কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় পারিবারিক শিক্ষা
আরশী আক্তার সানী
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। একজন কন্যাশিশু যদি একটু আত্মবিশ্বাসী হয়, হাসিখুশি থাকে, তখন অনেকে বলে, এই মেয়েটা বেশি ফ্রি। আবার কেউ একটু সাহস করে কথা বললে সমাজ তাকে ‘অশালীন’ ট্যাগ দেয়। এই মানসিকতা আসলে কন্যাশিশুদের প্রতি অসম্মানের নামান্তর।
আমরা মেয়েদের শেখাই কীভাবে পোশাক পরতে হবে, কথা বলতে হবে, কখন বাইরে যেতে হবে। কিন্তু ছেলেদের শেখাই না– কীভাবে নারীকে সম্মান করতে হয়। এই জায়গাতেই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে যায়।
আমাদের দেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বা হয়রানির বিরুদ্ধে অনেক আইন আছে।
প্রশ্ন হলো, সেগুলো কতটা কার্যকর? যখন কোনো ঘটনা ঘটে, তখন আমরা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ করি, নিউজে দেখি। কিছুদিন পর সবাই ভুলে যাই। অপরাধীরা অনেক সময় শাস্তি পায় না বা বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় খুব ধীরে। ফলে অন্যরা ভয় না পেয়ে বরং আশকারা পেয়ে যায়। নারীর নিরাপত্তা কেবল আইন দিয়ে হবে না। এ জন্য দরকার সামাজিক পরিবর্তন। মানুষের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যবহার– সবকিছু বদলাতে হবে।
অনলাইনে মেয়েদের হয়রানি এক ভয়াবহ সমস্যা। একজন মেয়ে নিজের ছবি পোস্ট করলেই অনেকে তার ওপর মন্তব্য ও বিচার করে, অপমান করে। এমনকি কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকে ‘অতিরিক্ত সংবেদনশীল’ বলা হয়। এ সবই নারীর মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়। ফলে মেয়েরা ধীরে ধীরে নিজেদের প্রকাশ করতে ভয় পায়। মতামত দিতে দ্বিধা করে। এভাবেই সমাজ তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেয়।
কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনা শুরু হয় পরিবার থেকেই। একজন ছেলে ছোটবেলা থেকেই যদি শেখে ‘মেয়েরা দুর্বল নয়, সমান’, তাহলে সে বড় হয়ে কখনও কাউকে অসম্মান করবে না। একজন বাবা যদি তার ছেলেকে শেখান, ‘তোমার মা, বোন, সহপাঠিনী– সবাই তোমার সমান’, তাহলে সেই ছেলের চোখে নারী মানে শুধু সম্পর্ক নয়, সম্মানের প্রতীক হবে। আমরা স্কুলে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান শেখাই, কিন্তু নৈতিক শিক্ষা দিতে ভুলে যাই। এই জায়গাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন শিক্ষিত মানুষ মানেই সব সময় সচেতন মানুষ নয়। অনেক সময় উচ্চশিক্ষিত হয়েও কেউ নারীর প্রতি অবমাননাকর আচরণ করে। তাই মানবিক শিক্ষার চর্চা সবচেয়ে জরুরি।
আরশী আক্তার সানী: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- বিষয় :
- কন্যাশিশু
