ব্যক্তি
‘যায় মহাকাল মূর্ছা যায় প্রবর্তকের ঘুর্-চাকায়’
মানস চৌধুরী
মানস চৌধুরী
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫৫ | আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ক্যালেন্ডারের বাংলা যে পঞ্জিকা সেটা অন্তত আমার ছোটকালেই শেখানো হয়েছিল। কিন্তু অস্বীকার করব না যে দুইটা বিপত্তি হতোই। একটা হলো কখনো ইংরেজিতে ক্যালেন্ডার লিখতে গিয়ে ইংরেজি বর্ণমালার ‘ই’ দেব নাকি ‘এ’ তা প্রায় প্রতিবারই ডিকশনারি দেখেই ঠিক করতে হতো। এখনও যদি লেখাটা পড়া শেষ না করেই আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন ‘কোনটা বলেন তো!’, আমি গুগল না করে বললে ভুল ক্যালেন্ডার বলে বসতে পারি। হয়তো মাথা চুলকে ভেবেও ঠিক সেই বানানই বলে বসতে পারি যাতে ইস্তিরি হয়ে গেল। আরেকটা বিপত্তি সামাজিক। ক্যালেন্ডারকে যদি সাধারণ আলাপ-আলোচনায় পঞ্জিকা নামে ডেকে কথাবার্তা বলি, তাহলে শ্রোতাদের প্রায় সকলেই মারতে আসবেন। আমার নিজের পক্ষেও দেয়ালে ঝোলানো ছবি-মণ্ডিত ওই বস্তুটাকে পঞ্জিকা বলতে যথেষ্ট মানসিক জোর পাই না। ক্যালেন্ডারই বলা লাগে। এগুলোকেই বোধহয় ব্যঞ্জনা বলে। পঞ্জিকা বলতে আমি অধুনা লুপ্তপ্রায় ওই বইগুলোকেই বুঝি যেখানে তিথিনক্ষত্র মিলিয়ে ঝুলিয়ে নানান ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ক্রিয়াকাণ্ড ব্যাখ্যা করা থাকে। আমার দুইটা ব্র্যান্ডের কথা মনে পড়ে–তারাচাঁদ পঞ্জিকা আর লোকনাথ পঞ্জিকা। এগুলোর পঠন সমুদয় কঠিন। বানানো নিশ্চয়ই আরও কঠিন।
সর্বশেষ যে পঞ্জিকা আমি কিনি, হয়তো সর্বপ্রথমও হতে পারে নিজে ক্রেতা হিসেবে, সেটা সম্ভবত আসাদ গেট বাসস্ট্যান্ডের পত্রিকা কাম বইয়ের খোলা দোকানটা থেকে। তাও বছর দশেক আগে। ওটা ছিল ‘মোহাম্মদী পঞ্জিকা’। শিশুকালে কেউ না বললেও আমার ধারণা ছিল পঞ্জিকা কেবল হিন্দুঘরেই ব্যবহার হয়। পরে জেনেছিলাম মোহাম্মদী পঞ্জিকা বলেও একটা জিনিস আছে। সেটা স্বচক্ষে দেখেছিলাম সম্ভবত প্রথম ওই খোলা দোকানেই। দেখেই কিনেছিলাম বলে মনে পড়ে। এটাতে হিজরী সনেরও সংমিশ্রণ আছে। গ্রহ-তারকা-চন্দ্র-সূর্যের কিছু হিসাব থাকলেও তৎসম-ট্র্যাডিশন গুরুতরভাবে কমিয়ে লেখা। মাথামুণ্ড বুঝবার জন্য যথেষ্ট দক্ষতা আগের মতো এটাতেও খুব কম ছিল আমার। কিনবার সময়ে আমার শাশুড়ির কথাই ভেবেছিলাম। কয়েক মিনিট নিজে ধ্বস্তাধ্বস্তি করে শেষমেশ তাঁকেই অধিক সক্ষম দাবিদার বিবেচনা করে দিয়ে দিই। তারাচাঁদ বা লোকনাথ পঞ্জিকা কিংবা মোহাম্মদী পঞ্জিকা এখনও নিশ্চয়ই উৎপাদন হয়। আমার আশঙ্কা পণ্ডিতকুল কমে গেছেন এবং এগুলো প্রকাশ পেলেও আগের মতো কালের হিসাব নিকাশ করার বদলে পুরান ভার্সনই হয়তো ছেপে থাকেন। আন্দাজ বললাম মাত্র। তবে আসাদ গেটের ওই দোকানটা আর নেই, উন্নয়নের চাপে। এসব ক্যালেন্ডার তথা পঞ্জিকার গালগল্পের সাথে আমার আজকের শিরোনামের কোনো সম্বন্ধ নেই। শিরোনামটা কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকে আচমকাই গ্রহণ করেছি। নিশ্চয়ই তিনি তাতে নারাজ হবেন না।
পরিণত বয়সে আমি প্রায়শই দাবি করি যে ‘ক্যালেন্ডার’ বদলে আমার কিছু যায় আসে না, কিংবা দিবস মেপে আমার কোনো আলাদা উত্তেজনা নেই। এ কথা সর্বৈব সত্য দাবি নয়। কিন্তু সর্বৈব মিথ্যাও নয়। যে অর্থে বলি, সেটা হলো দিবস ধরে উৎসবমুখরতার কোনো জন্ম হয় না আমার মনে। একদমই হয় না। নিছক আরেকটা দিন। নিছক পৃথিবীর আরেকটা মোচড়ানি শেষ। নিছক আরেক সকালে নিত্যদিনের রুটিন আমার। আমার আসলেই আর কিছু লাগে না। লাগতো যে বয়সে সে বয়সে স্বীকার করতেও দ্বিধা করিনি। প্রতিটা বিজয় দিবস, প্রতিটা শহীদ দিবস, প্রতিটা ঈদের দিন, প্রতিটা পহেলা বৈশাখ, প্রতি সপ্তাহ পূজার মৌসুম। উত্তেজনা লাগতো আমার। আর সেই বয়সে সেই উত্তেজনা চেপে রাখবার কোনো কসরৎ কখনো করিনি। কিন্তু আরেকটা কালে এসে উৎসবকে কৃত্যসর্বস্ব লাগে আমার। কৃত্যকে সামাজিক কর্তব্যের বিধিমালা লাগে আমার। বিধিমালাকে শাসনের উপায় লাগে আমার। শাসনকে অমান্য করতে ইচ্ছা লাগে আমার। ফলে আমার এসব বলাবলি অসত্য নয়। আমার অনুভূতিই বটে। এমনও নয় আমি সেধে-সেধে বলতে বসি। বলি ঠিক তখনই যখন আমার উৎসবমুখর আচরণের অভাব কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখান এবং দাবি করেন যে আমার শামিল থাকা দরকার।
আবার আমার এই দাবি সর্বৈব সত্য নয় যে তারও কারণ আছে। আমি ক্যালেন্ডারের পাতা মনের মধ্যে মাপি। বেতনের জন্য মাপি প্রধানত। মুখে বলি বা না বলি কমবেশি ২০ তারিখ ডিঙানোর পর থেকেই প্রতিমাসে আমার মনে চাঞ্চল্য জেগে ওঠে– ‘আসছে, টাকা আসছে’। ইদানীং বেতনের স্লিপ আসে মেইলে চড়ে। অনেক বছর ধরেই। ২২ বা ২৩ তারিখ আসতে আসতেই স্লিপটা মেইলে চলে আসে। কোনো মাসে দেরি হলে ২৫ বা ২৬ পর্যন্ত যায়। তার দুতিন দিন পর আসে মূল বেতন। তখন আর ইমেইল নয়, আসে ফোনের মেসেজ। ব্যাংক থেকে। আমি ইতোমধ্যে টাকার পরিমাণের সাথে যোগ-হওয়া টাকার পরিমাণটা দেখি। যখন আসে তখন একবার দেখি। পরে রাতে অন্য কাজের মধ্যে আবার দেখি। পরদিন দেখি। মনে পড়লে পরের সপ্তাহে আবার দেখি। বারবার ওই বেতনটা দেখে যেন বা আমি পুনঃ পুনঃ সম্পদলাভের উত্তেজনা বোধ করি। যদিও বারবার দেখাতে টাকার পরিমাণ বিশেষ বাড়ে না, আদৌ বাড়ে না, কখনো বরং এই কদিনে কমে। যেহেতু টাকা তোলা হয়, বিবিধ ফিস কর্তন হয়। আবার কখনো বাড়েও। নতুন কোনো পরীক্ষার বিল। কিংবা বাংলাদেশে বিরল পত্রিকার রচনার কোনো বিল। ইদানীং সেসবও ব্যাংকে আসে, যদি আদৌ আসে কখনো। ফলে প্রতি মাসের শেষের দিন দশেক আমার ক্যালেন্ডারবিষয়ক উত্তেজনা রীতিমতো কাজ করে বলেই স্বীকার করা দরকার। তবে বছর বদলের কালে এই উত্তেজনার কোনো হ্রাসবৃদ্ধি নেই।
আরও আছে। ক্রিকেট ক্যালেন্ডার। সাইবারে এসব সুলভ। আমি প্রতি মাসে কতবার যে আগামী মাসের ক্রিকেট ক্যালেন্ডার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি! পড়ি, আবার ভুলে যাই। আবার খুঁজি। আবার পড়ি। কখনো কখনো আগামী দুই মাসের। ছয় মাসের পর্যন্ত পড়ি, মুখস্থ করে ফেলতে চাই। কিন্তু আবার ভুলে যাই। ক্রিকেট ক্যালেন্ডারই সেই হিসেবে আমার বর্ষপঞ্জি সচেতনতার সবচেয়ে বড় এলাকা। সবচেয়ে ভারী এলাকা। ভারী কারণ, ক্রিকেট ক্যালেন্ডার আমার মস্তিষ্কে সার্বভৌম নয়। ক্রিকেট ক্যালেন্ডার অবধারিতভাবে টেলিভিশন সম্প্রচারের সাথে সম্পর্কিত। আমার চাকরির সাথে সম্পর্কিত। লেখক হবার যে বাসনাটা অন্তত কিছুকাল আমি ব্যাকুলভাবে, লোভী হিসেবে লালন করছিলাম, সেসবের সাথে সম্পর্কিত। আপনারা চাইলে বুঝিয়ে বলতে পারি। বুঝিয়ে বলাই কর্তব্য। ধরুন, ক্যালেন্ডারে অস্ট্রেলিয়া আর ইন্ডিয়ার খেলা আছে, আবার জিম্বাবুয়ে আর আয়ারল্যান্ডের খেলা আছে। আপনারা যদি আমাকে নিরপেক্ষ মানুষও ভাবেন, তাও আমার স্বীকার করা উচিত যে আমি প্রথম খেলাটিকে অধিক গুরুত্ব দেব। এবং দেখতে বসব। ফলে প্রথম খেলা না থাকলেই কেবল আমি দ্বিতীয় খেলাতে উৎসাহী হব। এভাবে না-পেতে থাকলে আমি টিভিতে মালয়েশিয়া আর মাদাগাস্কারের ক্রিকেট খেলা দেখতেও রাজি আছি। কিন্তু আমি থাকলে তো চলবে না, টিভিতে সেই খেলারও ক্যালেন্ডার থাকা লাগবে। থাকে না। টিভিতে কিছুতেই মালয়েশিয়া আর মাদাগাস্কার কিংবা রোমানিয়া আর রোয়ান্ডার খেলা দেখাবে না (জ্বি! এখন সকলেরই ক্রিকেট খেলা হয়)। একে তো স্পোর্টসের সব চ্যানেল দেখায় না। কী করা! অগত্যা আমি সেটবক্স নামক একটা বস্তু কিনলাম। যাতে বেশি বেশি চ্যানেল গিজগিজ করে। তা করলও বটে। কিন্তু প্রায় দিনই ওসব চ্যানেলে গোলমাল চলে। আসে না কিছু। ফোন দিতে হয়। মেলা ঝামেলা। তাছাড়া সকল চ্যানেল চালু থাকলেও আমার আশা করা চলে না যে ইতালি আর ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার ক্রিকেটটাও তারা দেখাবে। তাছাড়া আমিও তো আসলে ওগুলো দেখতে চাই না। আমার অধিক আগ্রহের দলগুলোর খেলা না থাকলেই কেবল চাই। এখন ৩৬৫ দিনই কোথাও না কোথাও ক্রিকেট চলেই। একটা না থাকলে আরেকটা। টিভিতে না পেলে সাইবারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে খুঁজি। তারপর চলমান দৃশ্য না পেলে স্কোর নিয়ে বসি, মনে কিছু ব্যথাসমেত। চাকরির বিষয়টা আছে এই অর্থে যে, এখনও চাকরি কামাই করে এসব করতে শেখা হয়ে ওঠেনি। ফলে চাকরি থাকলে অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজও আমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আর চাকরি না থাকলে আমি নিজেই কাতার আর কলম্বিয়ার খেলাও খুঁজতে বসি। এ এক ঠাসা উত্তেজনার ক্যালেন্ডার আমার। আর এসব করতে গিয়ে অবধারিতভাবে আমার লেখক-হবার-চর্চাকাল জলাঞ্জলি দিই।
কিন্তু অস্বীকার করব না যে আমি বুঝি, সম্পাদকীয় দপ্তর আমার এসব ভাবনা জানতে লেখা চান নাই। তাতে কী! লেখকের সার্বভৌমত্ব থাকবে না? সম্পাদকীয় দপ্তরের ভাবনাটা হয়তো ‘দেশ আগামী বছর কেমন যাবে’ ধরনের। কই আবার যাবে! তাছাড়া দেশ কি আর ক্যালেন্ডার নিয়ে ভাবে! দেশ একটা অ-মানুষ, জড়। যদি মানুষও হতো তাতেও ক্যালেন্ডার নিয়ে দেশের নির্লিপ্তির সম্ভাবনাই আমি বেশি দেখি। দেশের যতটুকু ক্যালেন্ডার-চৈতন্য তা বড়জোর বাজেট আর সংসদ নিয়ে। বাজেটটা বাৎসরিক, সংসদটা পঞ্চ-বার্ষিক। বাংলাদেশে এমনকি সংসদের পঞ্চবর্ষের হিসেবটাও দেশের জন্য অতটা কনভিন্সিং না, যদি দেশ মানুষ হতো। যেকোনো সময়ে ভেদরে যেতে পারে, তেবড়ে যেতে পারে, আবার লম্বে যেতে পারে। বাজেটের ব্যাপারে দেশের বেশি আগ্রহ, নাকি এর প্রকল্পবাজদের নিয়ে, সেটাও আমাদের অত নিশ্চিত হওয়া চলে না। আবার প্রকল্পের মধ্যে সিভিল প্রকল্প কোনগুলো, মিলিটারি প্রকল্প কোনগুলো এসব জটিল হিসেব আছে। তাছাড়া সিভিল প্রকল্প মানেই সিভিল ঠিকাদার তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। অত্যন্ত জটিল সব হিসেব-নিকেশ। এত হিসেব রেখে দেশমাতৃকার মাথায় নতুন ক্যালেন্ডার যে অত আনন্দের বিষয়বস্তু হবে তা আমার মনে হয় না। সারাংশে, নতুন বছরে আমার জীবনে বা দেশের জীবনে নতুন কিছুই না। নতুন বলতে, কদিন সই করার সময় ভুলে ২০২৫ লেখার সম্ভাবনা থাকবে। তখন কেউ হারেরেরে করে মানা করবেন। তারপর ঠিক করে নেব। মোটামুটি এরকমই হবার কথা। পরে ঠিকঠাক সই করতে পারব বলেই আমার ধারণা।
তবে নতুন বছরে দেশে একটা সংসদ নির্বাচন হবে বলে সকলে বলছেন। আমারও এমত বিশ্বাস জন্মেছে যে সেটা হবে। কিন্তু আমি যে ভোট দিতে যাই না, সেই চর্চার বদল হবে কিনা এ ব্যাপারে আগাম আমি কিছুই জানাতে পারছি না। ভোটের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আগ্রহ বা নিরাসক্তি হলেই কেবল আপনাদের জানাতে পারব। এতক্ষণে মনে হচ্ছে, সম্পাদক ডেস্ক হয়তো চেয়েছিলেন যে রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে কিছু লিখি এই রচনায়। মানে ‘জাতীয়’ রাজনৈতিক বিষয়াদি। কী জ্বালা! এ কথা তো আগে মনে হয়নি। আর আমি অত্যন্ত বিজাতীয় প্রসঙ্গাদির অবতারণা ঘটালাম। এই শেষ সময়ে রাজনৈতিক বিষয়ে আর কীইবা বলতে পারি!
‘‘এক দেশে এক রাজা ছিল। না, ছিলেন। তাঁর ছিল গাদাগাদা মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পাতিমন্ত্রী ও হবুমন্ত্রী। তিনি প্রাতঃভ্রমণ ও সান্ধ্যভ্রমণ করতেন। আর কথা বললেই সব আউলে ফেলতেন। বেশি আউলে যেতো হু ইজ হোয়াট। যেমন তিনি হাঁটতে বেরোলে যদি পলায়নপর বিড়াল দেখতেন, হয়তো বলে বসতেন ‘কী সুন্দর বাঘ!’ এতে চাটুকার পারিষদ ‘জ্বি হুজুর’ বললেও, জ্ঞানলোভী পারিষদবৃন্দ পরের সপ্তাহেই ‘ব্যাঘ্র আর মার্জার পৃথকীকরণ’ সেমিনার আয়োজন করে বসতেন। রাজার এতে খুবই অসুবিধা হতো। ফলে তিনি এরপর ভোটাভুটির ব্যবস্থা চালু করলেন। যে সন্ধ্যায় বা সকালে ভ্রমণকালে তিনি বিড়াল, বা ছাগল, বা ইঁদুর, কিংবা হয়তো মানুষ দেখতেন, সেদিনই পরিষদে এসে ভোটাভুটি করতে বসতেন যে কী দেখেছেন। গাদাগাদা মন্ত্রিকুল এই ব্যবস্থায় নিজেরা আগেই শলাপরামর্শ করে নিতেন। ফলে ভোটাভুটিতে কখনো বিড়াল হতো বাঘ, ছাগল হতো ইঁদুর। কিংবা মানুষ হতো ছাগল। এরকম। রাজা সেই ভোটাভুটি অনুসারে পরের দিন রাজ্য পরিচালনা করতে শুরু করতেন। আর মানুষেরা মুহুর্মুহু মূর্ছা যেতেন এই বন্দোবস্তে।’’
লেখক : শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক
- বিষয় :
- গল্প
- কালের যাত্রা
