ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পদাবলি

পদাবলি
×
×

অলংকরণ:: আনিসুজ্জামান সোহেল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

শূন্যতা 
মারুফুল ইসলাম

তুই কি আমার স্বপ্ন
আকাশসেচা বাদলধারায় যখন ভেসে যায় পৃথিবী
আর পাগলা হাওয়ায় উড়ে যায় দক্ষিণের বাগান

পথ কি শেষ হয়
ডানায় নিসর্গের রং আর ঘ্রাণমাখা পাখির উড়ালে
কিংবা অকারণ মন যদি হয় ফেরারি

রাত কি জেগে থাকে
যদি তুই না থাকিস একাকিত্বের প্রান্তে
বাঙ্ময় নীরবতায়

পদে পদে আবাল‍্য চোরকাঁটা
তবু ছাড়ি ঘর
তবু পায়ে পায়ে চলার চঞ্চলতা
পূর্ণতার পরিধি আছে – শূন্যতার নেই

 

রোজ অব শ্যারন
কুমার চক্রবর্তী

তোমার পেয়ালা পেলে মদও মাতাল হয়ে ওঠে
পাখি  হয়  উড়ে-যাওয়া-গান, পতঙ্গরা
নির্বিষ এ সন্ধ্যায়,  চায়, আকাশ-বাগান।

তোমার  নৌকাটি পেলে সমুদ্রে জাহাজডুবি কমে 
নাবিকেরা বন্দরে  বন্দরে, নিয়ে ছোটে আহ্বান
তোমার সুরটি পেলে বৃক্ষরাও গেয়ে ওঠে ইমন কল্যাণ।

 হোক এ সন্ধ্যা শুদ্ধ-কল্যাণ, তবু  মুগ্ধ হও,  মন
তোমার ডানায় আজ লুকিয়ো না আবেহায়াতের ধন,
যতটুকু পারো দিতে, তা-ই দিয়ে যাও জীবনের অশ্রুখেতে
একদিন অশ্রুফল  ছড়াবে সৌরভ, চারিভিতে!

এ সন্ধ্যায় ভিতরেবাহিরে জাগে মৃত্যুবোধ, নগ্ন আবরণ
মৃত্যুর সৌন্দর্য হলো  ছেয়ে-থাকা কবরের ঘাস , তবু
মৃতকে ঘিরেই এই জীবনের ক্ষণ, এই —- রোজ অব শ্যারন।


তোমার দৃষ্টিকে পেলে, ঘটে দৃষ্টিদান
আমি তাসকানি মদ, তোমার দৃষ্টির স্পর্শে
জেগে উঠি মাতাল সমুদ্র এক, ডুবতে প্রস্তুত থাকি
সমগ্র জাহাজটি নিয়ে  আমি এক মাতাল নাবিক,
নিশীথের  পেয়ালায় একটি উষ্ণতা হয়ে
এক ফোটা সুখ হয়ে আজিকার উপেক্ষার বরবাদে
ঘটবে কি নিশি অবদান!

 

পথের মধ‍্যে মুখোশ খুলে গেছে
তমাল লাহা

নির্মম; ও কিছুটা বাচাল। 
আর বাকি অংশে নির্বোধ মুখোশের ভালো।

গোল গোল আলো ফেলে  
অন্ধকারে মাঝে মাঝে দেখে নিচ্ছে কেউ
আগুনের গনগনে শিখাগুলো কোথায় হারাল?

কার এত ফালতু সময়?
নির্মম, এতক্ষণ চুপি চুপি সেইসব নির্দয়
কথা বলে রেখেছে নিশ্চয়?

তাহলে কীসের এত ভয়? কেন এ বিস্ময়!
কেন, মনে মনে করে নিচ্ছ সমস্ত নির্ণয়?

 

ভয়
জুনান নাশিত

কাগজে ভয়ের চিহ্ন অক্ষরে অক্ষরে আঁকা

বৈঠাহীন নৌকার গুলুই
তাতে বসে থাকো
ঢেউ গোন, সাবলীল।

অবিমিশ্র ক্ষোভে পথ চলি নতুন করে
জীবন ওড়ে লাল নীল চক্রাকারে 
তাকে থামিয়ে দেবে?
ডাহুক নদীর বুকে একাকী দু’হাত
মায়াবী মৃত্যুর মতো ডাকে 
বলে, আয় আয় ।

কোথাও পারি না যেতে
বসে থাকি মহানন্দা পাড়ে
কুণ্ডলী পাকানো অন্ধকারে।

ধীরে পথ মুছে যায়
জলে ও শরীরে বাড়ে 
নীরবে নিশ্চিন্তে 
কতোশতো অহল্যার ক্ষত।

আরও পড়ুন

×