তাড়াইলে প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলা
শেখ সুলতানা মীম
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলায় অসংখ্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশেই নেই পর্যাপ্ত শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংকটে গ্রামের বিদ্যালয়ে আজ হাহাকার। শিক্ষাব্যবস্থার দিক থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চরম ঘাটতি। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবহেলা, শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা সব মিলিয়ে দিন দিন শিক্ষার মানের ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর থেকেই ঝরে পড়ছে।
গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানের মান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে।
অনেক শিক্ষকের নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, পাঠদানের প্রতি অনাগ্রহ এবং দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পাঠ গ্রহণ করতে পারছে না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি, পড়াশোনার প্রতি অনীহা এবং প্রযুক্তি ও বিনোদনের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ শিক্ষার পরিবেশকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
অভিভাবকদের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার অভাবও একটি বড় সমস্যা। অনেক অভিভাবক মনে করেন, সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানোই যথেষ্ট। কিন্তু তাদের পড়াশোনার অগ্রগতি বা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে তারা তেমন খোঁজ রাখেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে এবং অল্প বয়সেই বিদ্যালয় থেকে ঝরে যায়।
বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। অনেক বিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নেই সঠিক আসবাব, এমনকি নেই পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী। গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক সুবিধারও অভাব রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং তারা বিদ্যালয়ে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলেও অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, কিন্তু সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষার অভাবে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।
শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়ন, অভিভাবকদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা দরকার।
শেখ সুলতানা মীম: শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ
sheikhsultanameem@gmail
- বিষয় :
- প্রাথমিক শিক্ষা
