায়ে শ্যাওলা ধরতে শুরু করেছিল, আর শ্যাওলার সঙ্গে তাঁর কোনোদিন সখ্য ছিল না। তাঁর জীবনের নানা ব্যর্থতা নিয়েও এই হাস্যরস সাক্ষাৎকারের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
এরপর আসে সেন্ট্রাল আমেরিকায় ফলের ব্যবসার ব্যর্থ চেষ্টা, টেক্সাসে ফিরে ওষুধের দোকানে চাকরি, আবার সব ছেড়ে নিউ অরলিন্সে যাওয়া। সেখানেই তিনি লেখালেখিকে সত্যিকার অর্থে পেশা হিসেবে নিতে শুরু করেন। দেশের নানা সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে গল্প পাঠাতেন। প্রত্যাখ্যান হতো, আবার সেই গল্পেই নতুন ডাকটিকিট লাগিয়ে অন্য ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতেন। তাঁর ভাষায়, ‘দ্য এমানসিপেশন অব বিলি’ ১৩ বার ফেরত এসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাপা হয়েছিল।
নিউ অরলিন্সেই জন্ম নেয় ‘ও. হেনরি’ নামটি। এক বন্ধুর সঙ্গে সংবাদপত্রের সোসাইটি পাতায় বিশিষ্ট লোকদের নাম দেখতে গিয়ে তাঁর চোখে পড়ে ‘হেনরি’। ছোট একটি প্রথম নাম চাইছিলেন; বন্ধুর পরামর্শে শুধু একটি আদ্যাক্ষর রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর নিজের কথায়, ‘ও অক্ষরটা লেখা বোধহয় সবচেয়ে সহজ। তাহলে ও-ই থাকুক।’ পরে এক পত্রিকা জানতে চাইলে মজা করে বলেছিলেন, ও মানে ওলিভিয়ের, ওলিভারের ফরাসি রূপ।
নিউইয়র্কে আসার পর তাঁর গল্পের দাম দ্রুত বাড়ে। একসময় যে গল্পের জন্য ৭৫ ডলার পেলে খুশি হতেন, সেই গল্পের জন্য পরে ৭৫০ ডলার পেতেন। সম্পাদকদের নিয়েও তাঁর রসিকতা ছিল। শব্দপ্রতি পাঁচ সেন্ট পাওয়া অবস্থায় একবার সাহস করে দশ সেন্ট চেয়েছিলেন। সম্পাদক সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। ও. হেনরির মন্তব্য, ‘তিনি মনে হয় শুধু আমার চাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।’
‘তরুণ লেখকদের আপনি কী পরামর্শ দেবেন?’
‘তাদের জন্য ছোটগল্প লেখার পুরো রহস্য বলে দিচ্ছি। সেটা হলো: এক নম্বর নিয়ম–এমন গল্প লেখো, যা তোমার নিজের পড়তে ভালো লাগে। দুই নম্বর আর কোনো নিয়ম নেই। কারিগরি বিষয়গুলো ব্লিস পেরির কাছ থেকে শিখতে পারবে। তুমি যদি এমন একটি গল্প লিখতে না পারো, যা তোমার নিজের ভালো লাগে, তাহলে জনসাধারণকেও কখনও সন্তুষ্ট করতে পারবে না। কিন্তু লেখার সময় পাঠকের কথা ভুলে যাও।’
‘লেখার টেবিলে বসার আগেই পুরো গল্প আমি মাথার মধ্যে সম্পূর্ণ তৈরি করে নিই। তারপর দ্রুত লিখে ফেলি। এবং কোনো সংশোধন না করে সম্পাদকের কাছে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিই। এভাবে আমার গল্পগুলোকে ঠিক সেইভাবে বিচার করতে পারি, যেভাবে পাঠকেরা বিচার করে। ছাপার পরে এমন গল্পও দেখেছি, যা নিজের লেখা বলে চিনতেই পারিনি।’
‘হ্যাঁ, আমার লেখায়ও খরা আসে। কখনও কখনও তিন মাস পর্যন্ত কিছুই লিখতে পারি না। এ রকম সময় এলে লেখার চেষ্টা বন্ধ করে দিই এবং বাইরে গিয়ে বাস্তব জীবনের খানিকটা দেখে আসি। কেবল লেখার টেবিলে বসে চিন্তা করতে করতে এমন কোনো গল্প লেখা যায় না, যার ভেতর জীবন আছে। রাস্তায় বেরোতে হবে, মানুষের ভিড়ে মিশতে হবে, লোকের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং বাস্তব জীবনের ছুটে চলা আর স্পন্দন অনুভব করতে হবে। এগুলোই তো উদ্দীপনা জোগায় গল্পকারকে।’
“নিউইয়র্কে প্রথম যখন এসেছিলাম, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে প্রচুর সময় কাটাতাম। তখন এমন সব কাজ করতাম, যা এখন করার কথা ভাবতেও পারি না। দিনরাত যে কোনো সময়ে নদীর ঘাট ধরে হাঁটতাম, হেল’স কিচেন-এর ভেতর দিয়ে বাওয়ারি ধরে সব রকমের জায়গায় ঢুকে পড়তাম। যে-ই আমার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হতো, তার সঙ্গেই কথা বলতাম। জীবনে এমন একজন মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, যার কাছ থেকে কিছু শেখা যায় না। এমন কোনো না কোনো অভিজ্ঞতা মানুষের থাকে, যা আমার নেই। মানুষ তার নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীকে দেখে। ঠিকভাবে এগোতে পারলে সম্ভাবনা খুবই বেশি যে তার কাছ থেকে মূল্যবান কিছু বের করে আনা যাবেই। তবে যা-ই করো, পেন্সিল আর নোটবুক বের করে ঝলক দেখিয়ো না। হয় সে মুখ বন্ধ করে দেবে, নয়তো সে হল কেইন হয়ে উঠবে।’
“লোকে বলে আমি নাকি নিউইয়র্ককে খুব ভালো চিনি। আমার নিউইয়র্কের কোনো একটি গল্পে ২৩ নম্বর সড়কের জায়গায় প্রধান সড়ক বসিয়ে দিন, ফ্ল্যাট আয়রন দালানের নাম মুছে দিয়ে টাউন হল বসান। দেখবেন নিউইয়র্ক শহর থেকে দূরে উত্তরের যে কোনো শহরের ক্ষেত্রেও গল্পটি ঠিক একইভাবে খাপ খেয়ে যায়। অন্তত আমি আশা করি, আমার গল্প সম্পর্কে এমন কথা বলা যায়। গল্পে মানুষের আসল চরিত্র আর মনস্তত্ত্ব সঠিকভাবে ফুটে উঠলে, কেবল পটভূমি বা শহরের নাম বদলে দিলে উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ কিংবা পশ্চিমের যে কোনো শহরের সঙ্গে সেটিকে মানিয়ে নেওয়া যায়। তোমার চোখ যদি দেখতে জানে, তবে সে চোখ উঁচু টুপি, পরিপাটি কোট আর ট্রলি-গাড়ির বাহ্যিকতা উপেক্ষা করেও দেখতে পারে, আর তাহলে দুপুরবেলা ব্রডওয়ে ধরে আসা-যাওয়া করা মানুষের ভিড়ের মধ্যে ‘আরব্যরজনী’র সব চরিত্রকে পেয়ে যাবে।”
আর এখন কি দয়া করে অপেক্ষমাণ দুনিয়াকে এই খবরটি প্রকাশ করবেন যে মি. ও. হেনরি এখন আশাবাদী মেজাজে আছেন কিনা? ভবিষ্যতে আরও চমৎকার কিছু উপহার দেবেন বলে আশা রাখছেন কিনা? ঘোষণা করার মতো কোনো পরিকল্পনা আছে?’
‘হ্যাঁ, বলতে পারেন, আমি এখন আমার প্রথম উপন্যাস নিয়ে কাজ করছি। এই শরতে এটি প্রকাশিত হবে। এই প্রসঙ্গে আমার কথা উদ্ধৃত করে বলতে পারেন যে এটি ভালো উপন্যাস হতে যাচ্ছে। লেখার শৈলীর প্রতি আমার সব সময়ই একটা বিশেষ টান ছিল। এই উপন্যাসে সেদিকে আমি বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছি, সেই সঙ্গে চরিত্র ও কাহিনির দিকেও। আসলে একটি উপন্যাসের অপরিহার্য উপাদান তো এগুলোই। পৃথিবীকে জানিয়ে দিন, এই উপন্যাসের পেছনে মানুষ যে দেড় ডলার খরচ করবে, সেই টাকা ষোল আনা উশুল হবেই হবে।’ 

আরও পড়ুন

×