ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন

বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন
×

ছাদিয়া আফরিন স্বর্ণা

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বেকারত্বের প্রথম কারণ হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য। প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের যে জ্ঞান ও দক্ষতা শেখানো হয়, তা আধুনিক শিল্প এবং বাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে সংগতিপূর্ণ নয়। এর ফলে ডিগ্রিধারী তরুণরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক জ্ঞান বা প্রযুক্তিগত দক্ষতা থেকে বঞ্চিত হন। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত পোশাকশিল্প ও কৃষিনির্ভর। নতুন নতুন শিল্প যেমন প্রযুক্তি, ফিনটেক বা সবুজ শক্তি খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ না থাকায় এখানে নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবও বড় বাধা। এ খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল সম্ভাবনা রাখে কিন্তু প্রয়োজনীয় ঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নীতিগত সমর্থন না পাওয়ায় তারা পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারছে না।
প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। সে তুলনায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। এর ফলে চাকরির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা হয়, যা অনেক সময় যোগ্য প্রার্থীদেরও হতাশ করে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক কম। এ কারণে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসনের হার বাড়ছে, যা শহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি এবং শ্রমবাজারে অসমতা তৈরি করছে।
এই সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো জরুরি। কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা অর্জন করতে পারে, সে রকম শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ এবং ব্যবহারিক প্রকল্পের সুযোগ বাড়ানো উচিত।
সরকারি-বেসরকারি খাতকে নতুন নতুন সম্ভাবনাময় শিল্পে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। তরুণদের মধ্যে চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরি করতে হবে। সরকারের উচিত সহজ শর্তে ঋণ, মেন্টরশিপ এবং বাজারের তথ্য দিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে শক্তিশালী করা গেলে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম উৎস হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও স্কিমের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান করা যেতে পারে। এ ছাড়া চাকরির বাজারে প্রবেশে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যকোষ তৈরি করা গেলে চাকরিপ্রার্থী এবং নিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কুটির শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং শহরমুখী অভিবাসন কমবে।

ছাদিয়া আফরিন স্বর্ণা: শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ

 

আরও পড়ুন

×