ভাঙা আস্থার ব্যাংকিং
২০২৫-এর পাঠ, ২০২৬-এর পরীক্ষা
ব্যাংকিং
আশানুর রহমান
আশানুর রহমান
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫৩ | আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
আয়নার বছর
কিছু বছর আসে ঝড়ের মতো। আওয়াজ করে, এরপর ধুলো উড়িয়ে চলে যায়। আবার কিছু বছর আসে আয়নার মতো। নীরবে সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, পালানোর পথ বন্ধ করে দেয়। ২০২৫ সাল বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের জন্য তেমনই এক আয়নার বছর। এই আয়নায় আমরা শুধু ব্যালান্স শিটের অঙ্ক দেখিনি; দেখেছি মানুষের উদ্বেগ, উদ্যোক্তার দ্বিধা, আর দীর্ঘদিনের অবহেলায় জমে থাকা ক্লান্তি।
এই বছর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে যে ব্যাংকিং ও অর্থনীতি আলাদা কিছু নয়। তারা একই শরীরের দুই অঙ্গ। একটির দুর্বলতা অন্যটিকেও কাঁপিয়ে দেয়। ২০২৫ সালে এই রক্তপ্রবাহ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে খেলাপি ঋণের জমাটে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কাঁপুনিতে, আর আস্থাহীনতার নিঃশব্দ আতঙ্কে।
অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি; স্বচ্ছন্দেও হাঁটেনি। প্রবৃদ্ধি কমেছে, বিনিয়োগ থেমেছে, সিদ্ধান্ত পিছিয়েছে। ‘এখন না’, এই অপেক্ষার বাক্যই হয়ে উঠেছে সময়ের প্রতীক। ব্যাংক ঝুঁকি নিতে ভয় পেয়েছে, উদ্যোক্তা সাহস হারিয়েছে। ফলে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বাস্তবতা– টাকা আছে, কিন্তু কিছুই চলছে না।
২০২৫ আমাদের শিখিয়েছে যে বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত কেবল সুদের হিসাব নয়। এটি আস্থার সিদ্ধান্ত। আর সেই আস্থাই ছিল বছরের সবচেয়ে বড় সংকট।
খেলাপি ঋণ
খেলাপি ঋণকে আমরা প্রায়ই অর্থনৈতিক ব্যর্থতা বলে ভুল করি। কিন্তু ২০২৫ দেখিয়েছে যে এটি আসলে প্রাতিষ্ঠানিক সংকট। বছরের শুরুতে খেলাপি ঋণ যেখানে ছিল প্রায় ৪.২০ লাখ কোটি টাকা, বছর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৪৪ লাখ কোটিতে। এটি একটি দীর্ঘ অবনতির নগ্ন চিত্র।
এই বোঝা কোনো দুর্ঘটনার ফল নয়। রাজনৈতিক প্রভাব, স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ঋণ, দুর্বল তদারকি ও নিয়মের শিথিল প্রয়োগ; এসব মিলেই খেলাপি ঋণকে কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত করেছে। এর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো ন্যায্যতার ক্ষয়। যখন মানুষ দেখে নিয়ম মানা শাস্তির মতো, আর নিয়ম ভাঙা লাভজনক, তখন ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আস্থা ভেঙে পড়ে।
এর সামাজিক প্রভাবও গভীর। বড় খেলাপির চাপ সামলাতে গিয়ে ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয় না। ফলে বিনিয়োগ থেমে যায়, কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়। সৎ ঋণগ্রহীতার মনেও তখন প্রশ্ন জাগে, নিয়ম মানার কী মানে? ২০২৫ আমাদের শিখিয়েছে, খেলাপি ঋণ কমানো মানে শুধু অঙ্ক কমানো নয়। এর মানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও সামাজিক ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনা। তা না হলে কোনো সংস্কারই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আস্থার ভাঙা সেতু
ব্যাংকিং ব্যবস্থার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ কোনো করপোরেট ঋণগ্রহীতা নয়; এটা আমানতকারী, বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা। ২০২৫ সালে এই মধ্যবিত্তরাই সবচেয়ে বেশি দোলাচলে ছিল। শিরোনাম, গুজব ও ব্যাংক একীভূতকরণের খবর মিলিয়ে মানুষের মনে তৈরি হয়েছে এক ধরনের স্থায়ী ভয়; যা অর্থনৈতিক নয়, মানসিক।
মধ্যবিত্তের কাছে ব্যাংক কেবল টাকা রাখার জায়গা নয়; এটি জীবনের নিরাপত্তা। তাই ক্যাশ সংকট বা ব্যাংকের স্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই সেই নিরাপত্তায় ফাটল ধরে। অনেকেই প্রয়োজনের আগেই টাকা তুলেছেন– ভয় থেকে।
এই ভয় বাজারে ছড়িয়েছে। খরচ কমেছে, সিদ্ধান্ত পিছিয়েছে, বিনিয়োগ থেমেছে। মধ্যবিত্ত সতর্ক হলে অর্থনীতি সংখ্যায় নয়, মনস্তত্ত্বেও ধীর হয়ে পড়ে।
এখানেই ব্যাংক আর বাস্তব জীবনের ফাঁকটা স্পষ্ট। কাগজে ব্যাংক মানে মূলধন আর মুনাফা; জীবনে ব্যাংক মানে বেতন, নগদ প্রবাহ আর সঞ্চয়ের নিরাপত্তা। এই দূরত্ব বাড়লেই আস্থা ভাঙে। এই অস্থিরতার মাঝে রেমিট্যান্স ছিল নীরব ভরসা। প্রবাসী আয়–গ্রাম থেকে শহর সবখানেই জীবনকে সচল রেখেছে। ব্যাংকের আমানত ধরে রাখতেও সাহায্য করেছে। ২০২৫ আরও শিখিয়েছে যে ব্যাংকিংয়ে আস্থা ফেরানো মানে শুধু নীতি নয়। এর মানে মানুষের ভয় কমানো, ব্যাংককে আবার জীবনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী করা।
তারল্য, সুদহার ও আমানত
২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতের চিত্রটা ছিল এমন যে, নৌকা মাঝ নদীতে, কিন্তু মাঝির হাত কাঁপছে। বাইরে সব স্বাভাবিক। শাখা খোলা হচ্ছে, কাউন্টার চলছে। ভেতরের বাস্তবতা কঠিন। অর্থের দাম বেড়েছে, বিশ্বাসের দাম আরও বেশি। কড়াকড়ি মুদ্রানীতিতে সুদহার বাড়লে ব্যাংক পড়ে দুই ধরনের চাপে। ঋণের চাহিদা কমে, আমানত ধরে রাখতে সুদের হার বাড়াতে হয়। কাগজে মার্জিন টিকে থাকলেও ঝুঁকি বাড়ে বাস্তবে।
২০২৫ সালে আমানত ছিল সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা। মধ্যবিত্ত ভয় পেলে টাকা তোলে না, টাকা সরিয়ে নেয়। ডিপোজিট নড়বড়ে হয়, শুরু হয় সুদের প্রতিযোগিতা।
তারল্য সংকট অনেক সময় সংখ্যায় নয়, আচরণে জন্মায়। ক্যাশ থাকলেও ‘আগামীকাল আসুন’ শোনা মানেই গুজব। ২০২৫ দেখিয়েছে যে সামান্য অসুবিধাই আস্থার বড় ক্ষত। ব্যাংক তখন শুধু অর্থ নয়, ভয় সামলায়। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে এই কাঁপুনি আরও তীব্র ছিল। ব্যাংক একীভূতকরণ ছিল তাই একটা বার্তা। বার্তাটা এমন যে সমস্যা আর গোপন নয়, প্রকাশিত। এখন চিকিৎসা চলছে। সফলতা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের ওপর। ২০২৫ সালে ব্যাংকের টাকার ঘাটতি ছিল না; ঘটতি ছিল ভরসার। আর ভরসা কমলে টাকা থাকলেও গতি থাকে না, অর্থনীতি তখন থেমে যায়।
প্রভিশনিং, মূলধন ঘাটতি
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরে ক্ষত ঢেকে রেখেছে। ২০২৫ সালে প্রথমবার স্পষ্ট হয়েছে যে মেকআপে রোগ সারে না। তাই সামনে এসেছে প্রভিশনিং, মূলধন ঘাটতি ও অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর)-এর কঠিন সত্য। খেলাপি ঋণ বাড়লে আয় শুধু কমে না, অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রভিশন মানে আজই ভবিষ্যৎ ক্ষতির দায় স্বীকার করা। এই সত্য এড়িয়েই এতদিন ক্ষত পচেছে। একিউআর সেই পচা জায়গাটাকে দিনের আলোয় আনে। এতে স্বল্প মেয়াদে দুর্বলতা প্রকাশ পায়, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে আস্থা ফেরে। কারণ বাজার ভুল ক্ষমা করে, গোপন করা নয়। মূলধন ঘাটতি রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দুর্বল ব্যাংকের সামনে তিনটি পথ– নতুন মূলধন, পুনর্গঠন বা রেজল্যুশন। কিন্তু যে পথই হোক, দায় নির্ধারণ ছাড়া সংস্কার দাঁড়ায় না। শেষ কথা একটাই। ব্যাংক সংস্কার মানে শুধু ব্যাংক বাঁচানো নয়, অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ বাঁচানো। ব্যাংক বিশ্বাসযোগ্য না হলে সে রক্তনালি নয়, নিজেই হয়ে ওঠে দেহের অসুখ।
রিটেইল-এসএমই-ডিজিটাল
২০২৫ সালে বড় বড় অঙ্কের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া একটি সত্যও আছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধরে রাখে ক্ষুদ্র উদ্যোগ, ক্ষুদ্র আমানত, ক্ষুদ্র লেনদেন। এসএমই, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিটেইল গ্রাহক; এদের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হলে অর্থনীতি শুধু থামে না, সমাজও থেমে যায়। কিন্তু ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমাতে গিয়ে অনেক সময় এই খাতেই সবচেয়ে বেশি সংযত হয়েছে। বড় ঋণ না দিয়েও ব্যাংক টিকে থাকতে পারে, কিন্তু এসএমই ঋণ না পেলে অর্থনীতি টিকে থাকে না; এটাই বড় বৈপরীত্য।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছে ব্যাংক মানে শুধু টাকা নয়; মানে আগামী সপ্তাহের স্টক, কর্মচারীর মজুরি, ঈদের আগে বাড়তি বিক্রি। ব্যাংক যখন নথি-জটিলতায়, অতিরিক্ত সতর্কতায় তাকে ফিরিয়ে দেয়, তখন সে হয় ঋণ নেয় অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে, নয়তো ব্যবসা ছোট করে ফেলে। এতে উৎপাদন ও বেচাকেনার গতি কমে। অর্থনীতি তখন সংখ্যায় নয়, বাজারের হাঁটাচলায় দুর্বল হয়।
এই বছরেই আরেকটি নীরব পরিবর্তন ঘটেছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও পেমেন্টের বিস্তার। ঝড়ের মাঝেও নদীর তলায় যেমন স্রোত বয়ে যায়, ঠিক তেমন। মোবাইল লেনদেন, ডিজিটাল পেমেন্ট, গ্রাহকসেবা; এসবের বিস্তার কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল ব্যবস্থা আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে তখনই, যখন ব্যাংকের মৌলিক শাসন ব্যবস্থা ঠিক থাকে। অ্যাপ সুন্দর হলেই ব্যাংক বিশ্বাসযোগ্য হয় না; বিশ্বাসযোগ্য হয় যখন দরকারে ক্যাশ পাওয়া যায়, সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হয় এবং নিয়ম সবার জন্য সমান হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হলো বৈদেশিক বাণিজ্য। ডলার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও এলসি, আমদানি অর্থায়ন, কাঁচামাল সরবরাহ; এসব জায়গায় সতর্কতার প্রভাব ছিল। ব্যাংকগুলো অতীতের অভিজ্ঞতায় আরও সাবধানী হয়েছে। সতর্কতা দরকার, কিন্তু অতিরিক্ত সতর্কতা অর্থনীতিকে দৌড়াতে দেয় না। শিল্প তখন হাঁটে, দৌড়ায় না।
২০২৫ সালে আশা ছিল ছোট ছোট বাতির মতো: রেমিট্যান্স, ডিজিটাল প্রবাহ, কিছু তদারকি সংস্কারের সূচনা। কিন্তু পথ এখনও দীর্ঘ। কারণ আস্থা ফেরানো মানে শুধু কিছু খাতে গতি আনা নয়; মানে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভেতরের সত্যকে দিনের আলোয় এনে নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
সংস্কারের কঠিন সত্য
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকটকে আমরা প্রায়ই খেলাপি ঋণ বা সুদহারের অঙ্কে বেঁধে ফেলি। কিন্তু ২০২৫ সাল স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে সমস্যার শিকড় সংখ্যায় নয়, শাসন ব্যবস্থায়। নীতি শাসন ও বিচার ব্যবস্থা কার্যকর না হলে ব্যাংকিং সংস্কার কাগজের বাইরে যায় না।
খেলাপি ঋণ আদায়ে আদালত হয়ে উঠেছে দীর্ঘসূত্রতার প্রতীক। মামলা ঝুলে থাকে, আদেশ আসে, কিন্তু ফল আসে না। ব্যাংক তখন আইনের পথ আর সমঝোতার পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে, যেখানে সময়, অর্থ ও নৈতিকতা; সবই ক্ষয় হয়। দেউলিয়াত্ব আইনও বাস্তবে নতুন শুরু নয়; বরং আটকে যাওয়া সম্পদ আর মূল্যহানির নাম। ফলে অচল ব্যবসা কাগজে বেঁচে থাকে, অর্থনীতিতে নয়।
এই জায়গাতেই নীতি শাসনের প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে ওঠে। দায় নির্ধারণ স্পষ্ট না হলে সংস্কার টেকে না। ২০২৫ সালে শোনা গেছে যে কিছু ব্যাংক টিকবে না। কিন্তু কে দায় নেবে, আমানতকারী কতটা সুরক্ষিত থাকবে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া আস্থা ফেরে না।
শেষ পর্যন্ত ব্যাংকিং সংস্কার মানে শুধু ব্যাংক বাঁচানো নয়; মানে নিয়মকে শক্ত করা, আদালতকে কার্যকর করা, আর নীতি শাসনকে বিশ্বাসযোগ্য করা। কারণ ভুলের পরিণতি না থাকলে দায়িত্ব আসে না। আর দায়িত্বশীল ব্যাংকিং ছাড়া কোনো অর্থনীতিই টিকে থাকতে পারে না।
নির্বাচন, স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকের বিশ্বাস-পরীক্ষা
২০২৬ এলো। পূর্বাভাসে কিছু আশার আলো আছে। প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে, মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনাও আছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই আশার পাশে বড় একটি ‘যদি’ রয়ে গেছে; জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগ থমকে যায়, সিদ্ধান্ত পিছিয়ে পড়ে, আর ব্যাংকগুলো আরও রক্ষণশীল হয়। অর্থাৎ ব্যাংকিং খাতের পুনরুদ্ধার কেবল অর্থনৈতিক সংখ্যায় নয়, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার ওপরও নির্ভরশীল। ২০২৬ হতে পারে মেরামত ও পুনরারম্ভের বছর। স্বচ্ছ একিউআর, বাস্তবসম্মত প্রভিশনিং, খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির কার্যকর কাঠামো, সুশাসন ও সম্পর্কিত ঋণ নিয়ন্ত্রণ; এসবই হবে মূল এজেন্ডা। ক্ষতি স্বীকার হলে কিছু ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি স্পষ্ট হবে; তখন নতুন মূলধন, রাষ্ট্রীয় সহায়তা কিংবা একীভূতকরণ; সবই সামনে আসতে পারে। ব্যাংকের ভল্টে টাকা থাকে, কিন্তু ব্যাংকের আসল ভল্ট মানুষের মনে।
২০২৫ দেখিয়েছে যে ভল্টের দরজা যতই শক্ত হোক, আস্থার তালা দুর্বল হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা কাঁপে। আমরা দেখেছি খেলাপি ঋণের পাহাড়, আবার দেখেছি সংস্কারের কিছু সাহসী শুরু। ২০২৬ তাই ব্যাংকিং খাতে পরীক্ষার বছর। আমরা কি সত্যকে খোলা চোখে দেখব? নিয়মকে কার্যকর হতে দেব? আর রাজনীতির ছায়া থেকে ব্যাংকিংকে কিছুটা মুক্ত করতে পারব? এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালে ব্যাংক খাত কেমন করবে।
লেখক : ব্যাংকার, সাহিত্যিক
- বিষয় :
- ব্যাংক
- কালের যাত্রা
